রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে আগ্রহ বাড়ছে

রোহিঙ্গাদের বায়োমেট্রিক নিবন্ধনে আগ্রহ বাড়ছে

বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় রোহিঙ্গাদের আগ্রহ বেড়েছে। গত তিনদিনে নিবন্ধন হয়েছে অন্তত ২ হাজার রোহিঙ্গার। জেলা প্রশাসন এবং ইমিগ্রেশন পাসপোর্ট অফিসের সহযোগিতায় বিজিবির সদস্যরাই করছে এই নিবন্ধনের কাজ।

মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের এই দীর্ঘ সারি দেখে অনেকেই ভুল করে হয়তো বলে বসবেন– এ হচ্ছে ত্রাণের অপেক্ষা। কিন্তু এই অপেক্ষা ত্রাণের নয়, তারা এসেছেন নিবন্ধিত হতে। জীবনে প্রথমবার ছবি সম্বলিত একটি পরিচয়পত্র মিলবে এই আশায়।

একজন রোহিঙ্গা বলেন,” আমরা এখানে চলাফেরা করতে পারি মত, বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে রোহিঙ্গা কার্ড দিবে বলেছে তার জন্য এখানে আসা”।

আরেক রোহিঙ্গা বলেন,” বার্মায় ছিলাম ৫০ বছর হলো, এখনও আমরা বার্মার প্রধানমন্ত্রীকে দেখিনি। কিন্তু এদেশের প্রধানমন্ত্রী এসে আমাদের জন্য কার্ডের ব্যবস্থা করে দিচ্ছেন”।

অন্য আরেক রোহিঙ্গা বলেন,” বার্মা থেকে বাংলাদেশে এসেছি খুব কষ্ট পেয়ে,এ দেশে এসে সরকার আমাদের একটা কার্ড দিয়েছে। তার জন্য নাম ঠিকানা গ্রামের নাম আমাকে দিতে হয়েছে। আমি বাংলাদেশ সরকারের জন্য দোয়া করছি”।

বাংলাদেশে অবস্থানরত মিয়ানমারের সব রোহিঙ্গাই নিবন্ধনের আওতায় আসবে উল্লেখ করে, দ্রুত এই কর্মসূচির পরিধি বাড়ানোর কথা জানালেন বিজিবির এই কর্মকর্তা।

কক্সবাজারের রোহিঙ্গা নিবন্ধন কার্যক্রমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফ বলেন,” আমরা আসতে আসতে রেজিট্রেশনের কাজ বিভিন্ন স্টেশনে বৃদ্ধি করব। কনভিনিয়েন্ট প্লেস খুঁজে পেলে আমরা আরো ১০-২০ টা বিভিন্ন জায়গায় রেজিট্রেশনের কাজগুলো শুরু হবে”।

রোহিঙ্গা শরণার্থীর তথ্যভাণ্ডার তৈরি এবং রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে এই কার্যক্রম বড় ভূমিকা করবে– আশা করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন,” নিবন্ধন না করলে পরে আমরা একটা সংকটে পরব। কাজেই আমাদের একটা ডাটা বেস করা দরকার। এবং সেটা আমরা শুরু করেছি । প্রধানমন্ত্রী আসার পর থেকেই এই কাজটি আরও গতি পেয়েছে”।

ইউএনএইচসিআর এর হিসাবে, মিয়ানমারের রাখাইনে সাম্প্রতিক সেনা অভিযানের কারণে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে অন্তত ৩ লাখ ৮০ হাজার রোহিঙ্গা। এদের মধ্যে অনেকেই উখিয়া এবং টেকনাফের আশ্রয় শিবির ছেড়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গেছে। তাই সব রোহিঙ্গার নিবন্ধন নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক