খান আতাকে রাজাকার বলায় প্রতিবাদ করে যা বললেন সোহেল রানা ও ফারুক !

খান আতাকে রাজাকার বলায় প্রতিবাদ করে যা বললেন সোহেল রানা ও ফারুক !

বিখ্যাত সুরকার, শিল্পী, অভিনেতা, চলচ্চিত্র-পরিচালক #খান_আতাউর_রহমান প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে নায়ক ও মুক্তিযোদ্ধা সোহেল রানা ও ফারুক বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন:

সোহেল রানা বলেছেন :

১.

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধুর ছয়দফা ঘোষণার আগে স্বাধীনতা সম্পর্কে কয়জন চিন্তা করেছেন?…আমাদের ভাবনার মধ্যে স্বাধীনতা আসেনি। এসেছে বিদ্রোহ।…এই প্রতিবাদ করার মধ্যে কিন্তু স্বাধীনতার বিষয় ছিলো না। যদিও এখন আমরা বলি ওটার মধ্যে স্বাধীনতার বীজ লুকিয়ে ছিলো।’

২.

…প্রশ্ন হলো, আমরা যারা মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নিজেদের দাবি করি, আদর্শগতভাবে আমরা মুক্তিযুদ্ধ কয়জন করেছি?…বেশিরভাগ মুক্তিযোদ্ধা ছিলো জীবন বাঁচাতে গিয়ে যুদ্ধ করেছে।…এর মধ্যে ২০ ভাগ লোক ছিলো যারা সত্যিকারভাবে মুক্তিযুদ্ধ বুঝে যুদ্ধে গিয়েছিলো।

৩.

১৯৬৬ সাল থেকে যারা গান, নাটক, সাহিত্য, আর্ট কালচার থেকে শুরু করে সব জায়গায় বিপ্লবী চেতনা নিয়ে এসেছে তারাই হচ্ছে সত্যিকারের মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে অংশ নিতে পেরেছে কি পারেনি সেটা পরের কথা।…২৫ মার্চের আগে এখানকার রেডিও ও টেলিভিশনে যে গানগুলো প্রচারিত হয়েছিলো তার ৩০ ভাগ গানের লেখক ও সুরকার খান আতাউর রহমান। এই…গানগুলোতে কী ছিলো? গানগুলোতে কি পাকিস্তান পায়েন্দাবাদ ছিলো না আমাদের দেশের কথা ছিলো?…এখন এই গানের যারা স্রষ্টা বা এখানে যারা জড়িত তারা পরে মুক্তিযুদ্ধে যেতে পেরেছে কি না সেটা বড় কথা নয়।

৪.

তখন বাচ্চু সাহেবকে কেউ চিনতো না কিন্তু…পাকিস্তানিরা এ-দেশের দশজন লোক চিনলে তার মধ্যে খান আতা একজন। ফলে বাচ্চু সাহেবের পালিয়ে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করা যতটা সহজ ছিল, খান আতা সাহেবের জন্য ততটা সহজ ছিল না।…অনেকেই রয়েছে যারা স্বাধীনতা যুদ্ধে যেতে পারেননি।…পুলিশ, বিডিআর, আর্মি, শিক্ষক, চিকিৎসক ১৬ ডিসেম্বরের আগ পর্যন্ত তারা বেতন নিয়েছেন কার কাছ থেকে? পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে। এখন তাই বলে কি তারা রাজাকার?

৫.

যদি এমন হয় পাকিস্তানি আর্মি তার কাছ থেকে বন্দুকের নলের মুখে গান লিখিয়ে নিয়েছে তাহলে সেই গান দিয়ে কি তার পরিচয় হবে, না কি তার আরো যে সৃষ্টি রয়েছে সবগুলো মিলিয়ে তার পরিচয় বিবেচনা করা হবে? সারাজীবন মানসিকভাবে সে বাংলাদেশের স্বার্থে লিখেছে কি না সেটা দেখতে হবে। এক দিনের অপরাধ দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে।…খান আতা বিভিন্ন আলোচনায়, আড্ডায় কী বলেছেন? যুদ্ধ চলাকালীন খান আতা পরিস্থিতির শিকার হয়েছিলেন।

৬.

খান আতা একদিন আমাকে বলেছিলেন তোমরাই তো আমাদের সাহস জুগিয়েছ। ভরসা করে আছি। একদিন দেশ স্বাধীন হবে। তুই পারবি বাঙালির নাম রাখতে। তখন কিন্তু তিনি পাকিস্তানের কথা বলেননি।

.ফারুক বলেছেন :

১.

১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমান পরিচালিত ‘আবার তোরা মানুষ হ’ মুক্তিপ্রাপ্ত বাংলাদেশের তৎকালীন প্রেক্ষাপট নির্ভর একটি ঐতিহাসিক সেলুলয়েডের দলিল। মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী অবস্থার আলোকে এটি নির্মিত। অথচ তাকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করে যে মন্তব্য নাসিরুদ্দিন ইউসূফ বাচ্চু করেছেন তাতে সমস্ত মুক্তিযোদ্ধার চেতনার মূলে আঘাত করেছেন।

২.

এমন একজন গুণী লোক। কল্পনাও করা যায় না। এদেশের বিখ্যাত যারা তাদের স্নেহধন্য কাছের লোক ছিলেন তিনি। যার ‘নবাব সিরাজদ্দৌলা’ ছবি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছে মুক্তিযুদ্ধে জীবন বাজি রেখে ঝাঁপিয়ে পড়তে। মাতৃভাষা বাংলা আন্দোলন ও স্বতন্ত্র দেশের চেতনা ছিল যার অস্থিমজ্জায়।

৩.

তিনি…জহির রায়হানের মতো টগবগে তরুণকে সুযোগের ব্যবস্থা করেন। যিনি পরবর্তীতে বাংলা চলচ্চিত্রের একটি দিকপাল হিসেবে আবির্ভূত হন।…এরপর আমরা জহির রায়হান, আমজাদ হোসেন (রচয়িতা) এবং খান আতা(অভিনয় এবং সুরকার) এই ত্রিফলার অমরসৃষ্টি ‘জীবন থেকে নেয়া’ দেখেছি। যার প্রতিফলন আমরা দেখেছি স্বাধীনতা যুদ্ধে।

৪.

…‘আবার তোরা মানুষ হ’ এটি নিছক কোনো ছবি ছিল না। যুদ্ধপরবর্তী বিশৃঙ্খলা নিয়েই ‘আবার তোরা মানুষ হ’ চলচ্চিত্র।…সময়টা বঙ্গবন্ধুর শাসনকাল। তার সময় মুক্তি পেয়েছে। স্বভাবতই তার সায় ছিল। এখানে নাসিরউদ্দিন ইউসুফ বাচ্চু সাহেব যে ভাষায় যেভাবে এমন একজন গুণীকে তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য করলেন তার প্রতিবাদের ভাষা আমার জানা নেই। এতে কেবল উনি খান আতাকে অপমান করেননি করেছেন পুরো মুক্তিযোদ্ধাদের। কারণ ওই ছবিতে সবাই ছিলাম আমরা মুক্তিযোদ্ধা। আমরা দেশ গঠনে মনোনিবেশ হতে একাত্ম হয়েছি বলেই সেদিন সে ছবিতে মনপ্রাণ ঢেলে অভিনয় করেছি।

৫.

…সে সময় যে প্রেক্ষাপট ছিল সেটা যেমন আপনি (বাচ্চু) জানেন তেমনি আমরাও জানি।… মুক্তিযুদ্ধ আপনিও করেছেন আমরাও করেছি। তার মানে এই নয় যে আপনার কাছ থেকে জানতে হবে কে যোদ্ধা আর কে রাজাকার। যদি তাই হয় তবে নিজেকে পন্ডিত বলে জাহির করতে চাওয়া মি. বাচ্চু আপনিই বলেন, কি কি কারণে কোন কোন পরিস্থিতিতে রাজাকার বলা যায়। খান আতার তেমন কি জানা আছে আপনার, সেটা প্রকাশ করুন।

.মুক্তিযুদ্ধের পর আব্দুল আলীমকে রাজাকার বানানোর প্রচেষ্টা খোদ বঙ্গবন্ধু প্রতিহত করেছিলেন বলে শুনেছি। দেশের সব ধ্বংস করে মুক্তিযুদ্ধ ভাঙিয়ে খেয়ে আর কত কাল

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট