একটি মানুষও যেন গৃহহারা না থাকেন সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

একটি মানুষও যেন গৃহহারা না থাকেন সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বস্তি থাকুক এটা আমি চাই না। এটা কোনো দেশের জন্য সম্মানজনক নয়। বস্তিতে যারা থাকে তারাও মানুষ।  তাদেরও ভালো করে বাঁচার অধিকার আছে। একটি মানুষও যেন গৃহহারা না থাকেন সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।

বৃহস্পতিবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর তিন আবাসিক প্রকল্পের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, রাজধানীর মিরপুরে বস্তিবাসীর জন্য ভাড়াভিত্তিক ১০ হাজার ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। ফ্ল্যাটে সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। বস্তির তুলনায় এখানে ভাড়া কম হবে। কেউ চাইলে মাসিক ভাড়া দিতে পারবে, এছাড়া সাপ্তাহিক ও প্রতিদিন দিতে চাইলেও দিতে পারবে। ফ্ল্যাটগুলোতে প্রি-পেইড বিদ্যুৎ কার্ডের ব্যবস্থা থাকবে। এছাড়া বাচ্চাদের খেলাধুলা, চিকিৎসাসেবাসহ সব ব্যবস্থা থাকবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা বস্তিতে থাকেন তারা মানবেতর জীবনযাপন করেন। তারা কেন মানবেতর জীবনযাপন করবে? তাদেরও তো ভালো করে বাঁচার অধিকার আছে। আর এজন্যই আমরা বস্তিবাসীর জন্য ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিই।’ তিনি বলেন, ‘আমার বাবা দেশ স্বাধীন করেছেন মানুষের কল্যাণের জন্য। মানুষের কল্যাণ করাই আমাদের কাজ, এটাই জাতির পিতার শিক্ষা। মানুষের জন্য কিছু করে যেতে চাই। এটাই হলো জীবনের সার্থকতা।’ মানুষকে কষ্ট থেকে মুক্তি দেয়াই তার সরকারের লক্ষ্য বলেও জানান শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা প্রত্যেকটা মানুষের জন্য চিন্তা করি। সবার বসবাসের সুব্যবস্থা করতে চাই। রাজনীতিবিদ হিসেবে এটাই নিজের কর্তব্য বলে মনে করি। জাতির পিতা আমাদেরকে শিখিয়ে গেছেন মানুষের কল্যাণে রাজনীতি করার কথা। আমরা সেটাই করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের নীতি অত্যন্ত স্পষ্ট। দেশে একজন মানুষও গৃহহারা থাকবে না। এটাই জাতির পিতার স্বপ্ন। এটা শুধু ঢাকায় নয়, সারাদেশে।’

এ সময় শেখ হাসিনা তার সরকারের নেয়া বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কথা স্মরণ করিয়ে এগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকারের ধারাবাহিকতা রক্ষা প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুপুর ১২টায় গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার উদ্বোধন করবেন।

প্রকল্পের পরিচালক সুশান্ত পাল বাসসকে বলেন, ‘ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ ইতোপূর্বে সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এটি গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উদ্ধোধন করবেন।’ খবর বাসসের।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর নগরবাসীর দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত এই ফ্লাইওভারটি জনসাধারণে ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। এতে যানজটের তীব্র যন্ত্রণা থেকে নগরবাসী যেমন রেহাই পাবেন তেমনি যাতায়াত সময়ও কমবে অনেক।

এই প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকা। এরমধ্যে সরকার অর্থায়ন করেছে ৪৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্ট (এসএফডি) এবং ওপেক ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ওএফআইডি) দিয়েছে ৭৭৬ কোটি ১৬ লাখ টাকা।

চার লেনের এ ফ্লাইওভারে ওঠানামার জন্য ১৫টি র্যা ম্প রয়েছে। তেজগাঁওয়ের সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল, বাংলামটর, মালিবাগ, রাজারবাগ পুলিশ লাইন এবং শান্তিনগর মোড়ে ওঠানামা করার ব্যবস্থা রয়েছে। এটি রিখটার স্কেলে ১০ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় বলে প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে। প্রতিটি পিলার পাইলের গভীরতা প্রায় ৪০ মিটার।

২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় ৯ কিলোমিটার লম্বা ফ্লাইওভারটির নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। ফ্লাইওভারটির কাজ তিন ভাগে করা হয়েছে। গত বছরের ৩০ মার্চ সাতরাস্তা-মগবাজার-হলি ফ্যামিলি হাসপাতাল অংশে যান চলাচল উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ওই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর ফ্লাইওভারের ইস্কাটন-মৌচাক অংশের উদ্বোধন করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তৃতীয় ধাপে এফডিসি মোড় থেকে সোনারগাঁও হোটেলের দিকের অংশটি যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় এ বছর ১৭ মে। এখন খুলে দেয়ার অপেক্ষায় রয়েছে ফ্লাইওভারের মগবাজার-মৌচাক-মালিবাগ-শান্তিনগর-রাজারবাগ অংশ।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের একাংশের উদ্বোধন করলেন এলজিআরডি মন্ত্রী

এর আগে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের সামনে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভারের কাওরান বাজার অংশের উদ্বোধন করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন।

তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে সোনারগাঁও লেভেল ক্রসিং হয়ে মগবাজার হলিফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত এ প্যাকেজের ৪৫০ মিটার অংশের উদ্বোধন করা হয়েছে।

এসময় এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, ‘ঈদের আগেই মৌচাক অংশের কাজ শেষ হবে। ফ্লাইওভারটি পুরোপুরি চালু হলে নগরীর যানজট অনেকাংশে লাঘব হবে। যানজট মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন নগরী গড়তে তার মন্ত্রণালয় নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।’

উদ্বোধনকালে অন্যান্যের মধ্যে – স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব আবদুল মালেক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী শ্যামা প্রসাদ অধিকারীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উদ্যোগে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর এ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে।

২০১১ থেকে ২০১৩ মেয়াদে ৭৭২ কোটি ৭০ লাখ টাকায় ডিপিপি অনুমোদন হয়। পরবর্তীতে সংশোধিত ডিপিপিতে জানুয়ারী’ ২০১১ হতে জুন’ ২০১৭ পর্যন্ত মেয়াদে ১২১৮ কোটি ৮৯ লাখ টাকায় অনুমোদিত হয়।

২০১৩ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ফ্লাইওভারের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের মধ্য দিয়ে ফ্লাইওভারের বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়।

মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার ঢাকা শহরের স্ট্রাটেজিক ট্রান্সপোর্ট প্ল্যানে (এসটিপি) অন্তর্ভূক্ত একটি প্রকল্প। দ্রুত বাস্তবায়নের সুবিধার্থে মগবাজার-মৌচাক ফ্লাইওভার নির্মাণ প্রকল্পটিকে ৩টি প্যাকেজে ভাগ করা হয়। তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে সোনারগাঁও লেভেল ক্রসিং হয়ে মগবাজার হলিফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত একটি প্যাকেজ এবং শান্তিনগর থেকে মালিবাগ, রাজারবাগ, মৌচাক হয়ে রামপুরা পর্যন্ত ও বাংলামটর থেকে মগবাজার হয়ে মৌচাক পর্যন্ত অপর দুটি প্যাকেজ বাস্তবায়িত হচ্ছে।

প্রকল্পটি সোনারগাঁও, মগবাজার ও মালিবাগ রেলক্রসিং এবং সাতরাস্তা, এফডিসি, মগবাজার, ওয়ারলেস গেইট, মৌচাক, মালিবাগ, রামপুরা ও শান্তিনগর মোড় অতিক্রম করেছে। ফ্লাইওভারটির মোট দৈর্ঘ্যরে ৮৭০০ মিটারের মধ্যে তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে হলিফ্যামিলি হাসপাতাল পর্যন্ত ২ দশমিক ১ কি: মি:

গত বছরের ৩০ মার্চ এবং মগবাজার মোড় হয়ে ওয়্যারলেস পর্যন্ত ১ কি: মি: একই বছরের ১৫ সেপ্টেম্বর যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। বাংলাদেশ সরকার এবং সৌদি ফান্ড ফর ডেভলপমেন্ট (এসএফডি) ও ওপিইসি ফান্ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভলপমেন্ট (ওএফআইডি) এর যৌথ অর্থায়নে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক