৩০ দিনের মধ্যে এডহক কমিটি গঠন করে নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ

৩০ দিনের মধ্যে এডহক কমিটি গঠন করে নির্বাচন দেয়ার নির্দেশ

দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদকে দায়িত্ব দিতে ৩০ দিনের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি করে নির্বাচন করার নির্দেশ এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। স্কুল-কলেজের পরিচালনা পর্ষদে স্থানীয় এমপির সভাপতি পদে মনোনীত হওয়ার বিধান বাতিল করে হাই কোর্টের দেওয়া রায়ে এসেছে নির্দেশনা।

এক রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে দেওয়া রুলের শুনানি করে বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি এ কে এম জহিরুল হকের হাই কোর্ট বেঞ্চ গত ৮ জুন এই রায় দেয়, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি রোববার প্রকাশিত হয়। আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী ইউনুছ আলী আকন্দ জানিয়েছেন, তিনি ওই রায়ের অনুলিপি হাতে পেয়েছেন।

রায়ের আদেশ অংশে হাই কোর্ট ১২ দফা নির্দেশনা ও পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বলেও জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে-

  • দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্যদে সংসদ সদস্যদের সভাপতি পদ বাতিল।
  • দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের বিশেষ কমিটি বাতিল।
  • আইন থেকে বিশেষ কমিটি গঠনের ৫০ ধারা বাতিল।
  • সংশ্লিষ্ট সব আইন ৬০ দিনের মধ্যে সংশোধন করতে বলা হয়েছে শিক্ষা সচিব, আইন সচিব ও ঢাকা বোর্ডেকে।
  • সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৩০ দিনের মধ্যে অ্যাডহক কমিটি করে নির্বাচন করতে হবে।
  • নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ঠিক করার বিধান তৈরি করতে হবে।

রায়ের কপি প্রাপ্তির সাতদিনের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আইনসচিব, শিক্ষাসচিব ও ঢাকা বোর্ডকে নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

গত ১ জুন বিচারপতি জিনাত আরা ও বিচারপতি একেএম জহিরুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করে। ঘোষণার দুই মাস পর পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ হলো। রায়ে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্বাচনের মাধ্যমে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান নিয়োগের প্রবিশন তৈরি করার জন্য শিক্ষা সচিবকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বেসরকারি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গভর্ণিং বডি ও ম্যানেজিং কমিটি প্রবিধানমালা-২০০৯  এর এই দুটি ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেছিলেন আইনজীবী ইউনূস আলী আকন্দ।

আবেদনে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক অধ্যাদেশ, ১৯৬১ এর ৩৯(২) ধারায় আইন তৈরী করার ক্ষমতা বোর্ডকে প্রদান করা হয়েছে। তবে কি ধরনের আইন তৈরি করতে হবে তা ওই ধারায় ৬ষ্ঠ দফায় উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু এই দফায় বিশেষ কমিটি বা সংসদ সদস্যরা গভর্ণিং বডির চেয়ারম্যান হবেন এরূপ কোন ক্ষমতা বোর্ডকে দেয়া হয়নি। ফলে প্রবিধানমালার ৫ ও ৫০ ধারা উক্ত অধ্যাদেশের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এছাড়া এসব ধারা সংবিধানের প্রস্তাবনা ও ৭, ২৬, ২৭, ২৮, ৩১, ৫৯, ৬০ ও ৬৫ অনুচ্ছেদের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। এই আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট গত ১৩ এপিল রুল জারি করে। রুলে ৫ ও ৫০ ধারা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চাওয়া হয়। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে এমপিদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্র-বিধানমালার ৫(২) ধারা অবৈধ ঘোষণা করে।

আবেদনের পক্ষে আবেদনকারী নিজেই এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইশরাত জাহান শুনানি করেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক