৮ বছর ৭ মাসে ৩৮৮ জন গুমের শিকার : অধিকার

৮ বছর ৭ মাসে ৩৮৮ জন গুমের শিকার : অধিকার

২০০৯ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০১৭ সালের ৩১ জুলাই পর্যন্ত ৮ বছর ৭ মাসে দেশে ৩৮৮ জন গুমের শিকার হয়েছেন। গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস উপলক্ষে ঘোষণাপত্রে মানবাধিকার সংস্থা অধিকার এই তথ্য উল্লেখ করেছে। এতে বলা হয়েছে, অধিকার তখনই গুমের ঘটনা লিপিবদ্ধ করে, যখন গুম হওয়া ব্যক্তির পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা এই বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্য পরিচয় দিয়ে তাকে তুলে নেয়া হয়েছে।

গতকাল ৩০ আগস্ট ছিল গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস। অধিকারের সাথে সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা ভিকটিম পরিবারগুলোকে সাথে নিয়ে মিছিল-সমাবেশ ও মানববন্ধনের মাধ্যমে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করেছে। একই সাথে গুম হওয়া ব্যক্তিদের তাদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেয়ার দাবি জানিয়েছে।

অধিকারের ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়, গুম মৌলিক মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। এটি রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের একটি হাতিয়ার। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষার নামে গুমজনিত অপরাধ মূলত তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োগ করা হয়, যাদেরকে রাষ্ট্র শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। গুম হওয়া ব্যক্তিরা প্রায়শই নির্যাতনের শিকার হন এবং তাদের জীবন নিয়ে তারা সব সময় ভীত সন্ত্রস্ত থাকেন। তাদের এবং তাদের পরিবারগুলোকে গুমের মাধ্যমে সব ধরনের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়। এমনকি তারা আইনী সুরক্ষা থেকেও বঞ্চিত থাকেন। গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্ত্রী সন্তানরা আর্থিক ও সামাজিকভাবেও তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত হন।

অধিকার জানায়, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিনিয়ত এই গুমের বিষয়টি অস্বীকার করা হচ্ছে, এমনকি বলা হচ্ছে যে, তারা নিজেরাই আত্মগোপন করে আছেন, যা গুম হয়ে যাওয়া ব্যক্তিদের স্বজনদের জন্য অত্যন্ত অবমাননাকর। সরকারের পক্ষ থেকে গুমের বিষয়টি অস্বীকার করা হলেও সাতক্ষীরা জেলার একজন সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটর তদন্ত প্রতিবেদন থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে গুমের ঘটনাগুলো অব্যাহতভাবে ঘটছে। এ ছাড়াও গুম বন্ধের জন্য বাংলাদেশ সরকারকে পদক্ষেপ নিতে ইতোমধ্যেই আহ্বান জানিয়েছে জাতিসঙ্ঘের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলান্টারি ডিসঅ্যাপেয়ারেন্সস। অধিকার মানবাধিকার পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য কাজ করছে এবং বাংলাদেশের জনগণের নাগরিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার রক্ষায় মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। এ কাজ করতে যেয়ে অধিকার এবং এর সংশ্লিষ্ট মানবাধিকার কর্মীরা প্রায়শই রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের শিকার হচ্ছে বলে ঘোষণাপত্রে উল্লেখ করা হয়।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট