প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও প্রোটিয়ানদের কাছে হার টাইগারদের

প্রথম টি-টোয়েন্টিতেও প্রোটিয়ানদের কাছে হার টাইগারদের

দুই দলেরই নিজেদের মধ্যকার লড়াইয়ের সর্বোচ্চ রান। আগে ব্যাটিং করতে নেমে ২০১৫ সালে ঢাকায় করা ১৬৯ রান টপকে ১৯৫ রান করে দক্ষিণ আফ্রিকা। জবাবে বাংলাদেশও তুলে সর্বোচ্চ ১৭৫ রান। কেপটেউনে আগের সর্বোচ্চ ১৪৪। পার্থক্য একটাই, দক্ষিণ আফ্রিকা সর্বোচ্চ রান তুলে জিতেছে, বাংলাদেশ সর্বোচ্চ রান পেয়েও হেরেছে।বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত থেমেছে ১৭৫ রানে। ফলে সংক্ষিপ্ত এই ফরম্যাটেও হারে শুরু হলো সফরকারীদের। হারটা ছিল ২০ রানের।

দক্ষিণ আফ্রিকার ১৯৫ রানের জবাবে উড়ন্ত সূচনা করে বাংলাদেশ। দুই ওপেনারের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে রানের চাকা সচল ছিল শুরুর দিকে। ওপেনিং জুটিতে আসে ৪৩ রান। চতুর্থ ওভারে জুটি ভাঙেন হ্যান্ড্রিকস। ইমরুলকে ১০ রানে তালুবন্দী করেন তিনি। এরপর অধিনায়ক সাকিব নেমে দৃষ্টিনন্দন শট খেলেছিলেন। তবুও থিতু হতে পারেননি। ১৩ রানে ব্যাট করতে থাকা অধিনায়ককে ক্যাচ আউটে সাজঘরে ফেরান অভিষিক্ত রবি ফ্রাইলিঙ্ক।

অপর দিকে সঙ্গী কাউকে না পেলেও ঝড় বইয়ে দিতে থাকেন ওপেনার সৌম্য সরকার। হাফসেঞ্চুরির দিকেই ছিলেন একসময়। কিন্তু ব্যক্তিগত ৪৭ রানে তাকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ফেহলুকায়ো। যদিও শুরুতে আম্পায়ার আউট দেননি। রিভউ নিলে পরে টিভি আম্পায়ারের সিদ্ধান্তে সাজঘরে ফেরেন ৩১ বলে দুর্দান্ত ইনিংস খেলা ওপেনার।

কিছুক্ষণ বড় শট খেলে সাজঘরে ফেরেন মুশফিকও। মুশফিককে বিদায় করেন ফাঙ্গিসো। নতুন নামা মাহমুদউল্লাহকেও থিতু হতে দেননি ফেহলুকায়ো। লিডিং এজ হলে তালুবন্দী হন আমলার। আসা যাওয়ার মিছিল দেখে হয়তো প্রতিরোধ গড়তে চেয়েছিলেন সাব্বির। দুটি ছক্কার সাহায্যে ১৬ বলে করেছিলেন ১৯ রান। কিন্তু তাকেও সাজঘরে ফেরান হ্যান্ড্রিকস।

মেহেদী হাসান মিরাজ ও সাইফউদ্দিন চেষ্টা করেছিলেন রানের গতি বাড়াতে। গুরুত্বপূর্ণ এই জুটি ভেঙে দিয়ে নিজেদের জয়টাকে আরও কাছে নিয়ে আসেন ডেন প্যাটারসন। মেহেদী হাসান মিরাজকে করেন বোল্ড এরপরের বলে তাসকিনকে এলবিডাব্লউতে ফেরান তিনি। মিরাজ ফেরেন ৮ বলে ১৪ রান করে। যাতে ছিল একটি চার ও একটি ছয়। এরপর শেষ দিকে অপরাজিত ছিলেন সাইফউদ্দিন (৩৯) ও রুবেল হোসেন (২)। কিছু রান আসলেও শেষ দিকে তা ব্যবধান কমায় মাত্র।

প্রোটিয়াদের পক্ষে দুটি করে উইকেট নেন ফেহলুকায়ো, প্যাটারসন, ফ্রাইলিঙ্ক ও হ্যান্ড্রিকস। একটি নেন ফাঙ্গিসো।ম্যাচসেরা হন এবি ডি ভিলিয়ার্স।

এর আগে টস হেরে বোলিংয়ে নেমেছিল বাংলাদেশ। শুরুতে না পারলেও মাঝের দিকে নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেছিল। তাতেও দক্ষিণ আফ্রিকার রানের চাকার গতি কমাতে পারেনি সফরকারীরা। বাংলাদেশকে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ১৯৬ রানের লক্ষ্য দেয় স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। ৪ উইকেটে প্রোটিয়ারা সংগ্রহ করেছে ১৯৫ রান।

শুরুতে দুই প্রান্তে আক্রমণে ছিলেন দুই স্পিনার সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। উল্টোদিকে আগ্রাসী ছিল দক্ষিণ আফ্রিকাও। কিন্তু দ্বিতীয় ওভারে মিরাজ আসলে খানিকটা রাশ টেনে ধরেন তিনি। আর এই ওভারের শেষ বলেই আমলাকে বোল্ড করে ফেরান সাজঘরে। এরপর অবশ্য ডি ভিলিয়ার্স নামলে ঝড়ো গতিতে রান তুলতে থাকে প্রোটিয়ারা। ডি কক ও ডি ভিলিয়ার্স মিলে গড়েন ৭৯ রানের জুটি। আর এই জুটিতেই ১০ ওভারে আসে ৯৭ রান। তবে দশম ওভারে ফের আঘাত হানেন স্পিনার মিরাজ। উঠিয়ে মারতে গিয়ে ৪৯ রানে বিদায় নেন ডি ভিলিয়ার্স। এরপর ডি কক করেন হাফসেঞ্চুরি। সাকিবের ওভারে ছক্কা মেরে পূরণ করেন হাফসেঞ্চুরি। আর এই ওভারেই মারতে গিয়ে বাউন্ডারির কাছে ইমরুলের হাতে তালুবন্দী হন জেপি দুমিনি। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় দুর্দান্ত ক্যাচ লুফে নেন ইমরুল। দুমিনি ফেরেন ১৩ রানে।

এরপর রুবেলের ১৫তম ওভারে লেগ বিফোরের শিকার হন কুইন্টন ডি কক। রুবেলের ফুলার লেন্থের ডেলিভারিতে অস্বস্তিতে ভুগছিলেন ডি কক। শেষ পর্যন্ত সেই ডেলিভারিতেই এলবিডাব্লিউ হয়ে প্রোটিয়া ওপেনার ফেরেন ৫৯ রানে। ৪৪ বলের ইনিংসে ছিল ৫টি চার ও একটি ছয়। এরপর প্রোটিয়াদের রানের চাকা সচল রেখে ১৯৫ রানের পুঁজি পাইয়ে দেন ডেভিড মিলার (২৫) ও ফারহান বেহারদিয়েন (৩৬)।

ব্লুমফন্টেইনে সাকিবের দায়িত্বের মধ্য দিয়ে তিন অধিনায়কের যুগে প্রবেশ করেছে বাংলাদেশ। ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশ এগোচ্ছিল দুই অধিনায়কের কাঁধে চড়ে। বৃহস্পতিবার সাকিব আল হাসানের টসের মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো পা রেখেছে ‘তিন অধিনায়কের যুগে’। যদিও তাতে হারটাই সঙ্গী ছিল সফরকারীদের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ২০ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকা: ১৯৫/৪ (২০ ওভার)

(কুইন্টন ডি কক ৫৯, হাশিম আমলা ৩, এবি ডি ভিলিয়ার্স ৪৯, জেপি ডুমিনি ১৩, ডেভিড মিলার ২৫*, ফারহান বিহারডাইন ৩৬*; সাকিব আল হাসান ১/২৮, মেহেদী হাসান মিরাজ ২/৩১, রুবেল হোসেন ১/৩৪, তাসকিন আহমেদ ০/২১, শফিউল ইসলাম ০/৩৩, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ০/২০, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ০/২৩)।

বাংলাদেশ ইনিংস: ১৭৫/৯ (২০ ওভার)

(ইমরুল কায়েস ১০, সৌম্য সরকার ৪৭, সাকিব আল হাসান ১৩, মুশফিকুর রহিম ১৩, সাব্বির রহমান ১৯, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৩, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৩৯*, মেহেদী হাসান মিরাজ ১৪, তাসকিন আহমেদ ০, শফিউল ইসলাম ১, রুবেল হোসেন ২*; ডোয়াইন প্যাটারসন ২/২৯, রিজা হেন্ডরিকস ২/৪২, রব্বি ফ্রাইলিঙ্ক ২/৩৩, আন্দিল ফেহলাকওয়েও ২/২৫, জেপি ডুমিনি ০/১৫, অ্যারোন ফাঙ্গিসো ১/৩০)।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট