ভারত যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের

ভারত যাচ্ছেন ওবায়দুল কাদের

ভারতের জনতা পার্টির (বিজেপি) আমন্ত্রণে আগামী মাসে ভারত সফরে যাচ্ছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। তিনি আওয়ামী লীগের একটি প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন। তবে

এখন পর্যন্ত সফরের তারিখ চূড়ান্ত হয়নি। প্রতিনিধি দলে কেন্দ্রীয় কমিটির আরো কয়েকজন নেতা থাকবেন। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, অক্টোবরের শেষের দিকে এ সফরটি হবে বলে সম্ভাব্য সময় ধরা হয়েছে। ভারতের ক্ষমতাসীন দলের সঙ্গে ধারাবাহিক সফর বিনিময়ের অংশ হিসেবে বিজেপির পক্ষ থেকে এই আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। সফরকালে দুই দলের নেতাদের মধ্যে পারস্পরিক বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হবে। গতকাল রাতে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির একজন নেতা জানিয়েছেন, এখনো প্রতিনিধি দলে কারা থাকছেন তা ঠিক হয়নি। তবে সাধারণ সম্পাদক প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেবেন।

এদিকে দলের একটি প্রতিনিধি দল চীন সফরে যাচ্ছে। সফরকালে দলটি রোহিঙ্গা ইস্যুতে চীনা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। প্রতিনিধি দলের চীন সফরে যাওয়ার আগে গতকাল বৈঠক করেন ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সভানেত্রীর ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, যে বিষয়ে আলোচনা জাতিসংঘে হচ্ছে, সেই আলোচনাতো এখানে (চীনে) অবশ্যই আসবে। আর চীন বিষয়টি অস্বীকারও করেনি। যার প্রমাণ হলো জাতিসংঘে রোহিঙ্গা ইস্যুতে সর্বসম্মতভাবে বিবৃতি দিয়েছে।

দেশের স্বার্থ বিবেচনা করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে জাতীয় ঐক্যমত সৃষ্টিতে বিএনপির সদিচ্ছার কোনো প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে না জানিয়ে কাদের বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনা করতে বিএনপির সদিচ্ছা বা আন্তরিকতা আছে এমন প্রমাণ আমরা এ পর্যন্ত পাচ্ছি না। তারা এ সমস্যাকে জাতীয় স্বার্থের দিক থেকে বিবেচনা করে এ সমস্যা সমাধানে কতটা আন্তরিক সেটা আগে দেখতে হবে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিভক্তির সৃষ্টি বিএনপি করছে। সারা দুনিয়ায় শেখ হাসিনার প্রশংসা দেখে তাদের গাত্রদাহ হচ্ছে। সারা দুনিয়া বলে এক কথা, আর বিএনপি বলে আরেক কথা।

ওবায়দুল কাদের বলেন, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বিএনপি চেয়ারপারসন লন্ডনে বসে কয়েকটি দেশের কাছে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তিনি লন্ডনে বসে কথা বলছেন কিন্তু এ সময় তিনি তার দেশে আসার তারিখ বারবার পরিবর্তন করছেন। আগে জানতাম তিনি ঈদের পরেই আসবেন কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে তিনি এ মাসে আসবেন না। তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধান যদি জাতীয় সমস্যা বিবেচনা করেন কিন্তু দেশে থেকে সমস্যা সমাধানে কোনো ভূমিকা রাখবেন না। তিনি বিদেশে বসে কথা বলছেন, যেখানে দেশের বাস্তবতা তিনি বুঝতে পারছেন না। যা কোনো দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলের নেতার ভূমিকা হতে পারে না। জাতীয় স্বার্থে আমরা সবার সহযোগিতা চাই। বৈঠকে দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য লে.কর্নেল (অব:) ফারুক খান, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনি, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আফজাল হোসেন, সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল, বন ও পরিবেশ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, আইন বিষয়ক সম্পাদক শ ম রেজাউল করিম, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক শামসুন্নাহার চাঁপা, উপদপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

 

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট