মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকরে কারাগার প্রস্তুতি নিচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকরে কারাগার প্রস্তুতি নিচ্ছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ হরকাতুল জিহাদের নেতা মুফতি হান্নানের প্রাণভিক্ষার আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় ফাঁসি কার্যকরে কারাগার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। রোববার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কথা জানান।

তিনি বলেন, বিভিন্ন মামলায় বিশেষ করে একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা, প্রধানমন্ত্রীর প্রাণনাশের মামলাসহ অনেক মামলা তার (মুফতি হান্নান) নামে ছিল। এরমধ্যে কয়েকটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। একটি মামলায় তাকে মৃত্যুদণ্ডদেশ দেওয়া হয়েছিল। সেটা সুপ্রিম কোর্ট ও আপিল বিভাগে বহাল থাকাতে তিনি মহামান্য রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছিলেন, রাষ্ট্রপতি সেটা না মঞ্জুর করেছেন।

মন্ত্রী বলেন, ‘না মঞ্জুর করাতে এখন আমরা আদালতের রায় কার্যকর করতে যে সমস্ত ফরমালিটি, জেল কোড অনুযায়ী যা যা করণীয় সেই প্রক্রিয়াগুলো আমার করে যাচ্ছি।’

আসাদুজ্জামান খাঁন বলেন, ‘রায় কার্যকর করার জন্য আমাদের কারাগার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’

প্রসঙ্গত, গত ২৭ মার্চ ব্রিটিশ হাইকমিশনারের ওপর হামলা মামলায় দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন জঙ্গি নেতা মুফতি আবদুল হান্নান। ওই দিন সন্ধ্যা ৬টা ১০ মিনিটে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারের ডেপুটি জেলার মো. মনির হোসেনের মধ্যমে তিনি প্রাণভিক্ষার আবেদন করেন।

একই মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি শরীফ শাহেদুল বিপুল এখনও প্রাণভিক্ষা চাননি। তিনিও প্রাণভিক্ষা চাইবেন। বিপুলের প্রাণভিক্ষা চাওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ওই কর্মকর্তা।

রিভিউ খারিজ এবং মৃত্যুদণ্ড বহালের রায় গত ২২ মার্চ মুফতি হান্নানকে পড়ে শোনানো হয়।গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জেল সুপার মিজানুর রহমান জানান, ২২ মার্চ থেকে মুফতি হান্নানের মার্সি পিটিশনের দিন গণনা শুরু হয়েছে। তার আচরণ,খাওয়া-দাওয়া স্বাভাবিক।

এর আগে ১৯ মার্চ রবিবার সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ তিন জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে সর্বোচ্চ আদালতের দেয়া রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন (রিভিউ) খারিজ করে দেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুফতি হান্নান ও ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল বিপুল কাশিমপুর হাইসিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগার আর অপর আসামি দেলোয়ার হোসেন রিপন সিলেট জেলা কারাগারে রয়েছেন। রিপন ইতিমধ্যে প্রাণভিক্ষা চেয়েছেন।

সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে ২০০৪ সালের ২১ মে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন।ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত পাঁচ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।

প্রায় সাত বছর পর গত বছরের ৬ জানুয়ারি এ মামলায় হাইকোর্টে শুনানি শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় দেন আদালত। রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। পরে আপিল ও রিভিউ খারিজ হয়ে গেলে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনাই ছিল তাদের সর্বশেষ আইনি আশ্রয়।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক