মেসির ‘সেঞ্চুরি’র রাতে বার্সার জয়োৎসব

মেসির ‘সেঞ্চুরি’র রাতে বার্সার জয়োৎসব

 

ইতিহাসের দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলে লিওনেল মেসির শততম গোলের মাইলফলক ছোঁয়ার রাতে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনাও। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ পর্বে গ্রিক দল অলিম্পিয়াকোসের বিপক্ষে ৩-১ গোলে জিতেছে কাতালানরা।

বুধবার রাতের জয়ে গ্রুপ ‘ডি’র পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান আরও সুসংহত করল আর্নেস্টো ভালভার্দের দল। তিন ম্যাচে শতভাগ জয়ে ৯ পয়েন্ট কাতালান দলটির।

ন্যু ক্যাম্পে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল বার্সেলোনা। বিপরীতে অলিম্পিয়াকোস ছিল রক্ষণ সামলাতে ব্যস্ত। গোলের সামনে সফরকারীদের ১০ খেলোয়াড় ছিল পাহাড়ায়। অতি রক্ষণাত্মক হওয়ার কারণেই হয়তো ১৮ মিনিটে খেসারত দিয়ে হয়েছে তাদের। জেরার্দ দেলোফেউয়ের ক্রস আটকাতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন দিমিত্রিয়োস নিকোলো। তার আত্মঘাতী গোলেই এগিয়ে যায় বার্সেলোনা।

ওই গোলের আগে-পরে আরও বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল স্বাগতিকরা। পাউলিনিয়োর হেড একবার ফিরেছে বারে লেগে। লুই সুয়ারেস তো গোলরক্ষককে একা পেয়েও পারেননি বল জালে জড়াতে। মেসিকেও একবার হতাশ করেছেন গ্রিক ক্লাবটির গোলরক্ষক।

ন্যু ক্যাম্পের প্রথমার্ধে উত্তেজনার কমতি ছিল না। শুধু যে আত্মঘাতী গোল হয়েছে, সে জন্য নয়। একের পর আক্রমণে বার্সেলোনা যেভাবে ব্যস্ত রেখেছিল অলিম্পিয়াকোসের রক্ষণভাগকে, তাতে গোল সংখ্যা না বাড়ায় কাতালানদের হতাশ হওয়াটা অস্বাভাবিক নয়। বিরতিতে যাওয়া আগমুহূর্তে বল একবার জালে জড়িয়েছিলও। স্বাগতিকরা গোল পাওয়া তো দূরে থাক, উল্টো হারাতে হয়েছে জেরার্দ পিকেকে! দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে স্প্যানিশ ডিফেন্ডার মাঠ ছাড়েন ৪২ মিনিটে। দেলোফেউয়ের ক্রস ‘হাত দিয়ে’জালে জড়িয়েছিলেন পিকে। যা সহকারী রেফারির চোখ এড়ায়নি। আগেই হলুদ কার্ড পাওয়া দ্বিতীয়বার একই শাস্তির সঙ্গে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।

একজন খেলোয়াড় কম নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে আরও ধারালো হয় বার্সেলোনার আক্রমণ। বিরতি থেকে ঘুরে এসে সফরকারীদের ওপর চড়াও হওয়া বার্সেলোনা গোলের দেখাও পেয়ে যায় ৬১ মিনিটে। দুর্দান্ত ফ্রি কিক থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মেসি। ২০ গজ দূর থেকে নেওয়া ফ্রি কিক থেকে করা লক্ষ্যভেদে আবার ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় শততম গোলের দেখা পান আর্জেন্টাইন তারকা।

ওই উৎসব থামতে না থামতেই আবার গোল উদযাপনে মাতে বার্সেলোনা। মিনিট তিনেক আগে গোল পাওয়া মেসি এবার সহযোগীর ভূমিকায়। তার ক্রস থেকেই লক্ষ্যভেদ করেন লুকাস দিনিয়ে। সের্হিয়ো বুশকেৎসের বাড়ানো বল বক্সের ভেতর ধরে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে মেসি ক্রস করেছিলেন, যদিও গোল মুখের সামনে থাকা পাউলিনিয়ো কিংবা আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা কেউই নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি বল। তবে বক্সের বাইরে ক্রসটি পেয়ে যান দিনিয়ে। বাঁ পায়ের বুলেট গতির শটে ফরাসি লেফটব্যাক বল জড়িয়ে দেন জালে।

সুয়ারেস ও মেসি সুযোগ নষ্ট না করলে গোল আরও বাড়তেই পারতো বার্সেলোনার। তারা না পারলেও গোটা ম্যাচে ডিফেন্সিভ ফুটবল খেলা অলিম্পিয়াকোস গোলের দেখা পায়। তাতে সফরকারীদের সঙ্গে সান্ত্বনা পেয়েছেন নিকোলোও। তার আত্মঘাতী গোলেই তো শুরুতে পিছিয়ে পড়েছিল গ্রিক ক্লাবটি। ৮৯ মিনিটে কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে হেড করে লক্ষ্যভেদ করে ‘শাপমোচন’ করেন তিনি।

তাতে কেবল ব্যবধানই কমেছে অলিম্পিয়াকোসের। জয়টা নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বার্সেলোনার আরও আগেই!

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট