আদালতের বিবেক তখন কোথায় ছিল : প্রধানমন্ত্রী

আদালতের বিবেক তখন কোথায় ছিল : প্রধানমন্ত্রী

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর আদালতসহ বিভিন্ন মহলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। তিনি বলেছেন, ‘এখন তো কত বিষয়ে দেখি রিট হয়, সুয়োমোটো হয়। কিন্তু তখন যে এত বড় অন্যায় হলো, তখন উচ্চ আদালতের বিবেক কোথায় ছিল? বিবেক কি বন্দি ছিল?’ তিনি আরো বলেন, ‘বাংলাদেশে এত বড় বড় আইনজীবী থেকে শুরু করে এত বিবেকবান মানুষ ছিলেন, তাঁরা তো সেভাবে কোনো প্রতিবাদ করেননি। হাতে গোনা কয়েকজন প্রতিবাদ করেছিলেন। তাঁরাও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ’

গতকাল বুধবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ঢাকা মহানগর আওয়ামী লীগ উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত জাতীয় শোক দিবসের আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতার চার বছরের মধ্যে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে হত্যা করা হয় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা বলেন, ‘পঁচাত্তরের পর ২১ বছর যারা ক্ষমতায় থেকেছে তারাই বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে, পুরস্কৃত করেছে। তাদের বিভিন্ন দেশের দূতাবাসে চাকরি দিয়েছে। খালেদা জিয়া খুনিদের সংসদ সদস্য বানিয়ে সংসদে বসিয়েছে। বঙ্গবন্ধুর খুনি হুদা, রশীদকে সংসদ সদস্য বানিয়ে বিরোধী দলের আসনে বসিয়েছিল।

যুদ্ধাপরাধীদের হাতে পতাকা তুলে দিয়ে মন্ত্রী বানিয়েছিল। ’

বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারকে নিয়ে অপপ্রচার করা হয়েছে অভিযোগ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বাবা ত্যাগী একজন মানুষ ছিলেন। কিন্তু তাঁর বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে। আমাদের সবার বিরুদ্ধে অপপ্রচার করা হয়েছে। ’

১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসার পর তাঁকে বঙ্গবন্ধু ভবনে ঢুকতে দেওয়া হয়নি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাকে বঙ্গবন্ধু ভবনে ঢুকতে দেয়নি। ওই সময় খুনি জিয়া আমাকে বাড়ি দেওয়ার প্রস্তাব করেছিল। কিন্তু একজন খুনির কাছ থেকে বাড়ি নিতে প্রস্তুত ছিলাম না। ওই সময় আমার কোনো বাড়ি ছিল না; মেজ ফুফু, ছোট ফুফুর ভাড়া বাসায় থাকতাম। সেটাও ভালো। কিন্তু খুনির হাত থেকে বাড়ি নেওয়ার প্রবৃত্তি ছিল না। ’

পরবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি নানা রকম টালবাহানা শুরু করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন যতই সামনে ঘনিয়ে আসছে তাদের (বিএনপির) আবারও নানা রকম অজুহাত। ’

সভায় প্রধানমন্ত্রী বিএনপি-জামায়াত জোটের ‘দুঃশাসনের’ কথাও মনে করিয়ে দেন। বিপরীতে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নচিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ এখন উন্নয়নে সকলের কাছে বিস্ময়। এটা আমরা করতে পেরেছি একটাই কারণে যে জাতির পিতার আদর্শ মেনে তাঁর নীতি অনুসরণ করে, তাঁর প্রদর্শিত পথ ধরে দেশ পরিচালনা করছি। ’

ঢাকা দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবুল হাসনাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ড. আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক খান, দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

কেউ না খেয়ে থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ইতিমধ্যে বিদেশ থেকে খাদ্যশস্য আমদানি শুরু করেছে, যাতে দেশে খাদ্য সংকট দেখা না দেয়।

গতকাল নিজ কার্যালয়ে ‘প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে’ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার অনুদানের চেক গ্রহণের সময় প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে, কেউই ক্ষুধার্ত ও গৃহহীন থাকবে না এবং সবাই স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা পাবে। ’

সাম্প্রতিক বন্যার কথা উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘মাঝে মাঝে প্রাকৃতিক দুর্যোগ আসবে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েই আমাদের বসবাস করতে হবে। আর এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমাদের মোকাবেলাও করতে হবে এবং আমরা তা পারি। সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। ’

এই দুর্যোগে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তাদের সহায়তা দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যাদের ফসল নষ্ট হয়েছে তাদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, যাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত তাদের আবার ঘরবাড়ি করে দেওয়া থেকে শুরু করে সব রকম সহায়তা করছি। এ দেশের কোনো মানুষ গৃহহারা থাকবে না, না খেয়ে থাকবে না। ’

উন্নয়নের যে ধারার কারণে বাংলাদেশ বিশ্বে প্রশংসিত হচ্ছে, সে ধারা অব্যাহত রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘২০১৪ সালে পুনরায় ক্ষমতায় আসতে পেরেছি বলেই উন্নয়নের ধারাটা অব্যাহত আছে, যার সুফলটা দেশের মানুষ পাচ্ছে। আজকে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বের কাছে বাংলাদেশ উন্নয়নের রোল মডেল। আমাদের এটা ধরে রাখতে হবে, এই অগ্রযাত্রাটা, উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যেন বজায় থাকে। ’

অনুদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘এই দেশটাকে উন্নয়নের জন্য সব রকম প্রচেষ্টাই আমরা চালিয়ে যাচ্ছি। আমাদের উন্নয়ন নীতিমালার মূল লক্ষ্য হচ্ছে, গ্রামের তৃণমূল পর্যায়ের মানুষ। তাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের কথা চিন্তা করেই আমরা উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাজেট প্রণয়ন করি এবং তা বাস্তবায়ন করি। ’

ত্রাণ তহবিলে সৎসঙ্গ বাংলাদেশের পক্ষে পাঁচ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে। এ সময় সৎসঙ্গ বাংলাদেশের সম্পাদক ধ্রুবব্রত আদিত্য, সহসম্পাদক সুব্রত আদিত্য, নিখিল মজুমদার ও সুমন দাশ উপস্থিত ছিলেন। বন্যার্তদের সাহায্যার্থে এগিয়ে আসার জন্য সৎসঙ্গ বাংলাদেশকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট