শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে ৮টি পদ্ধতি তুলে ধরেছে জাতীয় পার্টি

শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন গঠনে ৮টি পদ্ধতি তুলে ধরেছে জাতীয় পার্টি

দেশে সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠন ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নিয়োগ ও সংক্রান্ত একটি আইনি কাঠামো প্রণয়নসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ।

রাজধানীর গুলশানের একটি কনভেনশন সেন্টারে শনিবার সকালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যের মাধ্যমে এরশাদ এ দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে জাপা চেয়ারম্যান বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নিবার্চন পদ্ধতি তুলে ধরে বলেন, ‘নির্বাচন পদ্ধতি সংস্কার ছাড়া সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব নয়।’

তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে আস্থা প্রতিষ্ঠা করার প্রথম ধাপ হচ্ছে স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য প্রক্রিয়ায় নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ দেওয়া। যদি যথাযথ আইনি কাঠামো ও তার সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতাসম্পন্ন পেশাদার ও নিরেপেক্ষ ব্যক্তিবর্গকে নির্বাচন কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া যায় তাহলেই বিতর্কমুক্ত নির্বাচন কমিশন গঠিত হতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যেসব পদ্ধতিতে নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয় তার মধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য ৮টি পদ্ধতি হল :

১. উন্মুক্ত বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে নিয়োগ;

২. অনুসন্ধান কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ;

৩. সংসদ বা আইন সভার মাধ্যমে নিয়োগ;

৪. নির্বাহী প্রধানের মাধ্যমে নিয়োগ (যেমন প্রধানমন্ত্রীর মাধ্যমে);

৫. রাষ্ট্রপ্রধানের মাধ্যমে নিয়োগ (যেমন-রাজা/রানী/রাষ্ট্রপতি গভর্নরের মাধ্যমে);

৬. বিচার বিভাগের মাধ্যমে নিয়োগ (যেমন-জুডিসিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে);

৭. রাজনৈতিক দলের মাধ্যমে নিয়োগ; এবং

৮. একাধিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়োগ।’

এরশাদ বলেন, ‘আমাদের দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থা চলে আসছে ১৯৩৫ সালের ব্রিটিশ ভারতের আইন অনুসারে। এই আইন পরিবর্তন করা প্রয়োজন।’

এ সময় নির্বাচিন কমিশন (ইসি) গঠনের ব্যাপারে জাতীয় পার্টির প্রস্তাব দেন তিনি।

১. সংবিধান অনুসারে প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও নির্বাচন কমিশন নিয়োগ সংক্রান্ত একটি কাঠামো প্রণয়ন করতে হবে।

২. সেখানে নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ স্বাধীন রাখার বিধান রাখতে হবে।

৩. নির্বাচন কমিশনের আলাদা সচিবালয়য় থাকতে হবে।

৪. বর্তমান সংসদেই এই আইন পাস করতে হবে।

৫. নির্বাচন কমিশনারদের যেসব যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনা করতে হবে- তার মধ্যে থাকবে :

নিরেপেক্ষতা, ব্যক্তিগত একাগ্রতা ও সততা, ন্যূনতম ও সর্বোচ্চ বয়স, পেশাগত যোগ্যতা, নির্বাচন সংক্রান্ত বিষয়ে জ্ঞান, শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা, রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় নয়, অন্য অফিসে নিয়োগবিধি নিষেধ, চারিত্রিক স্বচ্ছতা।

এরশাদ বলেন, ‘যদিও আমাদের দেশে নিরেপেক্ষ পার্থী পাওয়া খুব কঠিন ব্যাপার, নিরপেক্ষ বিবেচনা করা হলেও কার্যত তাকে আর নিরপেক্ষ হিসেবে পাওয়া যায় না। উদাহারণ হিসেবে বলা যায়, ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার মি. টি. এন. সেসন সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনা করে সমাদৃত হয়েছিলেন। তার পরেও বিরোধী দল তাকে নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি করেছিল। মি. সেসন এখন বিজিপিতে যোগ দিয়েছেন। তবে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ প্রক্রিয়াকে যদি আমরা একটি আইনি কাঠোমর মধ্যে নিয়ে আসতে পারি তাহলেই কেবল কমিশন নিয়োগ বিতর্কমুক্ত হতে পারে।’

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক