যৌন নির্যাতনের শিকার সোনাজয়ী অলিম্পিয়ান

যৌন নির্যাতনের শিকার সোনাজয়ী অলিম্পিয়ান

২০১২ লন্ডন অলিম্পিকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে জিমন্যাস্টিকসে দলগত ইভেন্টে সোনা ও এককভাবে রুপা জিতেছেন। সেই মার্কিন নারী জিমন্যাস্ট ম্যাকাইলা ম্যারুনি তার জীবন নিয়ে ভয়ংকর এক তথ্যই দিলেন। ৭ বছর ধরে তিনি টিম চিকিৎসক ল্যারি নাসারের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন!

২১ বছর বয়সি ম্যারুনি বলেছেন, তার ওপর নাসারের ‘অপ্রয়োজনীয়’ এবং ‘ঘৃণ্য’ এই যৌন নির্যাতনের শুরুটা হয়েছিল টেক্সাসে জাতীয় দলের অনুশীলন ক্যাম্প থেকে। যখন তার বয়স ১৩ বছর।

‘আমি খেলা না ছাড়া পর্যন্ত এটা (যৌন নির্যাতন) শেষ হয়নি’- বলেছেন ম্যারুনি।

২০১৬ সালে খেলা ছাড়া ম্যারুনি জানান, হলিউড চলচ্চিত্র প্রযোজক হার্ভে উইনস্টেনের যৌন কেলেঙ্কারি প্রকাশ্যে আসার পর টুইটারে ‘মি টুও’ নামে যে ক্যাম্পেইন চলছে তাতে উৎসাহিত হয়েই তিনি এই তথ্য জনসম্মুখে প্রকাশ করেছেন।

বুধবার টুইটারে এক বিবৃতিতে ম্যারুনি লিখেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নারী জিমন্যাস্টিকস দল এবং অলিম্পিক দলের চিকিৎসক ল্যারি নাসারের দ্বারা শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছি আমি। যখন এবং যেখানেই মনে হয়েছে এই ব্যক্তি সুযোগ খুঁজেছে। লন্ডনে আমার দল এবং আমি সোনার পদক জেতার আগেও এটা ঘটেছে। আমি রুপা জেতার আগেও এটা ঘটেছে।’

অন্যান্য আরো কোথায় নাসারের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, সেসবও নিজের টুইট বিবৃতিতে বিস্তারিত জানিয়েছেন ম্যারুনি। আরো প্রায় একশ নারী জানিয়েছেন, তারাও নাসারের দ্বারা যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

চিকিৎসক নাসার তার ৫০ বছরের প্রায় তিন দশক যুক্তরাষ্ট্রের জিমন্যাস্টিকসের সঙ্গে কাটিয়েছেন। কাজ করেছেন চারটি অলিম্পিক আসরে। তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ অবশ্য তিনি অস্বীকার করেছেন।

এই ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী স্টিভ পেনি পদত্যাগ করেছেন। ম্যারুনির মতো আরো যারা তাদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন নির্যাতনের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে এগিয়ে এসেছেন, তাদের সাহসের প্রশংসা করেছে যুক্তরাষ্ট্র জিমন্যাস্টিকস ফেডারেশন। পাশাপাশি তারা ওইসব জিমন্যাস্টদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

নাসার বর্তমানে মিশিগানের একটি কারাগারে রয়েছেন। তার বিরুদ্ধে শিশু পর্নোগ্রাফি এবং যৌনকর্মের মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট