যে কারণে কেনেডি হত্যার সব দলিল প্রকাশ করা হলো না

যে কারণে কেনেডি হত্যার সব দলিল প্রকাশ করা হলো না

 

আমেরিকার ৩৫তম প্রেসিডেন্ট জন এফ. কেনেডি নিহত হওয়ার ৫৪ বছর পর অবশেষে তার হত্যা রহস্যের দলিলের একাংশ প্রকাশ করা হয়েছে। অবশ্য আমেরিকার ন্যাশনাল আর্কাইভে রক্ষিত ৬০,০০০ দলিলের মধ্যে মাত্র ২,৮০০ দলিল প্রকাশ করা হয়েছে এবং বাকি দলিল প্রকাশের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

১৯৬৩ সালের ২২ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাস শহরে কেনেডির হত্যাকাণ্ড যেমন ছিল বিস্ময়কর তেমনি তা বহু প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। মার্কিন সরকারের পক্ষ থেকে দেয়া তথ্যমতে, লি হারভি ওসওয়াল্ড নামের এক ব্যক্তি কেনেডিকে হত্যা করে এবং তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা হয়। কিন্তু কেনেডি হত্যার একদিন পর পুলিশের হেফাজতে থাকা অবস্থায় এক জেল থেকে আরেক জেলে নেয়ার সময় ওসওয়াল্ডকে জ্যাক রুবি নামের আরেক ব্যক্তি হত্যা করে।

গত অর্ধশতকেরও বেশি সময় ধরে গবেষকরা যেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাননি তা হচ্ছে, কেনেডিকে কি সত্যিই ওসওয়াল্ড খুন করেছিল নাকি তার প্রকৃত খুনি ছিল অন্য কেউ? ঘাতক কি উদ্দেশ্যে আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্টকে হত্যা করতে গিয়েছিল? ওসওয়াল্ড বেঁচে থাকলে কি এমন রহস্য প্রকাশ হয়ে যেত যে তাকেও হত্যা করা হলো? সর্বোপরি কেনেডিকে হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী কে বা কারা ছিল এবং তারা কেনইবা প্রেসিডেন্টকে হত্যা করেছিল?

ওই হত্যাকাণ্ডের পর মার্কিন কংগ্রেস যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করে তা আরো অনেক নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়।ওই প্রতিবেদনে ওসওয়াল্ডকে কেনেডির ঘাতক হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও আদালতে তার অপরাধ প্রমাণিত হয়নি। এ ছাড়া, আমেরিকার আইন অনুযায়ী যেকোনো গোপন রহস্য প্রকৃত ঘটনা ঘটার ৩০ বছর পর প্রকাশ করতে হয়। কিন্তু কেনেডি হত্যাকাণ্ডের ২৯ বছরের মাথায়  ১৯৯২ সালে মার্কিন কংগ্রেস নজিরবিহীনভাবে আরো ২৫ বছরের ওই সময় বাড়িয়ে নেয় এবং ঘোষণা করে ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর এই হত্যাকাণ্ডের দলিল প্রকাশ করা হবে।

সেই ২৫ বছর পার হওয়ার পরও এখন কেনেডি হত্যাকাণ্ডের পুরো দলিল প্রকাশ করা হলো না। অথচ দেশ-বিদেশের সবাই এখন একটা প্রশ্নেরই উত্তর জানতে চায় আর তাহলো- কেনেডি হত্যাকাণ্ডের মূল হোতা কে ছিল?

এক্ষেত্রে সন্দেহভাজনদের তালিকায় রয়েছে, সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়ন, ফিদেল ক্যাস্ট্রোর নেতৃত্বাধীন তৎকালীন কিউবা সরকার, মাদক চোরাকারি, মার্কিন রাজনৈতিক নেতৃত্ব, সিআইএ এবং মার্কিন সেনাবাহিনীসহ আরো অনেকে।

কেনেডি হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচিত হলে আমেরিকার রাষ্ট্র পরিচালনার বহু গোপন তথ্য ফাঁস হয়ে যাবে। এ কারণে, মার্কিন প্রশাসন এতবড় জঘন্য একটি ঘটনার গোপন দলিল প্রকাশ করতে এখনো অস্বীকৃতি জানিয়ে যাচ্ছে। এর অর্থ হচ্ছে এই যে, অর্ধ শতাব্দির বেশি সময় পর এখনো কেনেডি হত্যা রহস্যের সঙ্গে আমেরিকার বহু রাঘব-বোয়ালের স্বার্থ জড়িয়ে রয়েছে। যে কারণে এই দলিল প্রকাশের বিষয়টিকে আবার অনির্দিষ্টকালের জন্য হিমাগারে পাঠিয়ে দেয়া হলো।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট