যা কিছু হয়েছে আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে :মুফতি হান্নান

যা কিছু হয়েছে আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে :মুফতি হান্নান

নিষিদ্ধ ঘোষিত হরকাতুল জিহাদের (হুজি) শীর্ষনেতা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি আব্দুল হান্নান বলেছেন, যা কিছু হয়েছে আল্লাহর হুকুমেই হয়েছে। আজ বুধবার সকালে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে তার সঙ্গে সাক্ষাতের পর হান্নানের বরাত দিয়ে সাংবাদিকদের একথা জানান বড় ভাই আলি উজ্জামান মুন্সী।

কাশিমপুর কারাগারে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানের সঙ্গে সাক্ষাত করেছেন তার পরিবারের সদস্যরা। সাক্ষাত শেষে মুফতি হান্নানের স্ত্রী জাকিয়া পারভীন রুমা সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার স্বামী ভালো আছে, সুস্থ আছে। আল্লাহ তাকে ভালো রেখেছে। সরকার মিথ্যা মামলা দিয়ে আমার স্বামীকে মৃত্যুদণ্ড দিচ্ছে। আমার স্বামী জঙ্গি সংক্রান্ত কোনও বিষয়ে জড়িত ছিল না। তার প্রতি অন্যায় করা হয়েছে।’

এ সময় মুফতি হান্নানের বড় মেয়ে নিশি খানম মিডিয়ার সামনে প্রতিক্রিয়ায় জানান, তার বাবাকে মিত্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

বুধবার ভোর ৬টার দিকে কারাগারে পৌঁছানোর পর ‘মুফতি’ হান্নানের স্ত্রী জাকিয়া পারভীন, দুই মেয়ে নিশাত ও নাজনীন এবং বড় ভাই আলী উজ্জামান সকাল ৭টা ১০ মিনিটে তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি পান। তখন থেকে তারা প্রায় ৭টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত হান্নানের সঙ্গে কথা বলেন। এরপর একটি রিকশা ভ্যানে চেপে কারাগার থেকে বের হন তারা।

কাশিমপুর কারাগারের ডেপুটি জেলার মনির হোসেন বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার মুফতি হান্নানের সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য তার স্বজনদের কাছে বার্তা পাঠিয়েছিল কারা কর্তৃপক্ষ। বার্তা পেয়ে আজ সকালে মুফতি হান্নানের স্ত্রী, দুই মেয়ে ও বড় ভাই কারাগারে আসেন।

কারাগারের জ্যেষ্ঠ তত্ত্বাবধায়ক মো. মিজানুর রহমান জানান, মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে গতকালই ফাঁসির মঞ্চ পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে। শামিয়ানা টাঙানো হয়েছে। জল্লাদদেরও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

আজ বুধবার ফাঁসির রায় কার্যকর করা হতে পারে বলে জানিয়েছে কারা কর্তৃপক্ষ।

এদিকে তাদের ফাঁসি কার্যকরের সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে জানান জেল সুপার। কারাগারে জল্লাদ ও ফাঁসির মঞ্চ সবকিছুই প্রস্তুত আছে। ইতিমধ্যে ফাঁসির মহড়া সম্পন্ন করা হয়েছে।

ফাঁসি কার্যকরের সম্ভাবনার আলোকে গতকাল মঙ্গলবার বিকাল থেকে কারাগার ও আশপাশের এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। পোশাকে-সাদা পোশাকে পুলিশ তাদের দায়িত্ব পালন করছে। পুলিশসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ও তৎপর রয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৪ সালের ২১ মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (র.) মাজারে আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়। হামলায় আনোয়ার চৌধুরী, সিলেটের জেলা প্রশাসকসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত এবং পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত হন। ওই মামলায় ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদণ্ড এবং মহিবুল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেয় আদালত।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক