রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে সতর্ক অবস্থান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশ বন্ধে সীমান্তে সতর্ক অবস্থান: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ বন্ধে বাংলাদেশে-মিয়ানমার সীমান্তে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। সচিবালয়ে রোববার জাতীয় চোরাচালান প্রতিরোধ কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।

মিয়ানমারের আরাকান প্রদেশে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর উপর দেশটির সামরিক বাহিনী অভিযান চালিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির রিপোর্ট অনুযায়ী, অভিযানে ১৫ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা বাড়িছাড়া হয়েছে এবং অন্তত ৬৯ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

তবে একজন রোহিঙ্গা নেতা বিবিসিকে জানিয়েছেন, নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে কমপক্ষে সাড়ে তিনশো জন নিহত হয়েছেন। বাড়ি-ঘরহীন রোহিঙ্গারা জলপথে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে-মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ অবস্থায় বর্ডার (সীমান্ত) অতিক্রম করে মায়ানমারের কেউ যেনো বাংলাদেশে অনু্প্রেবেশ করতে না পারে, সেজন্য বিজিবি (বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ), কোস্ট গার্ডসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।’

চোরাচালান প্রতিরোধের বিষয়ে আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত প্রায় তিন লাখ ৮ হাজার চোরচালান বিরোধী অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার ৮৬২ জন চোরাচালানীকে আমরা গ্রেফতার করেছি এবং ১২ শ’ ৬১ কোটি টাকার মালামাল এ পর্যন্ত আটক হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা শীঘ্রই চেকপোস্টে স্ক্যানিং মেশিন ও এর ব্যবহার চালু করব বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। চোরাচালান অভিযান ফলপ্রসূ করার লক্ষ্যে অভিযানের পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। বিশেষ করে বর্ডার এলাকায় অভিযান আরও বাড়ানো হবে এবং নিয়মিত মনিটরিং করা হবে।’

‘অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র দেশে প্রবেশ রোধে সীমান্ত এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয় করা হবে।’

সভায় চোরাচালান মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া আরও গতিশীল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘গত জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত বিভাগ ওয়াইজ চোরাচালান মামলায় এক হাজার ৪৮৮ জন আসামী সাজাপ্রাপ্ত হয়েছেন।’

‘মাদকদ্রব্য উদ্ধার ও নির্মূলের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পাশাপাশি সর্বস্থরের জনগণের সমন্বয়ে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার জন্য সভায় আলোচনা করা হয়’ বলেন আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল।

সীমান্ত এলাকায় অত্যাধুনিক সার্ভিলেন্স ডিভাইস স্থাপনের কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা হচ্ছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘তেজস্ক্রীয় পদার্থ যাতে বাংলাদেশে না আসে সেজন্য আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন এন্ট্রি পয়েন্টে যেখান দিয়ে বিদেশ থেকে মালামাল আসে সেখানে আমাদের এ ডিভাইস স্থাপনের জন্য সভায় আলোচনা হয়েছে।’

সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক