আমদানি দায় পরিশোধ না করায় ১০ ব্যাংকের জরিমানা : ৯টিকে শোকজ

আমদানি দায় পরিশোধ না করায় ১০ ব্যাংকের জরিমানা : ৯টিকে শোকজ

প্রায় ৪০০ কোটি টাকার আমদানি বিল পরিশোধ না করায় ১০ ব্যাংকের জরিমানা ও ৯টিকে শোকজ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে চারটি সরকারি ও ১৫টি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক রয়েছে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে বকেয়া দায় পরিশোধ না করলে ১০ ব্যাংককে এক লাখ টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে। আর ৯টি ব্যাংকের বিরুদ্ধে কেন জরিমানা আরোপ করা হবে না তার কারণ জানাতে ১৫ দিনের সময় দেয়া হয়েছে। ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৯৯১ (২০১৩ সংশোধিত) ১০৯(৭) মোতাবেক ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে বলে বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানিয়েছে।

যে ১০টি বাংকের জরিমানা আরোপ করা হয়েছে এর মধ্যে রয়েছে জনতা ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, দি ফার্মাস ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক ও ব্যাংক এশিয়া। আর শোকজ করা ৯ ব্যাংকের মধ্যে রয়েছেÑ ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড, ইউনিয়ন ব্যাংক, সোনালী ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ও ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংকগুলো যথাসময়ে আমদানি বিল পরিশোধ না করায় দেশের সুনাম যেমন ুণœ হচ্ছে, তেমনি আমদানি দায় যথাসময়ে পরিশোধ না করায় ওইসব ব্যাংকের আমদানির জন্য অন্য প্রতিষ্ঠানের গ্যারান্টি দিতে হচ্ছে। এতে আমদানি ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি স্বীকৃত বিলের দায় যথাসময়ে পরিশোধ না করায় পরে একসাথে পরিশোধ করতে গিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ বেড়ে যাচ্ছে। সব মিলে তহবিল ব্যবস্থাপনায় একধরনের বিশৃঙ্খলা দেখা দিচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পরিসংখ্যান থেকে দেখা যায়, আলোচ্য ব্যাংকগুলো স্থানীয় ৭৩৯টি বিলের দায় পরিশোধ করেনি। এর বিপরীতে অর্থ আটকে রয়েছে দুই কোটি ৫১ লাখ ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় ২০১ কোটি টাকা। আর ২৬০টি বৈদেশিক স্বীকৃত বিলের বিপরীতে আটকে রয়েছে প্রায় দুই কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৬০ কোটি টাকা। এর মধ্যে রূপালী ব্যাংকের স্থানীয় ও বৈদেশিক বিল মিলে ৯৫টি স্বীকৃত বিলের বিপরীতে আটকে রয়েছে এক কোটি ৫৭ লাখ ৬৪ হাজার ৮৮৭ কোটি ডলার। অগ্রণী ব্যাংকের ১৯৭টি বিলের বিপরীতে ৫৪ লাখ ৭৫ হাজার ডলার, জনতা ব্যাংকের ১৮৩টি বিলের বিপরীতে ৪৩ লাখ ৪১ হাজার ডলার, দি ফার্মাস ব্যাংকের ৭৫টি বিলের বিপরীতে ৪২ লাখ ৬৭ হাজাজার ডলার, পূবালী ব্যাংকের ৯৭টি বিলের বিপরীতে ২৭ লাখ ৭৯ হাজার ডলার রয়েছে, ইসলামী ব্যাংকের ৯টি বৈদেশিক বিলের বিপরীতে ১৩ লাখ ৮৫ হাজার ডলার রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এসব বকেয়া স্বীকৃত বিলের বিপরীতে কোনো মামলা নেই। পাশাপাাশি এসব বকেয়া বিল গত জুন পর্যন্ত। যাদের জরিমানা করা হয়েছে তারা ১০ কার্যদিবসের মধ্যে বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে প্রতিটিকে এক লাখ টাকা করে জরিমানা গুনতে হবে। আর যাদেরকে শোকজ করা হয়েছে তাদেরকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। তাদের জবাব সন্তোষজনক না হলে ওইসব ব্যাংককেও জরিমানা গুনতে হবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট