মুম্বাই ফেস্টে আমির, ক্যাটরিনা, অনুরাগ কাশ্যপদের সঙ্গে এক সপ্তাহ!

মুম্বাই ফেস্টে আমির, ক্যাটরিনা, অনুরাগ কাশ্যপদের সঙ্গে এক সপ্তাহ!

গত জুন থেকে মুম্বাই থাকা হচ্ছে আমার। এসেছি  সিনেমাটোগ্রাফির উপর পড়াশোনা করতে। মুম্বাইয়ে আসার পেছনে আরো কিছু কারণও অবশ্য ছিলো। তার একটি হলো পরিপূর্ণ একটি সিনেমার পরিবেশ এর সাথে পরিচিত হওয়া। তাই এধরণের যে কোনো সুযোগের অপেক্ষায় সব সময়ই ছিলাম।

কিছুদিনের মধ্যেই সুযোগ এলো একই সাথে দুটো ইভেন্ট অংশগ্রহনের। একটি ইন্ডিয়া ব্রডকাস্ট ফেস্ট যেখানে ক্যামেরা জগতের নতুন সব আপডেট নিয়ে একটি মেলার মতো আর একটি মুম্বাই ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল। দুটোর একটাও মিস করতে চাইনি, করিওনি, তবে মুম্বাই্ ফিল্ম ফেস্ট নিয়ে আগ্রহটা ছিলো যারপরনাই বেশী। কেননা সমগ্র ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন ২-৩ টি ফেস্টিভালে মধ্যে মুম্বাই ফেস্টিভাল অন্যতম একটি।

বন্ধুর অ্যাকাউন্ট দিয়ে ফেস্টিভালের রেজিস্ট্রেশন করা হলো ২০০০ রুপিতে। ওপেনিং ফিল্ম হিসেবে কঙ্কনা সেন শর্মার ‘অ্যা ডেথ ইন গুঞ্জ’ আর ক্লোজিং ফিল্ম হিসেবে আমেরিকান পরিচালক কেনেথ লোনারগান এর ‘ম্যানচেষ্টার বাই দ্য সি’ সহ সাতদিনে ভারতসহ সারা বিশ্বের ১৬-১৭ টার মত সিনেমা দেখার সৌভাগ্য হয়েছে প্রোপার সিনেমা থিয়েটারে।

২১-২৭ অক্টোবরের সপ্তাহব্যাপী  ফেস্টিভালের পর টানা কয়েকদিন পুরো ঘোরের মধ্যে ছিলাম যেটা ছিলো খুব অল্প সময়ে অনেক বেশি সিনেমা দেখার ইফেক্ট। ঘুমালেও যেন একটা গল্পের সাথে আরেকটা গল্পের তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছিলো। তবে পুরো সাতটি দিনকে আমি উপভোগ করেছি পুরোপুরি।  যে ছবিটার কথা না বললেই না তা হলো আজগার ফরহাদির ‘দ্য সেলসম্যান’।

06

সকাল সকাল পরের দিনের ফিল্মের জন্য অনলাইনে বুকিং, লাইন ধরে ফিল্ম দেখা, দুই ঘণ্টা লাইনে থেকেও ফিল্ম না দেখতে পারা, সবকিছুই ছিল খুবই উপভোগ্য! বোনাস হিসেবে ছিল ব্রিলিয়ান্ট কিছু মানুষের সাথে দেখা করার সুযোগ, সিনেমা নিয়ে কনভার্সেশন, ফিল্ম লিজেন্ডদের ক্লাস যাদের মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ছিল আমির খান, করন জোহর, মনসুর হোসেন খান, জয়া আখতার, প্রিয়দর্শন, প্রকাশ রাজ, বুদ্ধদেব  দাসগুপ্ত, অনুরাগ কাশ্যপ, ক্যাটরিনা কাইফ সহ আরও অনেকে।

10

মুম্বাইতে আমি তেমন কাউকে চিনি না, এই ফেস্টে অনেক নতুনের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। যারা আমার মতই বিদ্রোহ করে চলছে। তবে মুম্বাই ফেস্টিভাল দেখেই আমি একটি আন্তর্জাতিক মানের প্রোপার ফেস্টিভাল কেমন হতে পারে তার কিছু ধারনা পেয়েছি। পুরো শহর জুড়ে একটি উৎসব এর মত ছিল সিনেমাপ্রেমীদের জন্য। আমাদের দেশের ফেস্টিভালগুলো এক সময় এরকম মানের হবে সেই আশাটা আরো অনেক বেড়েগেছে।

এই ফেস্টিভাল আমার ভেতরে বড়পর্দায় নিয়মিত সিনেমা দেখার পোকা ঢুকিয়ে দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় মুম্বাইয়ে ইতিমধ্যে আমি দুইটা প্রেক্ষাগৃহ খুঁজে পেয়েছি যারা নিয়মিত বিখ্যাত সব ওয়ার্ল্ড সিনেমা দেখায়।

03

04

আমাদের দেশেও মুভিয়ানা ফিল্ম সোসাইটি নিয়মিত ওয়ার্ল্ড সিনেমা দেখানো শুরু করেছে এজন্য তাদেরকে জানাই অনেক ধন্যবাদ। আর আমরা যারা সিনেমার পিছনের মানুষ তাদেরও উচিৎ এই আয়োজনগুলো মিস না করা। সিনেমা বড় পর্দার জিনিস, ছোট পর্দায় এর ২০% অনুভূতিও মেলেনা।  সাথে সাথে বড় পর্দায় সিনেমা দেখা আপনাকে সর্বদিক দিয়ে পারদর্শী করে তুলবে। আমার চিন্তা ভাবনার পরিবর্তনটা আমি খুব বুঝতে পারছি।

সামনে আরো দুটি বড় বড় ফেস্টিভাল আসছে একটি কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্ট এবং গোয়া ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্ট। খুব ইচ্ছে থাকলেও এগুলোতে ক্লাস এর কারণে যাওয়া হবে না। তবে একটি খুশির খবর দিতে চাই সেটা হলো আমার সিনেমাটোগ্রাফি করা খন্দকার সুমনের পরিচালনায় মোশন ভাস্করের একটি শর্ট ফিল্ম “পৌনঃপুনিক”এবার কলকাতা ফেস্ট এ সিলেক্ট হয়েছে।

মুম্বাই ফেস্টের মত একটি ফেস্টের অভিজ্ঞতা হওয়ার পর নিজের একটি কাজ একই মানের আরেকটি ফেস্টে সিলেক্ট হওয়ার অনুভূতিটা একটু বেশিই ভালো লাগার।

02

যাই হোক পরের বছরও এই ফেস্টিভালসহ সবগুলোতে আসতে চাই। সেই সাথে আমাদের সিনেমা, সিনেমার পরিবেশ হয়ে উঠুক আরো উন্নত। আর একটি দেশের সিনেমায় একটি মান সম্পন্ন ইন্টারন্যাশনাল ফেস্টিভালের ভুমিকা অনেক। যা আপনি অস্বীকার করতে পারবেন না। আজকের লেখনীটির মূল উদ্দ্যেশ্য মুম্বাই ফেস্টে আমির, ক্যাটরিনা, প্রিয়দর্শন, প্রকাশ রাজ, করন জোহর, বুদ্ধদেব দাসগুপ্ত, অনুরাগ কাশ্যপদের সঙ্গে এক সপ্তাহের সেসব মধুর স্মৃতি রোমন্থন!

আজ এ পর্যন্তই, ভালো থাকবেন সবাই, আমার জন্য দোয়া করবেন। বিদ্রোহী সালাম সবাইকে।

08

07

01

লেখকঃ তরুন চিত্রগ্রাহক

সম্পর্কিত সংবাদ
বিদ্রোহী দীপন