ইসলামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই: মসজিদে নববীর খতিব

ইসলামে সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদের কোন স্থান নেই: মসজিদে নববীর খতিব

ইসলামে জঙ্গিবাদের কোনো অবস্থান নেই বলে জানিয়েছেন মসজিদে নববির খতিব শায়েখ ড. আব্দুল মহসিন বিন মোহাম্মদ আল কাশেম। তিনি বলেন, ‘ইসলাম ধর্ম জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস থেকে মুক্ত। ইসলামে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান নেই। যারা জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসে লিপ্ত তাদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই।’

বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৪২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ওলামা মাশায়েখ মহাসম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। বিকেল তিনটার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মঞ্চে আসেন। এর পরই বক্তব্য দেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক শামীম আফজাল হোসেন।

মসজিদে নববির খতিব বলেন, ‘আমাদের ধর্ম পবিত্র ও শান্তির ধর্ম। ইসলাম ধর্ম আমাদের শ্রদ্ধা করতে শিখিয়েছে। সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে ইসলাম সমর্থন করে না। ইসলাম ধর্ম ভ্রাতৃত্বের শিক্ষা দেয়। মিলেমিশে থাকার শিক্ষা দেয়। কোরআন আমাদের শিক্ষা দিয়েছে ঐক্যবদ্ধভাবে জীবনযাপন করার। ইসলাম ভ্রাতৃত্ব, শিক্ষা ও একে অপরকে শ্রদ্ধা করার শিক্ষা দেয়। ইসলাম এমন একটি ধর্ম যেটা বোঝা ও আমল করা সবার জন্য অতিসহজ। ইসলাম বিশ্বের সব মানুষের মানবতার ধর্ম। ইসলাম ক্ষমা করার ধর্ম।’

তিনি আরো বলেন, ‘ইসলাম কোনো যুগের বিপক্ষে নয়। সুশৃঙ্খলভাবে জীবনযাপনের শিক্ষা দিয়েছে। আমাদের সবচেয়ে বড় পরিচয় আমরা মুসলমান। কোনো দেশ, কোনো সমাজ ও কোনো সীমানা আমাদের বিভক্ত করতে পারে না। যেখানেই থাকি না কেন আমাদের বড় পরিচয় আমরা মুসলমান। আজকের এ সম্মেলন ইসলামের সঠিক চেহারা তুলে ধরবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক আগামীতে আরো মজবুত হবে।’

এদিন সকাল থেকেই দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সম্মেলনস্থলে আসতে শুরু করেন ওলামা মাশায়েকগণ। সম্মেলনস্থলের ভেতরে ও বাইরে পুলিশ ও গোয়েন্দারা নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন। প্রতিটি প্রবেশ কেন্দ্রে ব্যাপক তল্লাশির মাধ্যমে আগতদের সম্মেলনস্থলে প্রবেশ করানো হয়।

ওলামা মহাসম্মেলন ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার প্রতিটি প্রবেশপথে বসানো হয়েছে আর্চওয়ে গেইট। এ ছাড়া বাইরেও তল্লাশি চালানো হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের আশপাশে প্রায় এক কিলোমিটার এলাকাজুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে। পুরো এলাকা সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে তিনটি অস্থায়ী ক্যাম্প থেকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সোয়াত ও বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরাও উপস্থিত রয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক