কাস্ত্রোকে ‘নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক’ বললেন ট্রাম্প

কাস্ত্রোকে ‘নিষ্ঠুর স্বৈরশাসক’ বললেন ট্রাম্প

বিপ্লবী ফিদেল কাস্ত্রোকে বর্বর স্বৈরশাসক বললেন নব নির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী জানুয়ারিতে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নিতে চলা ট্রাম্প বলেন, কিউবাবাসী এখন ‘আরও মুক্ত’ ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাবেন বলে আশা করছি।

১৯৫৯ সালে সশস্ত্র অভ্যুত্থানে সামরিক শাসক জেনারেল বাতিস্তাকে হটিয়ে কিউবার ক্ষমতায় এসে সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেন ফিদেল কাস্ত্রো। এরপর পাঁচ দশক যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে কিউবার শাসন ক্ষমতায় ছিলেন তিনি। পরে ২০০৮ সালে শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছোট ভাই রাউল কাস্ত্রোকে দায়িত্ব দিয়ে প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ান।

ফিদেলের সমর্থকদের দৃষ্টিতে, তিনি জনগণকে তাদের কিউবা ফিরিয়ে দিয়েছেন। অপরদিকে সমালোচকদের দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন ‘স্বৈরশাসক’।

স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে ফিদেলের মৃত্যু হয়েছে বলে তার ভাই রাউল রাষ্ট্রায়াত্ব এক টিভি চ্যানেলে ঘোষণা করেন।

এক বিবৃতিতে ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, “কিউবা একটি কর্তৃত্ববাদী দ্বীপ হিসেবে থাকলেও এটা আশা করা যায় যে, দীর্ঘদিন চেপে থাকা বিভীষিকা থেকে বেরিয়ে আসার প্রক্রিয়ার শুরুর দিন হতে পারে আজ।। এটা এমন একটি ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া যেখানে চমৎকার কিউবাবাসী শেষ পর্যন্ত স্বাধীনতা নিয়ে বাস করতে পারে, যা তাদের প্রাপ্য।’

সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার ‘স্নায়ুযুদ্ধ’ নিয়ে যখন উত্তেজনা বাড়ছিল সে সময় ১৯৬১ সালে কিউবার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্কে ছেদ টানে ওয়াশিংটন। আরোপ করে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, যা অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে চলে। প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে দুই দেশের সম্পর্কের উন্নতি ঘটে। ২০১৫ সালে পুনরায় কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করে ওয়াশিংটন-হাভানা।

নির্বাচনী প্রচারে ট্রাম্প কিউবা নিয়ে ওবামার নীতির সমালোচনা করলেও বিবৃতিতে তা পাল্টানোর কথা বলেননি। কট্টরপন্থি রিপাবলিকান পার্টির নেতা ট্রাম্প বলেন, কিউবানরা যাতে ‘সমৃদ্ধি ও স্বাধীনতার দিকে যাত্রা শুরু করতে পারে’ তা নিশ্চিত করতে সম্ভাব্য সব করবে তার প্রশাসন।

তবে ওবামা বলেছেন, ইতিহাসই ফিদেলের কাজের মূল্যায়ন করবে। এই সময়ে আমেরিকা ‘কিউবার জনগণের প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছে’।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট