বহু প্রতিক্ষার পর খুলছে মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার

বহু প্রতিক্ষার পর খুলছে মৌচাক-মগবাজার ফ্লাইওভার

দীর্ঘ প্রতিক্ষার পর এবার দ্বার খুলছে মগবাজার-মৌচাক স্বপ্নের উড়ালসড়কের। জ্বলবে লাল আর সবুজ বাতি। যানবাহন চলাচলে উন্মুক্ত করা হবে প্রথম ট্রাফিক সিগন্যালযুক্ত এই উড়ালসড়কটি। বৃহস্পতিবার দুপুরের পর থেকেই সচল হবে এই এলাকার ট্রাফিক সিগন্যাল।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উড়ালসড়কের উদ্বোধন করবেন। এরপর পুরো ফ্লাইওভার জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে।

এদিকে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান চলাকালে মৌচাক থেকে মগবাজার রেলগেট পর্যন্ত রাস্তা বন্ধ থাকবে। ফলে ওই এলাকার অন্যান্য রাস্তায় যানজট সৃষ্টির আশঙ্কা থাকায় বিকল্প সড়ক ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন।

প্রধানমন্ত্রীর ভিডিও কনফারেন্সের জন্য মৌচাক মোড়ে একটি অস্থায়ী মঞ্চ তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র মোহাম্মদ সাঈদ খোকন, কাউন্সিলর ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত থাকবেন। পরে সেখানে মত বিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার মেয়র সাঈদ খোকন বলেন, ‘উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের জন্য মৌচাক এলাকায় প্যান্ডেল তৈরি করা হবে। এ কারণে ওই এলাকায় যানজট হতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই উড়ালসড়কের উদ্বোধন করবেন। আমরা থাকব এই প্রান্তে। এখানে একটা অনুষ্ঠান হবে। এ কারণে ওই রাস্তাটা বন্ধ থাকবে। নাগরিকদের অনুরোধ করা হয়েছে যেন তারা খুব জরুরি কাজ না থাকলে ওই এলাকার সড়ক ব্যবহার না করেন। যানজট এড়াতে তারা যেন বিকল্প রাস্তা ব্যবহার করেন।’

মেয়র আরও বলেন, ‘এই উড়ালসড়কটি নির্মাণের সময় নাগরিকদের অনেক ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে। এখন উদ্বোধনের কারণে সেই কষ্ট লাগব হবে। অল্প সময়ে শান্তিনগর থেকে রামপুরা, রাজারবাগ থেকে নিউ ইস্কাটন, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল থেকে সাত রাস্তা ও কারওয়ান বাজার পর্যন্ত যাতায়াত করা যাবে। এছাড়া উড়ালসড়কের নিচের সব রাস্তা সংস্কার করা হয়েছে। এতে যাতায়াতে মানুষের মনে স্বস্তি ফিরবে।’

উড়ালসড়কটি কাজ ৩ ভাগে করা হয়েছে। একটি অংশ সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল। এটা নির্মাণ করেছে নাভানা কনস্ট্রাকশন। গত বছরের মার্চ মাসে এই অংশ যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। গত বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর নিউ ইস্কাটন থেকে মৌচাক পর্যন্ত উড়ালসড়কের এক দিক খুলে দেয়া হয়। এই অংশ নির্মাণ করেছে তমা কনস্ট্রাকশন। তৃতীয় ধাপে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) মোড় থেকে কারওয়ান বাজার অংশ যানবাহন চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় গত ১৭ মে। এই অংশও তৈরি করেছে নাভানা কনস্ট্রাকশন। এখন খুলে দেয়ার অপেক্ষায় আছে উড়ালসড়কের মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর-রাজারবাগ-মগবাজার অংশ। এটা নির্মাণ করেছে তমা কনস্ট্রাকশন।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ৯ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই উড়ালসড়কের নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। এর মধ্যে কয়েক দফায় প্রকল্পের সময় বাড়ানো হয়। প্রথমে এই প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছিল ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। পরে নকশায় পরিবর্তন আনা হয়। শেষ পর্যন্ত ব্যয় বাড়তে বাড়তে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় গিয়ে পৌঁছেছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সরকার অর্থায়ন করেছে ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ৭৭৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা দিয়েছে সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি)।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক