৫৮ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

৫৮ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি

 

স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের অনুষ্ঠান চরমপত্রের উপস্থাপক এম আর আকতার মুকুলসহ একাত্তরের ৫৮ জন শব্দ সৈনিককে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের ৪৪তম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে অংশগ্রহণকারী এবং মুক্তিযুদ্ধকালে গঠিত সাংস্কৃতিক সংগঠনের এই শব্দ সৈনিকদের মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দিয়ে সোমবার আদেশ জারি করেছে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়।

এর আগে গত বছরের ১৫ নভেম্বর ১০৮ জন শব্দ সৈনিককে মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দেওয়া হয়। এ পর্যন্ত মোট ২৫৩ জনকে এই স্বীকৃতি দিয়ে গেজেট প্রকাশ করল আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকার।

মাহজাবীন বেগম (কুইন), পরিতোষ কুমার সাহা, মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম (অনু ইসলাম), মো. আজহারুল ইসলাম, মো. আবু নওশের, প্রয়াত সারোয়ার জাহান, প্রয়াত রেজওয়ানুল হক, আ ম শারফুজ্জামান, এ এম শফিউর রহমান (দুলু), প্রয়াত মো. হযরত আলী বয়াতী, মহিউদ্দিন আহমেদ, মেসবাহ উদ্দিন আহমেদ ও মঞ্জুশ্রী নিয়োগী এবার মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি পেয়েছেন।

প্রয়াত সুবল দত্ত, আমিনুর রহমান, মৃণাল ভট্টাচার্য, প্রয়াত প্রবাল চৌধুরী, উমা খান, কল্যাণী ঘোষ, সুজিত রায়, একরামুল হক চৌধুরী, গীতশ্রী চৌধুরী, প্রয়াত শাহ সালাউদ্দিন সাজ্জাদ, প্রয়াত হরেন্দ্র চন্দ্র লাহিড়ী, মিলন ভট্টাচার্য্য, অনামিকা নেওয়াজ (অনামিকা চাকলাদার), এস এম মহসিন, ছায়া রায়, প্রয়াত গজেন্দ্র লাল রায়, জয়শ্রী চৌধুরী, মোহাম্মদ সিরাজউদ্দিন, আবু বকর সিদ্দীক প্রধান, এস কে কে সিদ্দিক, মোজাম্মেল হক, সাজেদা খাতুন, খামিরুল ইসলাম প্রধান, আবুল কালাম আজাদ ও প্রয়াত মোশারফ হোসেন মশুর নামও এসেছে মুক্তিযোদ্ধা স্বীকৃতির গেজেটে।

এছাড়া ধীরেন্দ্র নাথ নমদাস, প্রয়াত শমসের আলী প্রধান, মালা খুররম, শিবু রায়, শুক্লা ভদ্র, এনামুল হক, প্রয়াত ফয়েজ আহমদ, নিরঞ্জন অধিকারী (সবুজ চক্রবতী), ফকির আলমগীর, প্রয়াত এম আর আকতার মুকুল, প্রয়াত জহুরুল হক, সুভাষ দত্ত, বেগম মুশতারি শফি, সুব্রত সেনগুপ্ত, চিত্তরঞ্জন ভুইয়া, প্রয়াত খন্দকার রাজু আহমেদ, তিমির নন্দী, ডা. দিলীপ কুমার ধর, বেগম ফিরোজা চৌধুরী ও প্রয়াত ম. মামুনের নামে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার।

একাত্তরে বাঙালির স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনায় এই শব্দ সৈনিকদের গড়ে তোলা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এ দেশের মুক্তিকামী মানুষকে নয়টি মাস প্রেরণা যুগিয়েছে।

১৯৭১ এর ২৫ মার্চ কালরাতে দশজন সাহসী সৈনিকের উদ্যোগে চট্টগ্রামের কালুরঘাটে স্বাধীন বাংলা বিপ্লবী বেতার কেন্দ্রের কাজ শুরু হয়। ৩০ মার্চ সেখান থেকেই প্রথমবারের মতো শোনা যায় ‘জয় বাংলা, বাংলার জয়।’ ওইদিন দুপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলায় এ বেতার কেন্দ্রের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।

কালুরঘাটের পতনের পর শব্দযোদ্ধাদের দুটি দলের চেষ্টায় আগরতলা ও ত্রিপুরার বিভিন্ন জায়গা থেকে বেতার কেন্দ্রের কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া হয়। ১০ এপ্রিল মুজিবনগরে বাংলাদেশের অস্থায়ী সরকার গঠিত হওয়ার পর ভারত সরকারের সহায়তায় কলকাতার বালিগঞ্জ সার্কুলার রোড থেকে সম্প্রচার শুরু করে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র।

অস্ত্র হাতে মুক্তিযোদ্ধাদের পাশাপাশি স্বাধীন বাংলা বেতারের শব্দসৈনিকদের কণ্ঠ যুদ্ধ চলে স্বাধীনতার আগ পর্যন্ত।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক