নতজানু সীমারেখা

নতজানু সীমারেখা

দরবারে লেগেছে তালা ঘরও আজ বন্ধকী

 তিন দিকে কাঁটাতারের শক্ত প্রাচীর

একদিকে ফেনা রাশি রাশি

নীল বিষধর উপত্যকা তার গভীরে আমার ব’দ্বীপ বন্দি থাকে

সীমান্তের বুলেট গুনে গুনে কেটে গেল আজন্মকাল

 হাওয়ায় ভাসে দু:খ ফোঁটা হত্যা বলি তাকে

 কোথাও কোনো ফাঁক গলে কি গরু আসে এ’পাড়ে!

কৃষাণের ঘাম আজ এলোমেলো সময়ের তাল

 নির্ঘুম রাত কাটে আলোহীন অচেনা শহরে

 বৃদ্ধার খিড়কী দিয়ে বিষাদের ছায়া ঢুকে পড়ে

 কাঁটাতার ছুঁয়ে যায় ফেলানীর পরিযায়ী আঁচ

আজ ধ্রুব তারা নিজে তাই দিশাহীন পাখী

 মেঘের ফাঁক গলে জ্যোৎস্না আঁকাবাঁকা চলে

 তারই বংশবদ সাপ ও মৃত কবি কবিতা লিখে

 অন্তহীন উন্মদনায় কোরাশ গায় নেকড়ে আর বুনো হায়েনারা

প্রতিবাদের আকাশ আজ বড় অভিমানী

 হৃদয়ে বৃষ্টি ঝড়ছে সারাক্ষণ

 ঝড়ে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে পড়ে থাকে কবির অবয়ব

 তবুও কবিতা লিখি ঘর গৃহস্থালি সাজাই

কখনও কি কবি ও তার কবিতা থেমে থাকে!

আমার কবিতা তো খুন থামাতে পারে না

 খোলা কলম শাদা পৃষ্ঠা উন্মুখ থাকুক

 যে কোন সময় যে কোন দিন কিছু ঘটে যায়!

আপাদতঃ

আবোল তাবোল দ্রোহ কাদা ছোঁড়ে ঘনীভূত হউক কবিতার শ্লেষে

প্রতি মুহুর্তে ঘটে শত ক্লেদ জমে লক্ষ টন হাকাকার

বালখিল্যতায় ঘর থেকে নিয়ে যায় তাঁজা প্রান

 ফিরিয়ে দেয় নিথর দেহ

 সময়ে যুক্ত হয় নাম নাজানা আরও কিছু বেয়াড়া আখ্যান:

ধূসর নগরে দিন শেষে মায়ের দীর্ঘশ্বাসে ভরে উঠে বাতাস

 প্রিয়ার কান্নায় লীন হবে অলৌকিক তির্যক আকাশ

 শৌখিন কবি বিধিঁয়ে দিবে কবিতার শব্দভেদী বাণ

 পড়ে থাকবে দাঁড় কাক আর কবিতার শতচ্ছিন্ন জন্মান্ধ অক্ষর

সম্পর্কিত সংবাদ
শামসুদ্দিন হীরা