সিইসি আবারও বললেন জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা

সিইসি আবারও বললেন জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা

জিয়াউর রহমানকে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা বলার বিষয়ে যা বলেছি তা তথ্যভিত্তিক বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নুরুল হুদ। তিনি বলেন, ‘নিজে ধারণ করি বলেই জিয়াউর রহমানকে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠাতা বলেছি। তবে কাউকে খুশি করার জন্য বলিনি। যেটা বলেছি সেটা তথ্যভিত্তিক। আমি নিজেও এটা ওন (ধারন) করি।’

বৃহস্পতিবার আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে সংলাপ পরবর্তী সাংবাদিক সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বিষয়টির ব্যাখ্যা দিয়ে কেএম নুরুল হুদা বলেন, ‘আগে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র ছিল। কিন্তু ১৯৭৫ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের কোনও অস্তিত্ব ছিল না। তিনি (জিয়াউর রহমান) এটি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। তার ভিত্তিতেই দেশে নির্বাচন হয়েছিল এবং ওই নির্বাচনে অনেক দল অংশগ্রহণ করে।’

আওয়ামী লীগের সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের সংলাপের দিন নেতারা এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়েছিলেন কিনা- প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘তারা আমার কাছে এ বিষয়ে কোনও ব্যাখ্যা চাননি। তবে আমার বক্তব্যে তারা হয়তো ব্যাখ্যা পেয়েছিলেন।’

তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দলগুলো মধ্যে কোনো ধরণের সমঝোতার উদ্যোগ নেবে না। এটা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয়। এটা রাজনৈতিক দলগুলোকেই ঠিক করে নিতে হবে।

এর আগে মঙ্গলবার সাবেক সিইসি, নির্বাচন কমিশনারদের পেয়ে তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর কথা জানিয়ে সিইসি বলেন, ‘আজ বিচিত্র অভিজ্ঞতার গল্প শুনতে চাই। গল্প পরামর্শ আকারে গ্রহণ করব। যত্ন সহকারে তা সংরক্ষণ করব এবং বাস্তবে তা প্রয়োগ করব।’

সবাইকে স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ফেলে আসা পুরনো দিনগুলোর দিকে ফিরে তাকানোর সুযোগ হলো। এ সুযোগে আপনাদের স্বাগত, ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই।’

তিনি বলেন, ‘সুশীল সমাজ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, ৪০টি নিবন্ধিত দল, পর্যবেক্ষক ও নারী নেত্রীদের সঙ্গে প্রায় তিন মাস ধরে অনেক মূল্যবান কথা শুনেছি। অনেক ভারি ভারি মতামত এসেছে। আজ আপনাদের পেয়ে অনেকটা হালকা অনুভব করছি।’

এ সংলাপে সাবেক সিইসি বিচারপতি আব্দুর রউফ, এটিএম শামসুদ হুদা, ছহুল হোসাইন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুল মোবারক, আবু হাফিজ, শাহ নেওয়াজসহ সাবেক নির্বাচন কমিশনার, সাবেক ইসি সচিব, সাবেক স্বরাষ্ট্র সচিব, সাবেক আইজিপি, সাবেক বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও চারজন নির্বাচন কমিশনার, ইসির ভারপ্রাপ্ত সচিবসহ উধ্বর্তন কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ৩১ জুলাই সুশীল সমাজের প্রতিনিধির মাধ্যমে সংলাপের সূত্রপাত হয়। এরপর ১৬ ও ১৭ আগস্ট গণমাধ্যমের প্রতিনিধি, গত ২৪ আগস্ট থেকে গত ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত নিবন্ধিত ৪০ টি রাজনৈতিক দল, ২২ অক্টোবর নির্বাচন পর্যবেক্ষক এবং ২৩ অক্টোবর নারী নেত্রীদের সঙ্গে সংলাপ করে ইসি। আজ নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের এই সংলাপের মধ্যদিয়ে ইসির ধারাবাহিক সংলাপ শেষ হয়।

পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশ্য করে সিইসি বলেন, ‘আমরা আপনাদের পরামর্শ নিয়েই প্রণয়ন করেছি। যাদেরকে নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে মাঠে পাঠাবেন, তাদেরকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিবেন বলে আশা করি। পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যেনো সামগ্রিক ভোট কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয়, সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে।’

পর্যবেক্ষকদের দায়িত্ব পালনকালে যেনো সামগ্রিকভাবে ভোট কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত না হয় সে দিকে লক্ষ্য রাখার জন্য পর্যবেক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক