আরেকটি বড় ব্যবধানে পরাজয়

আরেকটি বড় ব্যবধানে পরাজয়

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে বড় রানের টার্গেট তাড়া করতে গিয়ে খেই হারিয়ে ফেলেছে বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডার।  এত বড় টার্গেট তাড়া করে জয়ের আশা হয়তো কারো মধ্যেই ছিলো না।  কিন্তু প্রোটিয়া বোলারদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যনরা পরাজয়ের ব্যবধান কতটা কমাতে পারেন তাই নিয়ে ছিলো সবার আগ্রহ।  কিন্তু সেই পরীক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ হয়ে ১০৪ রানের পরাজয় বরণ করেছে বাংলাদেশ।

চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে শেষবার ওয়ানডে ম্যাচ খেলেছিলেন ডি ভিলিয়ার্স। চার মাস পর আবারও ৫০ ওভারের ম্যাচ দিয়ে ২২ গজে ফেরা ‘এবি’ আরেকবার দেখালেন তার ব্যাটিং-তাণ্ডব। বাংলাদেশি বোলারদের শাসন করে ১০৪ বলে খেলেন ১৭৬ রানের ঝলমলে ইনিংস, যাতে দক্ষিণ আফ্রিকা স্কোরে জমা করে ৬ উইকেটে ৩৫৩ রান। বিশাল সেই লক্ষ্যের পিছে ছুটে বাংলাদেশ ৪৭.৫ ওভারে অলআউট হয়ে গেছে ২৪৯ রানে।

ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা ডি ভিলিয়ার্সের পর বল হাতে বাংলাদেশকে চেপে ধরেন তাহির ও ফেহলুকাও। প্রোটিয়াদের লেগ স্পিনার ‍তুনে নেন গুরুত্বপূর্ণ ৩ উইকেট। হাফসেঞ্চুরিয়ান ইমরুল কায়েস (৬৮), সাকিব আল হাসান (৫) ও সাব্বির রহমানকে (১৭) ফিরিয়েছেন তাহির। উইকেট সংখ্যাতে তাকেও ছাড়িয়ে গেছেন ফেহলুকাও। এই অলরাউন্ডারের শিকার ৪ উইকেট।

আগের ম্যাচে করেছিলেন সেঞ্চুরি, পার্লের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও ইঙ্গিত দিচ্ছিলেন বড় ইনিংস খেলার। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে মুশফিকুর রহিম এগিয়ে নিচ্ছিলেন ব্যক্তিগত সংগ্রহ। তবে এবার সেঞ্চুরি পর্যন্ত যেতে পারেননি বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। ৬০ রান করে তিনি ফিরে যান সাজঘরে।

৬৯ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশ গুছিয়ে উঠেছিল ইমরুল কায়েস ও মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে। যদিও ইমরুলের আউটের পরপরই সাকিব আল হাসান প্যাভিলিয়নে ফিরলে আবার এলোমেলো হয়ে গেছে সফরকারীদের ব্যাটিং লাইনআপ। মাত্র ৫ রান করে আউট হয়ে গেছেন সাকিব।

ইমরুল কায়েসের বিদায়ের পর সাকিবের কাছে প্রত্যাশাটা ছিল অনেক বেশি। বড় স্কোরের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তার ব্যাটের দিকে দলের তাকিয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। যদিও প্রত্যাশার জবাবটা একেবারেই দিতে পারেননি বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার। ইমরান তাহিরের বলে কাট করতে গিয়ে ধরা পড়েন উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের গ্ল্যাভসে। প্রথম ওয়ানডেও সাকিব আউট হয়েছিলেন তাহিরের গুগলিতে।

দাঁড়িয়ে গিয়েছিলেন ইমরুল কায়েস। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৪তম হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে এগিয়ে নিচ্ছিলেন দলের স্কোর। ব্যক্তিগত রানের সঙ্গে দলীয় স্কোর বাড়িয়ে নেওয়া এই ওপেনার অবশেষে থামলেন ৬৮ রানে। তার আউটের ঠিক আগেই হাফসেঞ্চুরির দেখা পান মুশফিকুর রহিম।

কিম্বার্লির পর পার্লেতেও হাসলো না লিটন দাসের ব্যাট। প্রথম ওয়ানডেতে ২১ রান করা লিটন বুধবারের ম্যাচে প্যাভিলিয়নে ফিরলেন ১৪ রান করে। আন্দিলে ফেহলুকাওয়ের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে বিপদ বাড়িয়ে যান তিনি বাংলাদেশের।

লক্ষ্যটা কঠিন, দরকার ছিল তাই ভালো শুরুর। দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসের ব্যাটে বাংলাদেশের শুরুটাও হলো ভালো। কিন্তু জুটিটা এগোতে পারেনি বেশিদূর। তামিমের আউটে বাংলাদেশ হারায় প্রথম উইকেট।

চোটের কারণে তামিম খেলতে পারেননি প্রথম ওয়ানডে। বাংলাদেশও ম্যাচটি হেরেছে বাজেভাবে। পার্লের দ্বিতীয় ম্যাচে আবার দক্ষিণ আফ্রিকা বড় স্কোর গড়লে তার কাছ থেকে আরও বেশি প্রত্যাশা ছিল বাংলাদেশি ভক্তদের। ভালো শুরুতে প্রত্যাশা পূরণের ইঙ্গিত দিলেও পারলেন না বাঁহাতি ওপেনার। ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসের বলে এলবিডাব্লিউ হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন ২৫ বলে ২৩ রান করে।

এর আগে এবি ডি ভিলিয়ার্সের দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে রানের পাহাড় গড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। চ্যাম্পিয়নস ট্রফির পর প্রথমবার ওয়ানডেতে নামেন ডি ভিলিয়ার্স। নেমেই ঝড় তুললেন ২২ গজে। যে ঝড়ে সেঞ্চুরি পূরণ করে ডি ভিলিয়ার্স খেললেন ১৭৬ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস। তার এই ইনিংসটির সঙ্গে হাশিম আমলার হাফসেঞ্চুরিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে রানের পাহাড় গড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে প্রোটিয়ারা স্কোরে জমা করেছে ৩৫৩ রান।

ফাফ দু প্লেসি আউট হওয়ার পর মাঠে নামেন ডি ভিলিয়ার্স। নেমেই ঝড় তোলেন ব্যাটে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ২৫তম সেঞ্চুরি পূরণ করে ১০৪ বলে করেছেন ১৭৬ রান। ১৫ চার ও ৭ ছক্কায় সাজানো ইনিংসে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছাড়ায় সাড়ে তিন শ। তার সঙ্গে আবারও চমৎকার ইনিংস খেলেছেন আমলা। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান পার্লের দ্বিতীয় ওয়ানডেতেও জাগিয়েছিলেন সেঞ্চুরির সম্ভাবনা। যদিও ৮৫ রানে থামে তার ইনিংস।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ১০৪ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা

দক্ষিণ আফ্রিকা ইনিংস: ৩৫৩/৬ (৫০ ওভার)

(হাশিম আমলা ৮৫, কুইন্টন ডি কক ৪৬, ফাফ ডু প্লেসিস ০, এবি ডি ভিলিয়ার্স ১৭৬, জেপি ডুমিনি ৩০, ফারহান বিহারডাইন ৭*, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ০, আন্দিল ফেহলাকওয়েও ০*; মাশরাফি বিন মর্তুজা ০/৮২, তাসকিন আহমেদ ০/৭১, সাকিব আল হাসান ২/৬০, নাসির হোসেন ০/৪৯, রুবেল হোসেন ৪/৬২, সাব্বির রহমান ০/১১, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/১৬)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ২৪৯ (৪৭.৫ ওভার)

(তামিম ইকবাল ২৩, ইমরুল কায়েস ৬৮, লিটন দাস ১৪, মুশফিকুর রহিম ৬০, সাকিব আল হাসান ৫, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৩৫, সাব্বির রহমান ১৭, নাসির হোসেন ৩, মাশরাফি বিন মর্তুজা ০, তাসকিন আহমেদ ৩*, রুবেল হোসেন ৮; কাগিসো রাবাদা ০/৪০, ডেন প্যাটারসন ১/৬৭, ডোয়াইন প্রিটোরিয়াস ২/৪৮, আন্দিল ফেহলাকওয়েও ৪/৪০, ইমরান তাহির ৩/৫০)।

সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট