১০ জনের কলম্বিয়াকে হারিয়ে জাপানের শুভ সূচনা

১০ জনের কলম্বিয়াকে হারিয়ে জাপানের শুভ সূচনা

এবারের বিশ্বকাপে চমক যেন থামছেই না। বড় দলগুলোর একের পর এক হোচট খাওয়ার মাঝেই এবার হোচট খেল কলম্বিয়া। ফুটবল বিশ্বের অন্যতম পরাশক্তি কলম্বিয়াকে ২-১ গোলে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপে চমক উপহার দিল এশিয়ার দেশ জাপান।

আগের পাঁচ বিশ্বকাপের মধ্যে ২০১০ সালে কেবল জাপান নিজেদের প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে শুরু করতে পেরেছিল। সেটি ছিল ক্যামেরুনের বিপক্ষে।

পেশির ইনজুরিতে থাকায় কলম্বিয়ার রদ্রিগেজ এদিন শুরুতে বেঞ্চে থাকেন। তিনি বদলি হিসেবে মাঠে নামেন ৫৯তম মিনিটে। দুই দলই ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলতে নামে।

জাপানের বিপক্ষে আগের তিন ম্যাচে অপরাজিত ছিল কলম্বিয়া। জয় আছে দুটিতে। দুই দলের সর্বশেষ দেখা হয় ২০১৪ বিশ্বকাপে। সেই ম্যাচে ৪-১ গোলে জয় পায় কলম্বিয়া।

সারানস্ক স্টেডিয়ামে তৃতীয় মিনিটে বক্সের ভেতর ‘ইচ্ছাকৃত’ হাত দিয়ে বল ঠেকিয়ে সরাসরি লালকার্ড দেখেন কার্লোস সানচেজ। স্পটকিক নিতে আসেন শিনজি কাগওয়া। মাথা ঠাণ্ডা রেখে একদম শেষ মুহূর্তে বল সোজা মারেন। গোলরক্ষক তার আগে নিজের ডানদিকে ডাইভ দেন।

লালকার্ড দেখে একজন বের হয়ে যাওয়ায় কলম্বিয়া ৪-৪-১ ফর্মেশনে চলে আসে। দশজনে পরিণত হওয়া কলম্বিয়া তবু ছাড় দেয়নি। প্রথমার্ধে ৪৯ শতাংশ সময় তারা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে বল রাখে।

১২তম মিনিটে কলম্বিয়া বক্সের বাইরে ফ্রি-কিক পায়। ফ্যালকাও চেষ্টা করেছিলেন বল গোলে পাঠাতে। কিন্তু সরাসরি সেটি চলে যায় জাপান গোলরক্ষক এইজি কাওয়াশিমার বুকে।

১৫ মিনিটের সময় জাপানের একটি সুযোগ নষ্ট হয়। কলম্বিয়ার ডিফেন্স ভেঙে বক্সের ভেতর ঢুকে পড়েন তাকাশি ইনুই। দূরের পোস্টে পুশ করতে গিয়ে বাইরে মারেন।

৩২তম মিনিটে ফরোয়ার্ড ইউয়া ওসাকো বল নিয়ে ডিফেন্সে এসে ভালো ফাঁকা জায়গা পেয়ে যান। কিন্তু লক্ষ্যে স্থির থাকতে পারেননি। বাইরে মারেন।

৩৫মিনিটের সময় কলম্বিয়ার একটি সুযোগ মাটি হয়। বক্সের বাইরে থেকে উড়ে আসা ক্রসে যেতে সেকেন্ড পরিমাণ সময় দেরি করে ফেলেন অধিনায়ক ফ্যালকাও। শেষ মুহূর্তে উড়ন্ত বলে পাও দেন। কিন্তু ভালো টাচ পাননি। বল সরাসরি চলে যায় জাপান গোলরক্ষকের বুকে।

৩৯তম মিনিটে হুয়ান কুইনটেরোর দক্ষতায় সমতায় ফেরে কলম্বিয়া। বক্সের খানিক বাইরে থেকে ফ্রি-কিক নেন তিনি। কিক নেয়ার সময় জাপানের মানবদেয়ালে দাঁড়ানো খেলোয়াড়রা লাফিয়ে ওঠেন। কুইনটেরো বল মারেন মাটি ঘেঁষে। শটে বেশ জোর ছিল। বল চলে যায় ডানপোস্টে। জাপান গোলরক্ষক নিজের বাঁদিকে ডাইভ দিয়ে বল ধরেন বটে, তবে দেরি করে ফেলেন। তিনি দাবি করছিলেন, বল গোললাইন অতিক্রম করেনি। কিন্তু রিপ্লেতে স্পষ্ট দেখা যায় ভেতর থেকে বল টেনে এনেছেন তিনি।

সমতায় প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার পর দ্বিতীয়ার্ধে জাপান বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে। ৭০ মিনিটের পর বেশ কয়েকটি সুযোগ সৃষ্টি করে দলটি। সাফল্য আসে ৭৩তম মিনিটে। ব্যবধান ২-১ করেন ইউয়া ওসাকো। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে ভিড়ের ভেতর দাঁড়িয়ে হেড করে জাল খুঁজে নেন তিনি।

জাপানের থেকে কলম্বিয়া শক্তিশালী দল হলেও তাদের সাম্প্রতিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। বিশ্বকাপের আগে শেষ ৯ ম্যাচের দুটিতে জয় পায় তারা। হার দুটি, ড্র ৫টিতে।

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট