শাহরুখকে অন্যরূপে দেখতে চান তাহলে দেখুন ‘ডিয়ার জিন্দেগি’

শাহরুখকে অন্যরূপে দেখতে চান তাহলে দেখুন ‘ডিয়ার জিন্দেগি’

শাহরুখকে অন্যরূপে দেখতে চান? ডিয়ার জিন্দেগি দেখুন। প্রমোশন নয়-এটাই সত্যি। এককথায়, শাহরুখ-আলিয়া দুজনেই দারুণ অভিনয় করেছেন। আসলে বয়স যত বাড়ছে, শাহরুখের অভিনয়ের কোয়ালিটি তত বাড়ছে। আর আলিয়া? শাহরুখের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করে ব্যালান্স করাটাই তো যথেষ্ট ওর পক্ষে। এক সুপারহিরোর পাশে নিজেকে টিকিয়ে রাখাই কম নাকি?

6d71281b-3737-40a0-bbba-93a00b0ea95e_l_styvpf

দ্রুতগতির জীবনের মধ্যেও কীভাবে প্রত্যেকটা মানুষ একা হয়ে পড়ে, গোটা সিনেমা জুড়ে সেটাই দেখানো হয়েছে।সিনেমাটি মূলত দুটি চরিত্রকে নিয়ে তৈরি। ড. জাহাঙ্গির খান (শাহরুখ খান) এবং কায়রা (আলিয়া ভাট)। কায়রা একজন প্রতিভাবান সিনেম্যাটোগ্রাফার।

30289ef8-485d-4597-847d-a14be9652784_l_styvpf

কিন্তু, তার জীবনে একটাই সমস্যা। কোনও পুরুষই খুব বেশিদিন জীবনসঙ্গী থাকে না। তা সে সিনেমার প্রযোজক হোক, সঙ্গীত শিল্পী হোক কিংবা রেস্তরাঁর মালিক। আসলে সবসময়ই কায়রার মনে হতে থাকে যাকেই সে মন থেকে ভালোবাসে, সেই বোধহয় তাকে একলা করে চলে যাবে। তার থেকে ভালো আগেভাগেই সম্পর্কের ব্রেক আপ করে দেওয়া।

dear_featured

পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছায় যে, রীতিমতো অনিদ্রায় ভুগতে থাকে কায়রা। এমনই এক কঠিন সময়ে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ড. জাহাঙ্গির খানের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। এরপর ধীরে ধীরে কীভাবে সে নিজের স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে সেটাই আসল গল্প।

dear_featured

গোটা সিনেমা জুড়ে শাহরুখ ও আলিয়ার কেমিস্ট্রি অসামান্য। হল ছেড়ে বেরিয়ে আসার সময় সকলের মুখে একটাই কথা শোনা গেল, এই সিনেমা জীবনের বাস্তব চিত্র। পরিচালক হিসাবে এটা গৌরী শিন্ডের দ্বিতীয় ছবি। সেদিক থেকে দেখতে গেলে তাঁর প্রথম ছবি “ইংলিশ ভিংলিশ” যতটা দর্শকদের মন ছুঁতে পেরেছিল, তার থেকে এই সিনেমা বেশি গ্রহণযোগ্য হবে বলে মনে হয়। অধিকাংশই গোয়াতে শুট করা।

dear_featured

এবার আসা যাক অভিনয়ের কথায়। সত্যি কথা বলতে কী, আলিয়া যে নিজেকে প্রমাণ করার চেষ্টায় মগ্ন সেটা বেশ বোঝা গেল। ছবিতে আলিয়ার বাবা-মা তাকে ছেড়ে চলে যাওয়ার কারণেই ছোটোবেলা থেকে একাকীত্ব তাঁকে ঘিরে ধরেছে। আর সময় যত এগিয়েছে, মনের মধ্যে তাকে আরও গেঁথে বসেছে।

dear

অভিনয়ে ভিন্নতা দেখা গেল শাহরুখের। একবারে অন্য অবতারে তাঁকে এই সিনেমায় দেখতে পাওয়া গেল। প্রেমিকার সঙ্গে কোনও প্রেমের সিন নেই, দুই বাহু প্রসারিত করে সিগনেচার স্টাইলে ডায়লগ থ্রো নেই। বদলে আছে জ্ঞানের ভান্ডার। আমাদের ফেলুদা গল্পের সিধুজ্যাঠাকে আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে। অনেকটা সেই সিধুজ্যাঠার মতো। সব সমস্যার সমাধানই যেন তাঁর ঠোঁটের ডগায় ঝুলে রয়েছে। “চেক দে ইন্ডিয়া”র পর শাহরুখকে অন্যভাবে পাওয়া গেল ডিয়ার জিন্দেগিতে। বাকি থাকলেন কুণাল কাপুর, আলি জাফর, অঙ্গদ বেদি, ইরা দুবে এবং যশস্বিনী দয়ামা। প্রত্যেকের খুব বেশি অভিনয়ের সুযোগ পাননি। যেটুকু পেয়েছেন কাজটা করার চেষ্টা করেছেন।

a1d48d30-ec3d-4cc7-8bbb-68dfeead9ba3_l_styvpf

সিনেমার শেষে একটা কথাই মনে হতে পারে। প্রত্যেক জীবন হয়তো মধুর নাও হতে পারে। কিন্তু, “হর টুটি হুই চিজ জোড়ি যা সকতি হে…!” জীবনের প্রতিটা ছোটো ছোটো ভাঙন যদি এভাবেই ভালোবাসা দিয়ে জুড়ে দেওয়া যায়, তাহলে এর থেকে ভালো জিনিস আর কীই বা হতে পারে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট