স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে ‘আত্মঘাতী’ নিয়োগ ডেরায়! চাঞ্চল্যকর নথি প্রকাশ্যে

স্ট্যাম্প পেপারে সই করিয়ে ‘আত্মঘাতী’ নিয়োগ ডেরায়! চাঞ্চল্যকর নথি প্রকাশ্যে

আত্মঘাতী বাহিনী শুধু সন্ত্রাসবাদী সংগঠনগুলোর থাকে না। ধর্মগুরুদেরও থাকে।

ডেরা সচ্চা সৌদার প্রধান জেলে যাওয়ার পর থেকে ডেরার যে সব গোপন নথিপত্র সামনে আসছে, তা থেকেই উঠে আসছে এই তথ্য। রীতি মতো ‘আত্মঘাতী বাহিনী’ তৈরি করে ফেলেছিলেন ডেরা অনুগামীরা। স্ট্যাম্প পেপারে হলফনামা লিখে ‘আইনসম্মত’ ভাবে ‘আত্মঘাতী বাহিনী’র সদস্য করা হয়েছিল অনেককে। বাবা রাম রহিমের বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলার তদন্ত গতি পেতেই সেই বাহিনীকে আবার সক্রিয় করে তোলা হচ্ছিল। গোয়েন্দাদের কাছে তেমনই খবর ছিল। এ বার হাতেনাতে তার প্রমাণও মিলতে শুরু করেছে।

‘‘ডেরা সচ্চা সৌদা যে মানবতার জন্য কাজ করে, সেই মানবতার জন্য আমি আমার জীবনকে উৎসর্গ করেছি। আমি যদি কোনও দুর্ঘটনায় বা অন্য কোনও কারণে মারা যাই, তা হলে আমিই তার জন্য দায়ী থাকব। আমার মৃত্যুর জন্য অন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না। ডেরা সচ্চা সৌদাও আমার মৃত্যুর জন্য দায়ী থাকবে না। আমার মৃত্যুর জন্য আমার উত্তরসূরিরা বা আমার পরিবারের কেউ ডেরা সচ্চা সৌদাকে দায়ী করতে পারবে না।’’ হরিয়ানার সিরসার এক বাসিন্দার সই করা হলফনামা এটি। রেজিস্টার্ড স্ট্যাম্প পেপারের উপর এই বয়ান লিপিবদ্ধ। নীচে সই করেছেন ইন্দু নামে এক জন।

একটা নয়, এই রকম হলফনামা শ’য়ে শ’য়ে রয়েছে বলে খবর। গুরমিত রাম রহিম সিংহ দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ধর্ষণ মামলায় জেলে গিয়েছেন। তার পর থেকেই সিরসায় ডেরা সচ্চা সৌদার সদর দফতরের অন্দরমহলের নানা চাঞ্চল্যকর খবর বাইরে আসতে শুরু করেছে। ডেরা সচ্চা সৌদার জন্য তাঁরা মরতে প্রস্তুত এবং মৃত্যুর জন্য মৃত নিজেই দায়ী থাকবেন, এমন বয়ানে অনুগামীদের দিয়ে সই করিয়ে নেওয়া হচ্ছিল, এই তথ্য সাম্প্রতিকতম সংযোজন।

ডেরা সচ্চা সৌদার অন্দরমহলে নানা চাঞ্চল্যকর রহস্য লুকিয়ে রয়েছে বলে পুলিশ-প্রশাসনের কাছে খবর। রাম রহিম জেলে যেতেই একে একে সামনে আসছে সে সব তথ্য। —প্রতীকী ছবি।

গুরমিত রাম রহিম সিংহের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগের তদন্ত গতি পেতেই আত্মঘাতী বাহিনীকে সক্রিয় করে তোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছিল বলে গোয়েন্দাদের দাবি। যাঁরা হলফনামায় তথা সুইসাইড নোটে সই করছিলেন, তাঁরা যে কোনও অঘটন ঘটাতে প্রস্তুত ছিলেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে খবর ছিল। তদন্ত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে প্রয়োজনে আত্মঘাতী হামলা চালাতেও এই ডেরা অনুগামীরা প্রস্তুত ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রের খবর।

২০০৫ সালে শীলা রানি নামে এক ডেরা অনুগামী হলফনামায় সই করে আমরণ অনশনের কথা ঘোষণা করেছিলেন বলেও জানা গিয়েছে। সিরসার বাসিন্দা শীলা রানি হলফনামায় লিখেছিলেন, ‘‘প্রায় তিন বছর ধরে সিবিআই ডেরার বিষয়ে তদন্ত করছে এবং তদন্তকারীরা ডেরা প্রধানকে, ডেরার ম্যানেজারদের এবং সেবাদারদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। কারও কাছ থেকে কোনও চাপে না পড়েই আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি, সিবিআই মামলাগুলি প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমি অনশন করব। তাতে যদি আমি মারা যাই, তা হলে তার জন্য আমি নিজেই দায়ী থাকব…।’’

পুলিশ-প্রশাসন ডেরা সচ্চা সৌদার এই ‘আত্মঘাতী বাহিনী’র কথা জানত না, এমন কিন্তু নয়। গোয়েন্দাদের কাছে খবর আগেই ছিল। মোকাবিলার কৌশলও সম্ভবত স্থির করা হয়েছিল। কিন্তু কোনও অকাট্য প্রমাণ হাতে ছিল না। রাম রহিম গ্রেফতার হওয়ার পর খুলে গিয়েছে প্যান্ডোরার বাক্স।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট