শরণার্থীদের আশ্রয়দানে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

শরণার্থীদের আশ্রয়দানে শীর্ষ দশে বাংলাদেশ

সম্প্রতি মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর দেশটির সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ নাগরিকদের দমন অভিযান থেকে বাঁচতে গত তিন সপ্তাহে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। জানিয়েছে জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর)।

এর মধ্যদিয়ে শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ শীর্ষ দশ দেশের তালিকায় উঠে এসেছে।

ইউএনএইচসিআর’এর এক পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, এর আগেও বাংলাদেশে ৪ থেকে ৫ লাখ রোহিঙ্গা অবস্থান করছিল। ফলে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া মোট রোহিঙ্গাদের সংখ্যা ৮ থেকে ৯ লাখে দাঁড়িয়েছে।

ইউএনএইচসিআরের হিসেবে, ২০১৭ সাল পর্যন্ত সারা বিশ্বে ৬ কোটি ৫৬ লাখ মানুষ তাদের নিজ এলাকা থেকে জোরপূর্বক উচ্ছেদ হয়েছে। এদের মধ্যে প্রায় ২ কোটি ২৫ লাখ মানুষ এখন শরণার্থী হিসেবে বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে বাস করছেন।

ইউএনএইচসিআর’র পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, শরণার্থীদের আশ্রয় দেয়ার ক্ষেত্রে তালিকার শীর্ষে রয়েছে তুরস্ক। দেশটি সর্বোচ্চ ২৯ লাখ মানুষকে আশ্রয় দিয়েছে। ১৪ লাখ শরণার্থী আশ্রয় দিয়ে তুরস্কের পরেই রয়েছে পাকিস্তান। এরপর ১০ লাখ মানুষ আশ্রয় দিয়ে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে লেবানন। ইরানে আছে ৯ লাখ ৭৯ হাজার ৪০০, উগান্ডায় ৯ লাখ ৪০ হাজার ৮০০ ও ইথিওপিয়ায় রয়েছে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৬০০। আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গা বর্তমান শরণার্থীদের সংখ্যা অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান এখন ষষ্ঠ স্থানে। বাংলাদেশের পরেই রয়েছে আফ্রিকার দেশ ইথিওপিয়া।

অন্যদিকে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা বাংলাদেশেই সবচেয়ে বেশি আশ্রয় নিয়েছে। এছাড়া দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতেও বেশকিছু রোহিঙ্গা রয়েছে।

এক প্রতিবেদনে আলজাজিরা জানায়, সৌদি আরবে ২ লাখ, পাকিস্তানে সাড়ে ৩ লাখ, মালয়েশিয়ায় দেড় লাখ, ভারতে ৪০ হাজার, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১০ হাজার, থাইল্যান্ডে ৫ হাজার এবং ইন্দোনেশিয়ায় মাত্র ১ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম রয়েছে।

গত মাসের ২৪ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে পুলিশ ফাঁড়ি ও সেনা ক্যাম্পে হামলার পর সেনা অভিযানের প্রেক্ষাপটে ২৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশ সীমান্তে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ঢল নেমেছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট