একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ল

একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়িয়েছে সরকার। এজন্য পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক আইন-২০১৪ সংশোধন করা হয়েছে। আইনটি সংশোধনের মাধ্যমে ব্যাংকের সঙ্গে প্রকল্পটির কার্যক্রমও চলমান থাকবে। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে ‘পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০১৬’ এর খসড়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। সংশোধনীতে সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পের মেয়াদ আরো ১ বছর বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। চলতি বছর ৩০ জুন এই প্রকল্পের মেয়াদ শেষে প্রকল্পটি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অধিভুক্ত হওয়ার কথা ছিল। নতুন করে সংশোধনীর ফলে, এখন সরকার যথন নির্ধারণ করবেন, তখনই প্রকল্পটি ব্যাংকের আওতায় চলে আসবে।

বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম বলেন, সরকারের একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প এবং পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। প্রকল্পের থেকেই ২০১৪ সালে পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে সরকার। ব্যাংকের অধ্যাদেশে বলা ছিল যে, একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্পটি ২০১৬ সালের ৩০ জুন থেকে এই ব্যাংকের অধিভুক্ত হবে। কিন্তু সে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি, তাই সময়ের বাধা উঠিয়ে ফেলা হয়েছে। সরকার কর্তৃক নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের অধিভুক্ত হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

মূলত পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক ও একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প একই সঙ্গে চালিয়ে নেয়ার জন্যই আইনটি পরিবর্তনের প্রয়োজন হয়েছে। যেহেতু বর্তমানে সংসদ অধিবেশন নেই, তাই এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে।

প্রসঙ্গত, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন সরকার ১৯৯৬ সালে একটি বাড়ি একটি খামার প্রকল্প শুরু হয়। পরবর্তীতে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় এসে তা বন্ধ করে দেয়। আওয়ামী লীগের অাবার ক্ষমতায় আসলে ২০০৯ সালে আবার চালু হয় এ প্রকল্প।

২০১৪ সালের ৩১ আগস্ট পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়। সারা দেশের ৬৪টি জেলার ৪০ হাজার ৫২৭টি গ্রামে এই প্রকল্পের কার্যক্রম চলছে।

রাসায়নিক সারের বদলে জৈব সারের ব্যবহার বাড়াতে জাতীয় জৈব কৃষি নীতি ২০১৬-এর খসড়ার অনুমোদনও দেয়া হয় মন্ত্রিসভায়। ২০১৩ সালের কৃষি নীতির আদলেই  জৈব কৃষি নীতি করা হয়েছে।

এছাড়া ‘জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড আইন-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন দেওয়া হয়। এত দিন সামরিক সরকারের আমলের একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই বোর্ড পরিচালিত হয়ে আসছিল। এখন এটিকে বাংলা ভাষায় আইন করা হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক