পাকিস্তান তিন দশক পর নিউজিল্যান্ডে সিরিজ হারল  

পাকিস্তান তিন দশক পর নিউজিল্যান্ডে সিরিজ হারল  

তিন দশক পর অবশেষে দিনটি এলো। পাকিস্তান সর্বশেষ নিউজিল্যান্ডের মাটিতে টেস্ট সিরিজ হেরেছিল ১৯৮৫ সালে। রোববার হ্যামিল্টনে সেই পরাজয়ের পাকিস্তানের জন্য ফিরে এলো আবারো। এবার দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে স্বাগতিকদের কাছে হোয়াইটওয়াশ হলো আজহার আলির দল। শেষ ইনিংসে পাকিস্তানের সামনে লক্ষ্যটা বেশ বড় হলেও ড্র করা কঠিন ছিল না। কিন্তু শেষ সেশনে আচমকা ব্যাটিং লাইনে ধ্বস নামায় পরাজয়টা এলো ১৩৮ রানের বড় ব্যবধানে।

সেডন পার্কে প্রথম ইনিংসে কিউইদের ২৭১ রানে অলআউট করে দারুণ কিছুর সম্ভাবনা জাগিয়েছিল পাকিস্তান। যদিও সুযোগটা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়ে সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে ২১৬ রানেই গুটিয়ে গেছে। যাতে প্রথম ইনিংস থেকেই ৫৫ রানের লিড তুলে নেয় স্বাগতিকরা। পরে দ্বিতীয় ইনিংসে ৩১৩ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে পাকিস্তানের সামনে ৩৬৯ রানের চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় কেন উইলিয়ামসনের দল। মঙ্গলবার ম্যাচে পঞ্চম ও শেষ দিনে পাকিস্তান ২৩০ রানে গুটিয়ে গেলে ১৩৮ রানের সহজ জয় পেয়ে যায় তারা।

শেষের দিকে বেশ নাটকীয়ভাবে ছন্দপতন ঘটে পাকিস্তানি ব্যাটিং লাইনের। সর্বশেষ সেশনটিতেই নয়টি উইকেট হারায় তারা। দুই উইকেটের বিনিময়ে ১৫৯ রান উঠেছিল। সেখান থেকে ২৩০ রানে পৌঁছতে হারাতে হয় বাকি সব উইকেট। সর্বশেষ ৬ উইকেট পাকিস্তান হারিয়েছে ১১ ওভারের মধ্যে। এই সময়ে তারা তুলেছে মাত্র ২৬ রান।

আগের দিনে ৩ ওভারে করা একমাত্র রান নিয়ে মঙ্গলবার ব্যাটিংয়ে নেমেছিল পাকিস্তান। শুরুটা ভালোই করেছিলেন দুই ওপেনার। সামি আসলামকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক আজহার আলি গড়েছিলেন ১৩১ রানের জুটি। মিচেল স্যান্টনারের বলে বোল্ড হয়ে ব্যক্তিগত ৫৮ রানের মাথায় ফিরে যান আজহার। এরপরই পাকিস্তানি ব্যাটিংলাইন ধ্বসে পড়তে শুরু করে।

আগের ইনিংসে ৯০ রানে অপরাজিত থাকা বাবর আজমও (১৬) স্যান্টনারের বলে বোল্ড হয়ে ফেরার পর টিম সাউদির বলে উইলিয়ামসনের হাতে ক্যাচ তুলে দেন সামি। ৯১ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন তিনি। ২৩৮ বল খেলে ৮টি চার ও একটি ছয় মারেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

সামি ফেরার পর পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের যাওয়া-আসার গতি আরো বাড়ে। সরফরাজ ১৯ রান করে রানআউট হওয়ার পর আসাদ শফিক ফেরেন কোনো রান না করেই। এরপর একে একে আউট হন ইউনিস খান (১১) ও সোহাইল খান (৮)। শেষ তিন ব্যাটসম্যান মোহাম্মাদ আমির, ওহাব রিয়াজ ও ইমরান খানকে কোনো রানই করতে দেননি কিউই পেসার নেইল ওয়াগনার। ফলে দলীয় ২৩০ রানে সবকটি উইকেট হারিয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে ১৩৮ রানে পরাজিত হয় পাকিস্তান।

দ্বিতীয় ইনিংসে নিউজিল্যান্ডের হয়ে ৩টি উইকেট নিয়েছেন ওয়াগনার। সাউদি ও স্যান্টনার নেন দুটি করে। একটি করে উইকেট শিকার করেন ম্যাট হেনরি ও গ্রান্ডহোম।

প্রসঙ্গত, দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটিতে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজে এগিয়ে ছিল নিউজিল্যান্ড। দ্বিতীয় ইনিংসেও পাকিস্তানের পরাজয়ের পক্ষেই ছিল পরিসংখ্যান। এর আগে চতুর্থ ইনিংসে তিনশোর বেশি রান তাড়া করার মাত্র তিনটি কীর্তি গড়া পাকিস্তান যে কোনোটিই এশিয়ার বাইরে করে দেখাতে পারেনি। নিউজিল্যান্ডে ২০০৩ সালে অবশ্য চতুর্থ ইনিংসে নিজেদের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান তাড়া করার কীর্তি গড়েছিল পাকরা। ওয়েলিংটন টেস্টে সেসময় তারা টপকেছিল ২৭৪ রানের লক্ষ্য। সেই তুলনায় এবারের লক্ষ্যটা অনেক বেশিই ছিল তাদের জন্য।

এর আগে নিউজিল্যান্ডের মাটিতে সর্বশেষ ১৯৮৫ সালে ৩ ম্যাচের টেস্ট সিরিজ হেরেছিল পাকিস্তান। সেবার ওয়েলিংটনে প্রথম টেস্টটি ড্র হয়। দ্বিতীয়টি স্বাগতিকরা জেতে ৯৯ রানে। শেষ ম্যাচটি পাকিস্তান হারে ২ উইকেটে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

নিউজিল্যান্ড প্রথম ইনিংস: ২৭১/১০ (রাভাল ৫৫, লাথাম ০, উইলিয়ামসন ১৩, টেইলর ৩৭, হেনরি নিকোলস ১৩, কলিন ৩৭, ওয়াটলিং ৪৯*, সান্টার ১৬, সাউদি ২৯, ম্যাট হেনরি ১৫, নেইল ১; আমির ২/৫৯, সোহেল ৪/৯৯, ইমরান ৩/৫২, রিয়াজ ১/৫৭)।

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২১৬ (সামি ৫, আজহার ১, বাবর আজম ৯০*, ইউনুস ২, শফিক ২৩, রিজওয়ান ০, সরফরাজ ৪১, সোহলে খান ৩৭, ওয়াহাব রিয়াজ ০, আমির ৫ এবং ইমরান খান ৬; সাউদি ৬/৮০, হেনরি ০/১৩, গ্র্যান্ডহোম ১/২৯, ওয়াগনার ৩/৫৯)

নিউজিল্যান্ড ২য় ইনিংস: ৮৫.৩ ওভারে ৩১৩/৫ ইনিংস ঘোষণা (রাভাল ২, ল্যাথাম ৮০, উইলিয়ামসন ৪২, টেইলর ১০২*, নিকোলস ২৬, গ্র্যান্ডহোম ৩২, ওয়াটলিং ১৫*; আমির ১/৮৬, সোহেল ০/৬৯, ইমরান ৩/৭৬, ওয়াহাব ১/৫৩, আজহার ০/১৯, শফিক ০/৪)।

পাকিস্তান ২য় ইনিংস: ২৩০ (সামি ৯১, আজহার ৫৮, বাবর ১৬, সরফরাজ ১৯, ইউনুস ১১, শফিক ০, রিজওয়ান ১৩* সোহেল ৮, আমির ০, রিয়াজ ০, ইমরান ০; সাউদি ২/৬০, হেনরি ১/৩৮, ওয়াগনার ৩/৫৭, সানটার ২/৪৯)।

ফল: নিউজিল্যান্ড ১৩৮ রানে জয়ী।

ম্যাচ সেরা: টিম সাউদি।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট