আমেরিকার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে: লন্ডনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা

আমেরিকার প্রতি আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে: লন্ডনে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা

সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আজ-জুবায়ের বলেছেন, “ইরানের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নীতির প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন উপস্থিতি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখবে।”

তিনি দাবি করেন, ইরান পরমাণু সমঝোতার সুযোগে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে ধ্বংসাত্মক তৎপরতা চালাচ্ছে। বৃটেনের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘চাতাম হাউজে’ দেয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন। সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানের ঘোষিত কিংবা অঘোষিত সামরিক স্থাপনাগুলোতে আন্তর্জাতিক তদন্ত বা পরিদর্শনের দাবি জানান। তিনি বলেন, “পরমাণু সমঝোতার মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ কিংবা ইরানের ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত।” আদেল আজ-জুবায়ের ইরাকের ব্যাপারে ইরানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে দাবি করেছেন, “ইরান ইরাকের ওপর পূর্ণ কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাচ্ছে।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এমন ধারণা সৃষ্টি হতে পারে ইরানই যেন সব সংকটের মুলে। অথচ সারা বিশ্ব জানে সৌদি আরবের অন্যায় হস্তক্ষেপের কারণেই বহু দিন ধরে বাগদাদ রিয়াদের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থগিত রেখেছিল। এ ছাড়া, গত দুই বছরের বেশি সময় ধরে সৌদি আরব ইয়েমেনে আগ্রাসন চালিয়ে যাচ্ছে এবং আমেরিকা, ব্রিটেন ও কানাডার দেয়া ফসফরাস বোমাসহ অন্যান্য নিষিদ্ধ অস্ত্র ব্যবহার করে সৌদি আরব ইয়েমেনের নারী ও শিশুদের হত্যা করছে। একমাত্র সৌদি আরবের অন্যায় ও স্বেচ্ছাচারী নীতির কারণেই পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ বা পিজিসিসিতে ভাঙন ও তীব্র মতবিরোধ দেখা দিয়েছে এবং আরব বিশ্ব কার্যত কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এমনকি ফিলিস্তিন ইস্যুও গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

এ ছাড়া, দখলদার ইসরাইলের হাতে রয়েছে দু’শটিরও বেশি পরমাণু বোমা এবং তারা মধ্যপ্রাচ্যকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত করার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে আছে, যদিও সৌদি আরবের দৃষ্টিতে এসব কোনো সমস্যাই নয়। এ অবস্থায় সৌদি আরব কতদিন পর্যন্ত এসব নোংরা খেলা খেলে যাবে তা কেউ জানে না। সৌদি আরবের দাবি আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে অন্যদিকে ইরান তার বিপরীতে কাজ করছে যা কিনা খুবই হাস্যকর।

মার্কিন বিশিষ্ট চিন্তাবিদ, ভাষাতাত্ত্বিক ও বিশ্লেষক নোয়াম চমস্কি লেবাননের আল মায়েদিন টিভি চ্যানেলকে দেয়া সাক্ষাতকারে বলেছেন, “আমেরিকাসহ পাশ্চাত্য বিশ্ব সন্ত্রাসীদের প্রতি সৌদি আরবের সমর্থনের বিষয়ে টু শব্দটিও করছে না এবং মধ্যপ্রাচ্যে যাতে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হতে না পারে সেজন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।” নোয়াম চমস্কি আরো বলেছেন, সৌদি আরব অত্যন্ত উগ্র একটি মুসলিম দেশ এবং বিপুল অর্থ খরচ করে দেশটি মধ্যপ্রাচ্যে নিজের প্রভাব প্রতিপত্তি বিস্তারের চেষ্টা করছে।”

বাস্তবতা হচ্ছে, মধ্যপ্রাচ্যে এখন যা ঘটছে এবং ট্রাম্পের মতো উগ্র ব্যক্তিত্বের আবির্ভাব এসবই এ অঞ্চলে সৌদি-মার্কিন যৌথ ষড়যন্ত্রেরই ফসল। যেখানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংকটের জন্য সৌদি আরবের বিরাট ভূমিকা রয়েছে সেখানে ইরানকে অভিযুক্ত করে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা থেকে তার মানসিক সুস্থতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে সৌদি আরবের অবস্থান খুবই নড়বড়ে হয়ে পড়েছে এবং এ কারণে তারা এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের নোংরা বক্তব্যের সঙ্গে সুর মিলিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে নিজেদের দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা করছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট