ফলের আশা জাগিয়েও রাজকোটে নিস্ফলা সমাপ্তি

ফলের আশা জাগিয়েও রাজকোটে নিস্ফলা সমাপ্তি

ইংল্যান্ড অধিনায়ক চাইলে আফসোস করতেই পারেন। রাজকোট টেস্টের শেষ দিন আরো আগে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করলে হয়তো ভারতের বিপক্ষে দারুণ জয় পেতে পারতো স্বাগতিকরা। তবে কোনো রকম ঝুঁকি নিতে চাননি অ্যালেস্টার কুক। ফলে যেটা হবার সেটাই হলো। ড্রয়েই সমাপ্তি ঘটলো রাজকোট টেস্টের।

রাজকোট টেস্টের প্রথম ইনিংসে তিন-তিনটি সেঞ্চুরির সুবাদে ৫৩৭ রানের বিশাল স্কোর দাঁড় করায় ইংল্যান্ড। রান পাহাড়ের নিচে চাপা না পড়ে পাল্টা আঘাত হানা ভারত গুটিয়ে যাওয়ার আগে ৪৮৮ রান সংগ্রহ করে। ৪৯ রানের লিড নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে ৩ উইকেটে ২৬০ রান তোলে ইনিংস ঘোষণা করে ইংলিশরা। প্রায় দুই সেশন ব্যাটিং করে ৬ উইকেটে ভারত ১৭২ রান করার পর পঞ্চম দিন শেষ হওয়ায় ড্রয়ে শেষ হয় রাজকোট টেস্ট।

draw

২০১২ সালে সর্বশেষ ভারতের মাটিতে কোনো টেস্ট ড্র হয়। এরপর টানা ১২টি টেস্টে জয় পায় ভারত। অবশ্য বৃষ্টির কারণে একটি ম্যাচ ড্র হয়েছিল।

টেস্টের শেষ দিন ঋদ্ধিমান সাহা যখন ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আউট হন তখনো খেলার ১০ ওভার বাকি ছিল। তবে বাকি সময়টুক নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়ে ভারতকে ড্র এনে দেন বিরাট কোহলি ও রবীন্দ্র জাদেজা।

দ্বিতীয় ইনিংসে কোহলি ৪৯ ও জাদেজা ৩২ রানে অপরাজিত ছিলেন। এছাড়া অশ্বিন ৩২ ও মুরালি বিজয় করেন ৩১ রান।

ইংল্যান্ডের হয়ে আদিল রশিদ সর্বোচ্চ তিনটি উইকেট নেন। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন ক্রিস ওকস, জাফর আনসারি ও মঈন আলি।

জয়ের জন্য সম্ভাব্য ৪৯ ওভারে ৩১০ রানের প্রায় অসম্ভব লক্ষ্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে কোনো রান না করতেই গৌতম গম্ভীরকে হারায় ভারত। এরপর ৪৭ রানের মাথায় চেতেশ্বর পূজারাকে আউট করে জয়ের স্বপ্নই বুনছিল ইংল্যান্ড। মুরালি বিজয় ও কোহলি মিলে ছোট জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন।

তবে দলীয় ৬৮ থেকে ৭১ রানের মধ্যে বিজয় ও আজিঙ্কা রাহানেকে আউট করে ইংল্যান্ডকে জয়ের স্বপ্ন দেখাতে থাকেন আদিল রশিদ ও মঈন আলি। তবে রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও ঋদ্ধিমানকে নিয়ে দারুণ দুটি জুটি গড়ে ভারতকে বিপদমুক্ত করেন কোহলি। হৃদ্ধিমান আউট হওয়ার পর দিনের শেষ ১০ ওভার জাদেজাকে নিয়ে নির্বিঘ্নে কাটিয়ে দিয়ে দলকে ড্র এনে দেন ভারতীয় অধিনায়ক।

এর আগে বিনা উইকেটে ১১৪ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড অধিনায়ক কুকের সেঞ্চুরি ও হাসিব হামিদের দারুণ ব্যাটিংয়ের সুবাদে ৩ উইকেটে ২৬০ রান তোলে ইনিংস ঘোষণা করে।

দ্বিতীয় ইনিংসে ইংল্যান্ডের হয়ে কুক ১৩০ ও হাসিব করেন ৮২ রান। কুকের ২৪৩ বলের ইনিংসে ১৩টি চারের মার রয়েছে। অন্যদিকে হাসিবের ১৭৭ বলের ইনিংসটি ৭টি চার ও ১টি ছক্কায় সাজানো ছিল।

দ্বিতীয় ইনিংসে ভারতের হয়ে অমিত মিশ্র দুটি উইকেট। অশ্বিন নেন একটি উইকেট।

এর আগে শনিবার রাজকোট টেস্টের চতুর্থ দিন ৪ উইকেটে ৩১৯ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে ভারত। রবিচন্দ্রন অশ্বিন ও ঋদ্ধিমান সাহার দৃঢ়তায় গুটিয়ে যাওয়ার আগে ৪৮৮ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা।

ভারতের বড় ইনিংসের ভিত গড়ে দেন দুই সেঞ্চুরিয়ান মুরালি বিজয় ও চেতেশ্বর পূজারা। দ্বিতীয় উইকেটে এই দুজন ২০৯ রানের অনবদ্য জুটি গড়েন। বিজয় ১২৬ ও পূজারা ১২৪ রান করেন। এছাড়া অশ্বিন ৭০, বিরাট কোহলি ৪০ ও ঋদ্ধিমান করেন ৩৫ রান।

ইংল্যান্ডের হয়ে আদিল রশিদ সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নিয়েছেন। জাফর আনসারি ও মঈন আলি নেন দুটি করে উইকেট। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন বেন স্টোকস ও স্টুয়ার্ট ব্রড।

রাজকোট টেস্টের প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডকে রানের পাহাড় এনে দিতে দারুণ ভূমিকা পালন করেন তিন সেঞ্চুরিয়ান মঈন আলি, জো রুট ও বেন স্টোকস। দ্বিতীয় উইকেটে রুট-মঈন ১৮১ রানের নান্দনিক জুটি গড়লে বড় সংগ্রহের ভিত পায় সফরকারীরা। শেষ দিকে টেলএন্ডারদের নিয়ে ছোট অথচ কার্যকরী জুটি গড়ে ইংলিশদের বড় সংগ্রহ পাইয়ে দেন স্টোকস।

ইংল্যান্ডের হয়ে স্টোকস ১২৮, রুট ১২৪ ও মঈন করেন ১১৭ রান। এছাড়া জনি বেয়ারস্টো ৪৬, আনসারি ৩২ ও হাসিব হামিদ করেন ৩১ রান।

ভারতের হয়ে রবীন্দ্র জাদেজা তিনটি এবং মোহাম্মদ শামি, উমেশ যাদব ও রবিচন্দ্রন অশ্বিন নেন দুটি করে উইকেট। ১১৭ রানের অনবদ্য ইনিংসের পাশাপাশি দুই ইনিংসে ৩ উইকেট নেয়ায় মঈন ম্যাচ-সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার লাভ করেন।

প্রসঙ্গত, পাঁচ ম্যাচের টেস্ট সিরিজের পর প্রথমে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড ও ভারত। এরপর সমান ম্যাচের টি-টুয়েন্টি সিরিজে লড়বে দল দুটি।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট