হিন্দির আগ্রাসন

হিন্দির আগ্রাসন

হিন্দি আমি বুঝি, মুখ দিয়ে না বললেও জানি যে বলতে পারব। তবে লিখতে বা পড়তে পারি না। এই ভাষা কেউ আমাকে শিখতে বলেনাই, কেউ শিখায় নাই, ইংরেজী ভাষা আমি কষ্ট করে শিখেছি, কিন্তু হিন্দি কিভাবে জানি এমনি এমনিই চলে আসছে। বিষয়টা লজ্জার কিনা জানি না, কিন্তু সত্যি থেকে তো লুকানোর উপায় নাই।

আসলে হিন্দি এমনি এমনি আসেনাই, যেভাবে আসছে সেটা সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, খুব সূক্ষ ভাবে ইন্ডিয়া যেটা করেছে। ভারত কিন্তু কখনো আমাদের বলেনাই হিন্দি ভাষা শিখতে, আমরা তাদের সিনেমার ভক্ত হয়েছি, তাদের সিরিয়ালের ভক্ত হয়েছি, সেগুলা যে মানেরই হোক আমাদের ব্রেনে বা মনে কিন্তু ঢুকেছে, একজনের ভিতর ঢুকেছে, ক্যান্সার হয়ে ছড়িয়ে গেছে। সবকিছু আসলে জোর করে হয় না, কারণ যে মুহুর্তে আমি জানলাম আমার বাংলা ভাষার জন্য আমার পূর্বপুরুষ প্রাণ দিয়েছে, শ্রদ্ধায় মাথানত করেছি, কিন্তু লজ্জার হিন্দিও কোন না কোনদিক দিয়ে ঢুকে গেছে। শরীরে রোগবালাই ঢুকবে কেউ চায় না, কিন্তু ঢুকে যায়, সেভাবেই ঢুকেছে।

একসময় ক্রিকেটে বাংলাদেশের মানুষ ভারত পাকিস্তান ভাগ হয়ে সমর্থন করত। এই জিনিসটা এখন নাই, কারণ ক্রিকেটে আমাদের উন্নতি এবং আমরা বিশ্বাস করতে শুরু করেছি আমরা তাদের পর্যায়ে চলে যাব। এখনকার জেনারেশন কিন্তু কেউই ভারত বা পাকিস্তানের সমর্থক না। বিষয়টার জন্য যে জোর করা লেগেছে তা না, পারফর্মেন্সের কারণে অটোমেটিক হয়েছে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরাজিত শক্তি জাপানীরা ঠিক করল পরের জেনারেশনকে তারা বুদ্ধিমান বানাবে, তারা ডে-কেয়ারে একই ভাবে শিশুদের বড় করা শুরু করল, তাদের খাবারে লবণ কম দেওয়া শুরু করল, এবং পরবর্তীতে অত্যন্ত ভদ্র, বিনয়ী, কর্মঠ জাতি পেয়ে গেল (আরও কিছু বিষয় আছে)।

হিন্দির আগ্রাসন কমাতে হলে সবার আগে বিনোদন জগতটাকে ঠিক করতে হবে, এবং সেটা জোর করে না, বুদ্ধি খাটিয়ে। বিশ্বায়নের যুগ যেহেতু কাজেই অন্যের সাথে প্রতিযোগীতা থাকবেই। কিন্তু আমরা কি করি, মুখে মুখে হিন্দি সিনেমা বর্জন করার কথা বলি কিন্তু নিজেরা বলিউডের মুভির বাজে কপি বানাই। কোরিয়াতে হলিউড আর নিজেদের সিনেমা চলে, তারা নিজেদের সিনেমা আগে দেখে, কারণ হলিউডেরটা তারা কপি করে না, ওদেরটা হলিউড কপি করে।

হুমায়ূন আহমেদের বহুব্রীহি আর কোথাও কেউ নেই এখনও আমি দেখি। এটা দেখতে কেউ আমাকে বলে না এবং এর কাছে কোন হিন্দি সিরিয়াল আমার কাছে পাত্তা পায় না। কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে যে আমরা মনে হয় কোন এক জায়গায় থেমে আছি। মেধা একটা চর্চার বিষয়, সৃজনশীলতাও একটা অভ্যাসের ব্যাপার, আমরা যদি হিন্দি সিনেমার কাহিনীই কপি করার জন্য সবসময় ব্যস্ত থাকি তাহলে কোথায় আমাদের কাহিনী আসবে? কিসের চর্চা হবে, হিন্দির আগ্রাসনও বা কিভাবে আটকাবেন?

সম্পর্কিত সংবাদ
রাসয়াত রহমান জিকো