এবার আওয়ামী লীগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সিইসি

এবার আওয়ামী লীগের প্রশংসায় পঞ্চমুখ সিইসি

বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদা বলেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ আজ মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। তিনি দেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন।

বুধবার বেলা ১১টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সংলাপের শুরুতেই সিইসি লিখিত বক্তব্যে এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে ২১ সদস্যের প্রতিনিধি দল সংলাপে অংশ নিয়েছে।

সংলাপের শুরুতে টানা ৯ মিনিট সিইসি আওয়ামী লীগের ইতিহাস, অর্জন তুলে ধরেন। এ সময় তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজের প্রশংসা করেন।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি প্রাচীনতম ঐতিহ্যবাহী দল। হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী, মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী, শামসুল হক, ইয়ার আহমেদ, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বর্তমান সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে সুপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ই মার্চে বঙ্গবন্ধুর ভাষণে ঐক্যবদ্ধ হয়ে আমরা দেশ স্বাধীন করেছি। বঙ্গবন্ধুর হুকুমে এবং এখানে আওয়ামী লীগের যাঁরা এসেছেন, তাঁদের অনেকের অনুপ্রেরণায় আমরা গ্রেনেড ও অস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার সকল অর্জন আওয়ামী লীগের হাত ধরে। ১৯৭২ সালে বঙ্গবন্ধু স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করে দেশ গড়ার উদ্যোগ নেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন করেন। পাকিস্তানের মতো দেশকে বাংলাদেশে আনুগত্য স্বীকারে বাধ্য করেন। ১৯৭৪ এর মধ্যে জাতীয় প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে যায়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার মাধ্যমে কালো অধ্যায় শুরু হয়। পরে জেলখানায় জাতীয় চার নেতাকে হত্যা করা হয়। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনা স্বদেশে প্রত্যাবর্তন করেন। দলের প্রধান হন এবং ১৯৮৬ সালে নির্বাচনে অংশ নিয়ে মুসলিম বিশ্বে প্রথম নারী বিরোধীদলীয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। ১৯৯৬ সালে তাঁর নেতৃত্বে সরকার গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেন। ২০০৮ সালের পর ক্ষমতায় বসে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেন। বাংলাদেশকে উন্নয়নের মহাসড়কে তুলে দিয়েছেন।’

সিইসি বলেন, ‘১৯৯৬, ২০০৮ ও ২০১৪ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে। তাঁর নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করা হয়েছে। উন্নয়নের প্রতিটি খাতে শিক্ষা, সামাজিক, অর্থনৈতিক, অবকাঠামো উন্নয়ন করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসার, পরিবেশ সংরক্ষণসহ বিশ্ব ধরিত্রীর মুকুট আজ প্রধানমন্ত্রীর মাথায়।’

তিনি আরও বলেন, ‘রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে কূটনৈতিক সমাধান অর্জনে বিশ্ব মাতৃকার আসনে সমাসীন প্রধানমন্ত্রী।’

কে এম নুরুল হুদা বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন স্বাধীন। আমরা অনেক দেশের নির্বাচন কমিশনের চেয়ে স্বাধীনতা ভোগ করছি। এটা আওয়ামী লীগ সরকার–প্রধান করেছেন।’

এর আগে গত রোববার বিএনপির সঙ্গে সংলাপে লিখিত বক্তব্যে সিইসি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের সময় এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা হয়। ১৯৯১ সালে বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হন। এরপর ২০০১ সালের তাঁর নেতৃত্বে আবারও সরকার গঠিত হয়।’

বিএনপি সম্পর্কে সিইসি’র এমন বক্তব্যে আওয়ামী লীগ নেতাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া হয়। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের এ সম্পর্কে বলেন, ‘বিএনপিকে নির্বাচনে আনতে এটি সিইসির একটি কৌশল হতে পারে। বিএনপির এখন খুশি খুশি ভাব। এটা যেন নির্বাচন পর্যন্ত বজায় থাকে।’

তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদাকে কম কথা বলার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘আপনারা রেফারি, আপনাদের কাজ সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন পরিচালনা করা। আপনারা সেটাই করুন। আর কথা কম বলেন। একজন কথা বেশি বলেছেন, দেখেছেন না কি হয়েছে? কথা বলার জন্য আমরা পলিটিশিয়ানরা আছি।’

মঙ্গলবার দুপুরে মহাখালীতে জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক