৩৬ হাজার ফুট উপরে গিয়ে শ্যুট করার অভিজ্ঞতা জানালেন দেব-রুক্মিণী

৩৬ হাজার ফুট উপরে গিয়ে শ্যুট করার অভিজ্ঞতা জানালেন দেব-রুক্মিণী

বিকেল ৫ টায় ল্যান্ড করার কথা ছিল প্লেনের। অবশেষে ৬ টা’র সময় সেফলি ল্যান্ড করল পাইলট দিব্যেন্দু রক্ষিতের ফ্লাইট। প্লেন থেকে নেমেই এসে পৌঁছলেন নিজের রেস্তোরাঁয়। পাইলটের সঙ্গে ছিলেন তাঁর সুন্দরী এয়ার হস্টেস । পাইলট দিব্যেন্দু রক্ষিত অর্থাৎ দেব আর সুন্দরী এয়ার হস্টেস হলেন রুক্মিণী। kolkata24x7 এর প্রতিনিধি অতসী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁদের ছবি ‘ককপিট’ নিয়ে চলল বহুক্ষণ আড্ডা।

kolkata24x7: ‘চ্যাম্পে’র সফলতার পর আবারও ‘ককপিট’ কতটা এক্সাইটেড?

দেব: প্রচণ্ড নার্ভাস। চ্যাম্প আজ মনে হচ্ছে খুব সোজা, কারণ ককপিটের কাছে এটা কিছুই না। ককপিটের মত ছবি প্রডিউস করা খুব টাফ। আর সেই কারণেই বোধহয় এরকম ছবি আগে হয়নি। আমিও খুব প্রাউড যে এরকম একটা ছবি করতে পেরেছি।কালকে যখন লেখা হবে যে প্লেন নিয়ে কি কি ছবি হয়েছে তো আমার মনে হয় এই বাংলা ছবি ককপিটের নাম সবথেকে উপরে থাকবে। ২২ সে সেপ্টেম্বর ছবিটা মুক্তি পাচ্ছে তো দর্শক দেখেও বলবে যে হ্যাঁ এরকম একটা ছবি সবচেয়ে উপরে রাখা যায়।

দ্বিতীয় ছবি কতটা এক্সাইটেড?

রুক্মিণী: খুবই এক্সাইটেড অ্যান্ড নার্ভাস।চ্যাম্প তো ছিল একটা চ্যালেঞ্জ ককপিট তার থেকেও বড় চ্যালেঞ্জ।খুবই ডিফিকাল্ট ক্যারেক্টার। ককপিট একটা ব্র্যান্ড নিউ সাবজেক্ট। ককপিট ছবিটির জন্য বহু কিছু শিখেছি। প্লেনে কীভাবে এয়ার হস্টেসরা কাজ করে, কতটা কঠিন তাঁদের কাজ । সব কিছু শিখতে হয়েছে। আশা করি দর্শকে দের এরকম একটা টপিক নিয়ে কাজ করা ছবি খুবই ভালো লাগবে।

দেব দা এর আগে দর্শক তোমায় নানা চরিত্রে দেখেছে প্রথমবার পাইলটের চরিত্রে কি বলবে?

দেব: দিব্যেন্দু রক্ষিত আমার ক্যারেক্টারের নাম। খুবই প্রফেশনাল ক্যারেক্টার। খুবই ডিসিপ্লিন রয়েছে তার চরিত্রে। সাধারণত পাইলটরা খুবই ডিসিপ্লিনড হয়।সে খুব সিরিয়াস কারণ তার উপর কয়েকশো মানুষের দায়িত্ব। আমার মনে হয় কি এরকম ক্যারেক্টার আগে হয়নি। আমি খুব লাকি যে আমার প্রডিউসার এই চরিত্র টা দিয়েছে। সেই জায়গা থেকে এক কথায় বলব খুব ডিফিকাল্ট ছিল। কারণ ৯০ % কাজ টাই হয়েছে ককপিটে।

আর পুরো এক্সপ্রেশন টাই মুখের উপর দিয়ে করা হয়েছে। তাই খুব কঠিন সেটা। গতবছর জুলফিকার রিলিজ করেছিল পুজোয়।যেটায় আমার বোবার চরিত্র ছিল। তার জন্য প্রায় ৬ মাস ধরে প্রিপারেশন নিয়েছিলাম। আর এই ছবিটাও শুধুমাত্র ফেসিয়াল এক্সপ্রেশনের উপর তো এটাও আরও বেশি ডিফিকাল্ট ছিল। ফ্লাইটে যদি কোন প্রবলেম হয় তাহলে পাইলট সেটা নিজের মধ্যেই রাখে প্রথমে। তার পর অন্যদের জানাতে বাধ্য হয়। আর এই ছবিতে সেই টেনশন টাই দেখা যাবে যে,পাইলটের কাজ টা কতটা কঠিন।

পরিচালনায় কবে পাব?

দেব: সম্ভবত নেক্সট ইয়ার। চেষ্টা চালিয়ে যাব।

অনেকেই বলছে প্রযোজক দেব অনেক বড় বড় প্রযোজকের রাতের ঘুম উড়িয়েছে তুমি কি বলবে?

দেব: সত্যি?দেখ কিছুদিন পর তোমারও মনে হবে তুমি সেই একই কাজ করছ। আমার ও এটাই মনে হয়েছে কি সেই দেব সেই রুক্মিণী সবই একরকম। তো আমি ডিফারেন্ট কিছু ট্রাই করতে চেয়েছিলাম। অনেক সময় আমরা নতুন কিছু করতে চাই বাট করতে পারিনা। হয়ত সেই সাপোর্ট পাইনা। আমি আমার ককপিটের কনসেপ্ট অনেকদিন আগেই জানিয়েছিলাম অনেককে। তারা তখন পালিয়ে গেছিল। বলল কি বলছিস ভাই ফ্লাইট নিয়ে কাজ……তারা তখন খিল্লি করেছিলো। তবে আজ যে কাজটা করেছি সবাই বলছে বাহ কত ইজি। আমি আসলে এই ধরনেই ছবি করতে চাই। তাই আমি প্রযোজনায় এসেছি। একেবারে আলাদা করতে চাই সবার থেকে।এটাই বলব আমি কারও ঘুম উড়িয়েছি কিনা জানিনা তবে আমি ঘুমাতে পারছিনা এটুকু জানি। আই ওয়ান্ট টু ডু ডিফারেন্ট। ৩৬ হাজার ফিট উপরে উড়ে গিয়ে শ্যুট করাটা খুবই কঠিন ছিল।

তুমি দেখবে যে পুজোয় অনেক ছবি আসছে যেমন কাকাবাবু ব্যোমকেশ মিল আছে। সব ছবির সঙ্গেই কিছু না কিছুর মিল আছে। তবে আমার ছবি একেবারে ডিফারেন্ট। আমার ভাবনা একেবারে আলাদা। দর্শক যদি আমায় সাপোর্ট করে তাহলে আমি একেবারে আলাদা ছবি এইভাবেই করে যেতে পারব।

রুক্মিণী তোমার চরিত্র টা এয়ার হস্টেসের তো সেটা প্লে করা কতটা কঠিন ছিল?

রুক্মিণী: দেখ বাইরে থেকে এয়ার হস্টেস কে যতটা গ্ল্যামারস লাগে ভেতরটা ততটাই ডিফিকাল্ট। পাইলটের পরেই বলা যায় এয়ার হস্টেসের স্থান। কারণ কি পাইলট এর উপর যেমন প্লেন চালানোর দায়িত্ব তেমনই এয়ার হস্টেস সব যাত্রী দের কে তখন টেনশন মুক্ত করতে থাকে। তো খুবই কঠিন একটা চরিত্র আমি করেছি এবং এর জন ট্রেনিং ও নিয়েছি। বহু পড়াশোনা করতে হয়েছে এই চরিত্র টার জন্য।

প্রযোজক দেব কতটা হেল্প করেছে?

রুক্মিণী: প্রযোজক দেব আমায় চ্যাম্প এ অনেক হেল্প করেছিলো এই ছবিতে সেরকম হেল্প করেনি আমায় বলত তুমি নিজেই নিজের পাইলট। তবে একটা কথা বলে রাখি প্রযোজক দেব কতটা এগিয়ে পিছিয়ে আছে তা জানিনা তবে ওর ভাবনা চিন্তা একেবারেই আলাদা। যেটা খুবই রেস্পেক্টেবল। আমি যদি ওকে শুধু প্রডিউসর হিসাবে দেখি তো হি ইজ মাইন্ড ব্লোইং।

লাস্টে দর্শকের উদ্দেশ্যে একটাই কথা তারা দুজনেই বলেছেন মা আসছেন ককপিটে। আশাকরি সকলের ভালো লাগবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট