বার্সেলোনার কোচ হবো স্বপ্নেও ভাবেনি: সেতিয়েন

বার্সেলোনার কোচ হবো স্বপ্নেও ভাবেনি: সেতিয়েন

এক সপ্তাহ আগেও হয়তো কিকে সেতিয়েন জানতেন না বার্সেলোনার নতুন কোচ হচ্ছেন। কিন্তু মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোরে তিনিই কাতালানদের হেড কোচের চেয়ারে বসেছেন। পরে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব নিয়ে স্পেনের সাবেক ফুটবলার ও রিয়াল বেটিসের সাবেক কোচ বলেছেন, ন্যু-ক্যাম্পের ক্লাবটির কোচ হবো স্বপ্নেও ভাবেনি।

২০২২ সালের জুন পর্যন্ত মেসি-সুয়ারেজদের কোচিং করাবেন সেতিয়েন। বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন কোচকে সবার সামনে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে বার্সেলোনা। পরে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গী কথা বলেছেন ৬১ বছর বয়সী এ স্প্যানিশ কোচ।

গত মে মাসের পর থেকে সেতিয়েন ছিলেন এক অর্থে বেকার। প্রায় ৮ মাস পর হুট করে বার্সেলোনার মতো বড় ক্লাবের দায়িত্ব পেয়ে রোমাঞ্চিত তিনি, ‘ক্লাবকে ধন্যবাদ। আমি দূরতম কল্পনাতেও ভাবতে পারিনি যে এখানে (বার্সেলোনা) আসবো। আজ (মঙ্গলবার) আমার জন্য একটি বিশেষ দিন, আমি কৃতজ্ঞ। এই প্রকল্প এবং চ্যালেঞ্জ নিয়ে আমি রোমাঞ্চিত। গতকাল আমি নিজের শহরে ছিলাম আর আজ বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়দের কোচিং করাচ্ছি!’

বিশ্বের নামি-দামী কোচদের মতো অতটা সুনাম নেই সেতিয়েনের। তাই তিনি আশা করেননি বার্সেলোনার মতো এ বড় ক্লাবের দায়িত্ব পাবেন। তবে যখন প্রস্তাব পেয়েছেন, তখন পাঁচ মিনিটও ভাবেননি এ কোচ। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমার এটা গ্রহণ করতে পাঁচ মিনিটের বেশি লাগেনি। তাদের কল আমার কাছে বিস্ময় হয়েই এসেছিল। আমার অনেক বড় প্রোফাইল নেই, তাই কখনও ভাবিনি বার্সেলোনা আমার ব্যাপারে আগ্রহী হবে।’

সেতিয়েনের কাছে ফলাফলের চেয়ে মাঠে ভালো খেলাটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ দর্শনকে সামনে রেখেই বার্সেলোনা ভালো খেলবে বলে নিশ্চয়তা দেন তিনি, ‘আমার যেটা আছে, সেটা দর্শন, যেটা আমি ভালোবাসি। আমি নিশ্চিত ছিলাম না, এটা যথেষ্ট কি না, কিন্তু আমি কৃতজ্ঞ। যখন আমি কোনো দলে যাই, একটা ব্যাপারে আমি নিশ্চয়তা দিতে পারি, দল ভালো খেলবে। আমি জানি না, আমার পথই সেরা কি না। তবে এটাই আমার পথ। আমি বিশ্বাস করি, আমি যে পরিকল্পনা পছন্দ করি, সেটা ওদের কাছে নিয়ে যেতে পারব এবং সব কিছুরই উন্নতি করা সম্ভব। অবশ্যই মূল লক্ষ্য হবে যত সম্ভব সব জেতা।’

বার্সেলোনার দায়িত্ব নিয়ে শুরু থেকেই নিজের দর্শনের প্রতি জোর দিয়ে তিনি সেতিয়েন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হচ্ছে দর্শন। আমাদের পদ্ধতিতে আমরা কিছু ব্যাপার হয়তো পরিবর্তন করব। আমাদের খেলোয়াড়দের মূল্যায়ন করতে হবে এবং ওদের সঙ্গে কথা বলতে হবে। কিন্তু দর্শনের কোনো পরিবর্তন হবে না। এই ক্লাব চায়, প্রতি বছর উন্নতি করতে, যত বেশি সম্ভব শিরোপা জিততে এবং একই সঙ্গে ভালো খেলতে। বাস্তবতা হচ্ছে, যতক্ষণ না নতুন ক্লাবের ভেতরে যাওয়া যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এর সব কিছু জানা সম্ভব নয়, সব কিছুই নতুন।’

পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও নিজেদের অবস্থান থেকে সেরাটা দেয়ার মানসিকতাই দলকে সাফল্যে এনে দিতে পারবে বলে মনে করেন সেতিয়েন, ‘এই দল, এই খেলোয়াড়দের খেলা দেখাটা আমি অনেক বছর ধরে উপভোগ করছি। বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়কে অনুশীলন করানো- আমি এখনও পুরোপুরি বুঝে উঠতে পারিনি এর অর্থটা কী। আমি তার এবং অন্যদের সঙ্গে কথা বলেছি। একটা ব্যাপার হচ্ছে শ্রদ্ধা, আরেকটা হচ্ছে সবাই নিজের জায়গায় থাকবে।’

*রাজনৈতিক, ধর্মবিদ্বেষী ও খারাপ কমেন্ট করা থেকে বিরত থাকুন*
সম্পর্কিত সংবাদ
Leave a reply
ডেস্ক রিপোর্ট