২৮ নভেম্বর নোট বাতিল ইস্যুতে ভারতজুড়ে হরতাল

২৮ নভেম্বর নোট বাতিল ইস্যুতে ভারতজুড়ে হরতাল

ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের ৫০০ ও ১০০০ রুপির নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে এবার ভারতজুড়ে হরতালের ডাক দিল বিরোধী দলগুলি। মোদি সরকারের এই সিদ্ধান্তে বিরোধিতার সুর আরও তীব্রতর করতেই আগামী ২৮ নভেম্বর হরতালের ডাক দেয় বিরোধীরা।

বুধবার এই হরতালের ঘোষণা দিয়ে কংগ্রেস, তৃণমূল, সমাজবাদী পার্টি (এসপি), জনতা দল ইউনাইটেডসহ বিরোধী দলগুলির তরফে জানানো হয় ওই দিন গোটা দেশে ‘আক্রোশ দিবস’ পালন করা হবে।

এদিকে কেন্দ্রের নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বুধবারও সারাদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিবাদী কর্মসূচি নেয় বিরোধীদলগুলি। এদিন সকালেই সংসদের বাইরে মহাত্মা গান্ধীর মূর্তির নিচে ধরনায় বসে বিরোধী দলগুলির সাংসদরা। তৃণমূলের সঙ্গে এই ধরনায় অংশ নেয় কংগ্রেস, আম আদমি পার্টি (আপ), সমাজবাদী পার্টি (এসপি), বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি), ডিএমকেসহ ১৩টি রাজনৈতিক দলের প্রায় দুই শতাধিক সংসদ সদস্য। এরপর মানববন্ধনেও সামিল হয় তারা। যার নেতৃত্ব দেন কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী।

নোট বাতিলের আঁচ পড়ে সংসদেও। বুধবার সংসদের শীতকালীন অধিবেশনের পঞ্চম দিনও ভুণ্ডুল হয়ে যায়। লোকসভা ও রাজ্যসভাতে অধিবেশন শুরুর পর থেকেই বিরোধীদের হট্টগোলে দফায় দফায় মুলতবি হয়ে যায় অধিবেশন। এর মধ্যে লোকসভাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপস্থিতিতেই বিরোধীরা হট্টগোল করতে থাকেন। সরকারের তরফে এই ইস্যুতে আলোচনা করার আশ্বাস দিলেও বিরোধীরা তাতে কর্ণপাত করেনি।

নোট বাতিল ইস্যুকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ‘তাৎক্ষণিক আর্থিক পরীক্ষা’ বলে বর্ণনা করে কংগ্রেস সহসভাপতি রাহুল গান্ধী জানান এই সিদ্ধান্ত ভারতের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। নোট বদলের সিদ্ধান্ত আগাম ফাঁস হয়ে যাওয়ার ঘটনাকে জয়েন্ট পার্লামেন্ট কমিটি (জেপিসি) দিয়ে তদন্তেরও দাবি জানিয়েছেন রাহুল।

অন্যদিকে দুপুরে যন্তরমন্তরে প্রতিবাদী সভায় হাজির হন তৃণমূল কংগ্রেস, সমাজবাদী পার্টি, জনতা দল ইউনাটাইটেডসহ বিরোধী দলগুলির নেতা-নেত্রীরা। দিল্লির সভামঞ্চে দাঁড়িয়েই মোদি সরকারকে হুঙ্কার দিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, ‘ আপনাকে আমি চ্যালেঞ্জ করছি। আমাকে ভয় দেখিয়ে কোন লাভ নেই। ভোটের জন্য নয়,আমি মানুষের জন্য লড়বো। যতদিন বাঁচবো আমার  লড়াই চলবে’।

নোট ইস্যুতে মোদি সরকারকে তোপ দেগে মমতা বলেন, ‘মোদির হাতে এদেশ নিরাপদ নয়। হিটলারের থেকেও বড় হিটলার এসেছে। বিরোধীদের কণ্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে। সংবাদমাধ্যমকেও হুমকি দিচ্ছে কেন্দ্রীয় সরকার। হিটলারি কায়দা নোট বাতিল করেছেন মোদি। গণতন্ত্রে এসব চলে না’। তৃণমূল নেত্রী বলেন, ‘আচ্ছে দিনের কথা বলে মোদি প্রথমে ভোট নিয়েছিলেন। আর এখন সেই মানুষের নোট লুট করছেন।

সরকারের এই সিদ্ধান্তে কৃষকরা তাদের গচ্ছিত রুপি পাচ্ছেন না। তারা কেমন করে বাঁচবে? সুইস ব্যাংকের রুপি কি হল? অন্যদিকে নোট বাতিল ইস্যুতে কলকাতাতেও প্রতিবাদি মিছিলে বের হয় তৃণমূল কংগ্রেস। এদিন দুপুরে কলকাতার কলেজ স্কয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল করে তৃণমূল।

মিছিলে পা মেলান অমিত মিত্র, পার্থ চট্টোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, শোভন দেব চট্টোপাধ্যায়, শশী পাঁজা, ইন্দ্রনীল সেন, সুব্রত বক্সি সহ রাজ্যের মন্ত্রী ও সাংসদরা।  সূত্রে খবর, নোট বাতিল ইস্যুতে মমতা ব্যানার্জিরর সঙ্গে কথা বলতে চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে ফোন আসে খবর। এদিন দুপুরে তৃণমূলের সংসদ সদস্য সুদীপ ব্যানার্জির কাছে পিএমও থেকে একটি ফোন আসে। সেই ফোনেই মোদির তরফে তৃণমূল নেত্রীর সঙ্গে কথা বলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট