প্রযোজক-হিরো দেবকেই মন থেকে চান কোয়েল

প্রযোজক-হিরো দেবকেই মন থেকে চান কোয়েল

রিয়া রক্ষিত একজন সাধারণ মেয়ে কিন্তু তাঁর স্বামী আবার পাইলট। সারাক্ষণ সে চিন্তায় থাকে তাঁর স্বামী(দিব্যেন্দু) কে নিয়ে। দিব্যেন্দু কি করছে,কি খাচ্ছে, ঠিক-ঠাক প্লেন ল্যান্ড করল কিনা, এই সব নিয়ে। অবশেষে যখন জানতে পারলো যে তাঁর স্বামী ঠিকই আছে তখন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিয়ে, বসলেন সাক্ষাৎকার দিতে। এই রিয়া অর্থাৎ সকলের পরিচিত কোয়েল মল্লিককে পাওয়া গেল তাঁর অন স্ক্রিন স্বামী দিব্যেন্দু-র(দেব) রেস্টুরেন্টে। kolkata24x7 হয়ে অতসী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘ককপিট’ ছবিটি নিয়ে নানা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করলেন কোয়েল।

কোয়েল: রিয়া রক্ষিত এমন একটা মেয়ে যে রক্ষণশীল পরিবার থেকে এসেছে। পূর্ব কলকাতার মেয়ে, হিস্ট্রি রিসার্চের সঙ্গে এন জি ও চালায়। রিয়া-র জীবনের গণ্ডি টা খুব ছোট। যাদের যাদের নিয়ে সে বড় হয়েছে তাঁদের কে সব সময় আঁকড়ে ধরতে চায় রিয়া। আর সেরকমই তাঁর স্বামী দিব্যেন্দু যেটা দেব করছে সে যেহেতু একজন পাইলট, তো তাকে নিয়ে সব সময় চিন্তা করে সে। ঠিক মত পৌঁছল কিনা,খাবার খেয়েছে কিনা, কি করছে, কি হল, এই সব চিন্তা সব সময় করতে থাকে রিয়া।

এই চরিত্র টা শুনে আমার ভীষণই ভালো লেগেছিল কারণ এর আগে দর্শক আমায় পাসের বাড়ির মেয়ে, একটা বাবলি চরিত্রে দেখে এসেছে। কিন্তু এই প্রথম একটা ম্যাচিয়র চরিত্র তে দেখবে। তা ছাড়াও এর আগে আমি যে কটা সিনেমা করেছি সবেতেই আমি আর দেব প্রেমিক প্রেমিকার চরিত্রে অভিনয় করেছি। তো এই প্রথম স্বামী স্ত্রীর চরিত্রে সেটা একটা অন্য রকম ব্যাপার। আর এই চরিত্রে একটা আলাদা ম্যাচুরিটি দেখতে পাবে দর্শক। থ্যঙ্কফুলি কাজটা ভালো হয়েছে কমল দা (কমলেস্বর মুখোপাধ্যায়) ভীষণ খুশি তাতে। আমার চরিত্র টা দারুণ লেগেছে কারণ এর আগে আমি রিয়া রক্ষিতের মত কোন চরিত্র করিনি। আর রিয়া খুব ধীর স্থির একটা মেয়ে যেটা আমি একেবারেই নই। তো এটাই আমার কাছে চ্যালেঞ্জ যে যেটা আমি নই সেটা করে দেখানো।

kolkata24x7: আচ্ছা প্রথমবার কমলেশ্বর মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাজ তাঁর সঙ্গে উপরি পাওনা প্রযোজক হিসাবে দেব?

কোয়েল: (হাসি) হ্যাঁ এর আগে কমল দার সঙ্গে আমার কাজ করার সৌভাগ্য হয়নি। কমল দা ভীষণ শান্ত একজন লোক। আর উনি শান্ত বলেই আমরা পুরো টিম কমফোর্টেবল ভাবে কাজ করতে পেরেছি। শ্যুট নিয়ে অনেক চিন্তা থেকেই যায় কিভাবে কি হবে না হবে তবে উনি সেই চিন্তাটা একেবারেই মাথায় নিতেন না। যাতে কাজ এফেক্টেড না হয়। আমি ওনার কাছ থেকে প্রচুর সাহায্য পেয়েছি। ভীষণ ভালো লেগেছে ওনার সঙ্গে কাজ করতে। উনি যতই গম্ভীর ছবি বানান না কেন,মানুষটা ভীষণ মজার। খুব পেছনে লাগতেন তবে। খুব খুশি আমি ওনার সঙ্গে কাজ করতে পেরে।

kolkata24x7: প্রযোজক দেব নাকি হিরো দেব?

কোয়েল: এটা তো ভীষণই টাফ প্রশ্ন।(হাসি) আমার কাছে দুটো দেব-ই খুব প্রিয়। সে প্রযোজকই বল বা হিরো। তবে আমি ওর সঙ্গে এতগুলো ছবিতে কাজ করেছি তো আমি ওর মধ্যে সেই ফোকাশড, সেই ডেডিকেশনটা বারবার দেখেছি। যার কারণেই আজ ও(দেব) এরকম একটা পজিশনে পৌঁছেছে। আর প্রোডিউসার হিসাবে তো ও খুবই ভালো কারণ আমার এখনও মনে আছে আমাদের যখন ব্যাংককে শ্যুটিং হওয়ার কথা ছিল তো আমায় ও(দেব) আগের দিনই ফোন করে বলল যে, ‘সো সরি কাল একটু তাড়াতাড়ি কল টাইম হবে। ‘ তো আমি ভাবলাম বাবা আমি এরকম আগে কোন প্রডিউসারকে সরি টরি বলতে শুনিনি। আসলে যেহেতু ও আমাদের মতোই অ্যাক্টর থেকেই প্রডিউসার হয়েছে তাই ও আমাদের কষ্টটা ও বোঝে আমাদের টাফ জার্নি টাফ শিডিউলটা বোঝে।

kolkata24x7: আচ্ছা ‘ছায়া ও ছবির’ সাফল্যের পর আবারও ‘ককপিট’ আসছে কতটা এক্সাইটেড?

কোয়েল: খুবই এক্সাইটেড। ব্যাক টু ব্যাক। হ্যাঁ ‘ছায়া ও ছবি’-র আগে অবধি সবাই আমায় বলছিল কবে রিলিজ করবে কবে আসবে তোমার মুভি। তো ফাইনালি ‘ককপিট’ রিলিজ করবে। আর তাঁর আগে ‘ছায়া ও ছবি’ দর্শক দের খুবই ভালো লেগেছে । তো সব মিলিয়ে আমি খুব এক্সাইটেড। আর আবারও অনেকদিন পর এই বছর পুজোয় ছবি মুক্তি পাবে তাঁর জন্য তো খুব বেশী বেশী খুশি।

kolkata24x7: দর্শকদের উদ্দেশ্যে কি ববে?

কোয়েল: মা আসছেন ককপিটে। আমরা পুরো টিম খুব খেটে কাজ করেছি এমন ছবি আগে সত্যি হয়নি। তাই সকলকে হলে এসে ছবিটা দেখার আর্জি জানাচ্ছি। সকলের খুব ভালো লাগবে।

 

 

 

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট