সারাদেশে ওএমএস’র চাল বিক্রি শুরু

সারাদেশে ওএমএস’র চাল বিক্রি শুরু

দেশব্যাপী শুরু হচ্ছে খোলা বাজারে চাল বিক্রি কার্যক্রম। এতে, বাজার অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে মনে করছেন খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। তবে, এবার চালের বিক্রয় মূল্য করা হয়েছে ৩০ টাকা প্রতি কেজি। মূল্য বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে বাস্তবসম্মত হিসেবেই দেখছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলছেন, এর ফলে কমে আসবে খোলা বাজারে চাল বিক্রিতে অনিয়ম-দুর্নীতি।

সাধারণ মানুষরা বলেন, চালের বাজারে আসলে মাথা নষ্ট হয়ে যায়। দুই দিন আগে যার দাম ছিল ৫২ টাকা দুই দিন পরে তার মূল্য হয় ৫৭ টাকা। বিক্রেতা বলেন, যে দামে আমরা বিক্রি করছি, মোকামে গেলেই তার চেয়ে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে।

পাঁচ মাসের বেশি সময় ধরে লাগাতার বাড়তে থাকা চালের দাম নিয়ন্ত্রণে, প্রায় ৬ মাস পর দেশব্যাপী আবার খোলা বাজারে চাল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। সিদ্ধান্ত মোতাবেক ঢাকা শহর, তেজগাঁও সার্কেল ও কেরানীগঞ্জে দেড়শ’টি সহ সারাদেশে ৬২৭টি ট্রাকে করে বিক্রি হবে চাল। প্রতি জায়গায় প্রতিদিন বরাদ্দ থাকবে ১ মেট্রিক টন করে। সেই সঙ্গে বৃহত্তর ঢাকা জেলার ২৫১টি ট্রাকে বরাদ্দ থাকবে দুই মেট্রিক টন করে আটা, যা বিক্রি হবে ১৭ টাকা কেজি দরে। এতে উর্ধমূখী চালের বাজারে ভোক্তা পর্যায়ে স্বস্তি ফিরবে, এমন প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।

সিএসডির ব্যবস্থাপক বলেন, চালের মান খুব ভাল। দুই ধরনের চাল রয়েছে। সরকারের পক্ষে দীর্ঘদিন চালাতেও সমস্যা হবে না। সরকার যখন ওএমএস নিয়ে আসে তখন ব্যবসায়ীরা ভয় পেয়ে যায়। তখন বাজার নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।

এর আগে সরকারের বিশেষ এই কার্যক্রমে প্রতিকেজি চাল বিক্রি হতো ১৫ টাকায়, এবার বিক্রি হবে ৩০ টাকা কেজি দরে। বাজারের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে দাম বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্তকে সময়োপযোগী উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদরা।

বিশ্বব্যাংকের অর্থনীতিবিদ জাহিদ হোসেন বলেন, যাদের কে উদ্দেশ্য করে এই কার্যক্রম তাদের কাছে এই কার্যক্রম পৌঁছে দেওয়া যায়, তাহলে ৩০ টাকা অসহনীয় না। এখানে দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধ করতে হবে। মুক্তবাজার অর্থনীতির সুযোগে, বাজারে চালকল মালিকদের দৌরাত্ম্য যেন না লাগামহীন হয়ে না উঠতে পারে, সেজন্য সরকারি পর্যায়ে চাল আমদানি প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করার পরামর্শ তাদের।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক