দাউদ মার্চেন্ট হস্তান্তরের পর মুম্বাইয়ের কারাগারে

দাউদ মার্চেন্ট হস্তান্তরের পর মুম্বাইয়ের কারাগারে

ভারতে একটি হত্যা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত আসামি ও ‘মাফিয়া ডন’ দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী আবদুর রউফ ওরফে দাউদ মার্চেন্টকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন মুম্বাইয়ের একটি আদালত।

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার মুম্বাইয়ের দায়রা জজ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তাকে মুম্বাইয়ের আর্থার রোড কারাগারে পাঠানো হয়।

এর আগে বুধবার দাউদ মার্চেন্টকে ভারতের কাছে ‘হস্তান্তরের’ পর বৃহস্পতিবার তাকে হাইকোর্টে হাজির করা হয়। হাইকোর্ট তাকে শুক্রবার দায়রা জজ আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার তাকে দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হয়।

১৯৯৭ সালের ১২ আগস্ট মুম্বাইয়ের সঙ্গীত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘টি-সিরিজের’ কর্ণধার গুলশান কুমারকে গুলি চালিয়ে হত্যা করা হয়। ওই হত্যা মামলায় ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দাউদ মার্চেন্টকে গ্রেফতারের পর ২০০২ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় দেশটির আদালত। এরপর সেই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন তিনি। ২০০৯ সালে মায়ের মৃত্যুতে ১৪ দিনের প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর পালিয়ে যান দাউদ মার্চেন্ট। একই বছরের ২৮ মে সীমান্তবর্তী ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক সহযোগীসহ তিনি ঢাকার ডিবি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন।

এরপর জাল পাসপোর্ট তৈরি ও অবৈধভাবে প্রবেশের অভিযোগে দাউদ মার্চেন্টের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তখন ডিবি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, ‘মাফিয়া ডন’ দাউদ ইব্রাহিমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী দাউদ মার্চেন্ট। বাংলাদেশে দাউদের নেটওয়ার্ক বিস্তারের জন্য তাকে গোপনে পাঠানো হয়েছিল।

জাল পাসপোর্ট ও অবৈধভাবে দেশে প্রবেশের মামলায় ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর দাউদ মার্চেন্ট গাজীপুরের কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পায়। পরদিন ভোরে ডিবি পুলিশ রাজধানীর খিলগাঁও এলাকা থেকে ৫৪ ধারায় তাকে আবারও গ্রেফতার করে। এরপর রিমান্ড শেষের পর থেকেই তিনি কারাগারে ছিলেন।

এরপর গত ৩ নভেম্বর দাউদ মার্চেন্টকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয় ঢাকা মহানগর হাকিম আদালত। দুই দিন পর গত রোববার বিকেলে তিনি কারাগার থেকে ছাড়া পান।

ভারতীয় পুলিশের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানান, ভারত সরকার গত কয়েক মাস ধরেই দাউদ মার্চেন্টকে ভারতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে আসছিল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ নভেম্বর কারাগার থেকে ছাড়া পাওয়ার পর বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষ দাউদ মার্চেন্টকে মেঘালয়ায় ভারতীয় সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) কাছে হস্তান্তর করে।

মুম্বাই পুলিশের অপরাধ শাখার কর্মকর্তারা জানান, মুম্বাই পুলিশের অপরাধ শাখার একটি দল দাউদ মার্চেন্টকে তাদের জিম্মায় নিতে বুধবার মেঘালয়ায় যায়।

‘দ্য হিন্দু’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইন্টারপোলের মধ্যস্থতায় দুই দেশের সরকারের নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে দাউদ মার্চেন্টকে ভারতীয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে, অবৈধভাবে ভারতে প্রবেশের চেষ্টার সময় বিএসএফের হাতে ধরা পড়েন দাউদ মার্চেন্ট।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মুম্বাই পুলিশের (অপরাধ) যুগ্ম কমিশনার সঞ্জয় সাক্সেনা বলেন, ‘আটকের পর তাকে জেরা করে বিএসএফ জানতে পারে— গুলশান কুমার হত্যা মামলায় প্যারোলে থাকা অবস্থায় পালিয়ে যাওয়া দাউদকে খুঁজছে মুম্বাই পুলিশ।’

তিনি জানান, পরে মার্চেন্টকে বৃহস্পতিবার সকালে মুম্বাই উড়িয়ে আনা হয় এবং হাইকোর্টে হাজির করা হয়। হাইকোর্ট শুক্রবার তাকে দায়রা জজ আদালতে হাজির করার নির্দেশ দেন।

সাক্সেনা আরও জানান, হাইকোর্টের নির্দেশনা অনুযায়ী শুক্রবার তাকে দায়রা জজ আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। নির্দেশনা অনুযায়ী তাকে মুম্বাইয়ের আর্থার রোড হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট