বান্দরবানের লামায় মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স

বান্দরবানের লামায় মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স

মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স নামটি খুব বেশি পরিচিত নয় ভ্রমণ-প্রিয় মানুষদের কাছে। কিন্তু বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় অবস্থিত এই কমপ্লেক্সটি স্থানীয় মানুষদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কক্সবাজার থেকে কাছে হওয়ায় যারা কক্সবাজারে যান, তারাও সুযোগ পেলে এখান থেকে ঘুরে যেতে পারবেন। মিরিঞ্জা পাহাড়টি টাইটানিক পাহাড় বলেও পরিচিত।

কোথায়: বান্দরবান জেলার লামা উপজেলায় চকরিয়া থেকে যাবার পথে অবস্থিত এই পর্যটন কমপ্লেক্সটি।

কীভাবে: ঢাকা থেকে সরাসরি বাস সার্ভিস আছে কক্সবাজারের। সেই বাসে করে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে নামতে হবে কক্সবাজারের আগেই, চকরিয়াতে। চকরিয়া থেকে লামা যাবার বাসে করে রওনা দেবেন। আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময়ের মাঝেই আপনি মিরিঞ্জাতে পৌঁছে যাবেন। ভাড়া নেবে ৫০-৭০ টাকা। ঢাকা থেকে প্রায় সবগুলো বাস কোম্পানি কক্সবাজারে যায়। চট্টগ্রাম থেকেও কক্সবাজারগামী বাসে চকরিয়াতে নামতে পারেন আপনি।

কী দেখবেন: সমুদ্র-সমতল থেকে প্রায় ১৬০০ ফুট উঁচু মিরিঞ্জা পাহাড়। মাথার ওপর নীল আকাশে সাদা মেঘের ঘনঘটা। কখনও ঘুরতে ঘুরতে হয়ত আপনি নিজেই ঢুকে যাবেন মেঘের ভেতরে। পাহাড়ের নিচে ঝর্ণা, চূড়ায় আদিবাসীদের (মুরং, ত্রিপুরা-সম্প্রদায়ের) টংঘর, সবুজ গাছপালা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ঘেরা বান্দরবানের পর্যটন কেন্দ্রগুলোর মাঝে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স অত্যন্ত আকর্ষণীয় বলে জানা যায় পর্যটকদের কাছে। পাহাড়ের মাথায় দাড়িয়ে সূর্যাস্তের সৌন্দর্যও অত্যন্ত চমৎকার।

এখানে পর্যটকদের সুবিধার কথা ভেবে নির্মাণ করা হয়েছে সুরম্য গিরি-দ্বার ও রেস্ট হাউস-কাম ওয়েটিং শেড বনরত্না। আপনজনকে নিয়ে নির্জনে বসে গল্প করার জন্য আছে দুই স্তরের গোলঘর মালঞ্চ। আছে টেলিস্কোপ ঘর ও প্ল্যাটফর্ম। জোছনারাতে পূর্ণ চাঁদ দেখা যাবে গোলঘর থেকে। শিশুদের জন্য রয়েছে মিনি শিশু-পার্ক। খাওয়াদাওয়া করা যাবে শিশু-পার্কের সাথেই থাকা রেস্তোরাঁয়। ভ্রমণের সময় দেখা মেলে বনমোরগ, খরগোশ কিংবা মায়াবী বুনো হরিণের ছোটাছুটি। দিনের প্রথম ভাগে এলে এক-দেড় ঘণ্টার মধ্যে মিরিঞ্জা পর্যটন কমপ্লেক্স ঘুরে যে কেউ চাইলেই চলে যেতে পারেন ডুলা-হাজরা সাফারি পার্ক অথবা কক্সবাজার ভ্রমণে। আবার যদি মনে চায়, তাহলে দিনভর থেকে সন্ধ্যায় ফিরতে পরেন লামা বাজারে।

কোথায় থাকবেন: লামা উপজেলার লামাবাজারে আছে বেশ কিছু উন্নতমানের হোটেল। সহজেই রাতে থেকে যেতে পারবেন লামায়।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট