অদ্ভুত সেই ছেলেটি

অদ্ভুত সেই ছেলেটি

মানুষ শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া বন্ধ করে কখন? যখন সে মারা যায়। তা লিয়াম ডার্বিশায়ার এসব নিয়ম-নীতির থোড়াই পরোয়া করেন। ১৮ বছর বয়স্ক এই তরুণ এক বিদঘুটে অসুখে আক্রান্ত। অসুখটা হলো, ঘুমাতে গেলেই তাঁর নিঃশ্বাস নেওয়া বন্ধ হয়ে যায়।

লিয়ামের অসুখের নাম সেন্ট্রাল হাইপোভেন্টিলেশন বা অন্ডিনের অভিশাপ। অন্ডিন ছিল ফরাসি উপকথার এক রূপসী অপ্সরী। বেচারী প্রেমে পড়েছিল পেলমোঁ নামের এক লোকের। পেলমোঁ অন্ডিনকে বিয়ে করেছিল আর প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, যত দিন সে শ্বাস-প্রশ্বাস নেবে তত দিন অন্ডিনের প্রতি বিশ্বস্ত থাকবে। কাজেই অন্ডিন যখন আবিষ্কার করল পেলমোঁর কথা আর কাজে মিল নেই, তখন সে অভিশাপ দিল—পেলমোঁ যখনই ঘুমাতে যাবে, ওর নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে। রূপকথার গল্প হিসেবে এটা চমত্কার শোনায়; কিন্তু বাস্তবে এমন অভিশাপের চক্করে পড়লে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে যাবে, তা বলাই বাহুল্য।

লিয়াম বেচারা এই অভিশাপে ভুগছেন।

পৃথিবীতে প্রতি এক হাজার ৫০০ জন মানুষের একজন এ অসুখে আক্রান্ত হয়। কিন্তু অন্যদের রোগটা এতটা বাড়াবাড়ি পর্যায়ে যায়নি। তারা কোনো না কোনো সময়ে খানিকটা হলেও ঘুমানোর অবকাশ পায়; কিন্তু লিয়ামের কথা আলাদা। তাঁর জন্য ঘুমিয়ে পড়া মানে আক্ষরিক অর্থেই দম বন্ধ হয়ে মারা যাওয়া। কাজেই ঘুমানোর সময় আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবস্থা আছে—এমন বিশেষ ধরনের এক বৈদ্যুতিক বিছানায় শুয়ে থাকতে হয় এই তরুণকে। যন্ত্রের সাহায্যে তাঁর ফুসফুসে ভরে দেওয়া হয় অক্সিজেন, যাতে ঘুমিয়ে পড়লেই দম বন্ধ হয়ে না যায়।

এটা খুবই স্বাভাবিক যে এ ধরনের ব্যয়বহুল চিকিত্সা চালিয়ে যাওয়া চাট্টিখানি কথা না। লিয়ামের পরিবার কিন্তু হাসিমুখেই নিজেদের সন্তানের জন্য তা করে যাচ্ছে। উদ্ভট এই অসুখের কারণে লিয়াম হয়তো কখনোই সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে না; কিন্তু ছেলে যে অন্তত হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে হলেও পৃথিবীটা দেখতে পাচ্ছে, এতেই লিয়ামের মা-বাবা খুশি।

মজার কথা হলো, লিয়াম যখন জন্ম নেন তখন ডাক্তাররা রায় দিয়েছিলেন, ছয় সপ্তাহের বেশি তিনি বাঁচবেন না। এর ওপর এ বয়সেই একবার শরীরে দেখা দিয়েছিল ক্যান্সারের চিহ্ন। কিন্তু সব বাধা পেরিয়ে লিয়াম ডার্বিশায়ার দিব্যি বেঁচে রয়েছেন, আর সব সময়ই হাসি-খুশি দেখবেন তাঁকে। অতএব, গোমড়ামুখোদের অনেক কিছুই শেখার আছে তাঁর কাছ থেকে

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট