ফেনীতে খালেদার গাড়িবহরে হামলা, আ. লীগকে দায়ী করল বিএনপি

ফেনীতে খালেদার গাড়িবহরে হামলা, আ. লীগকে দায়ী করল বিএনপি

রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ বিতরণের জন্য ঢাকা থেকে কক্সবাজার যাওয়ার পথে ফেনীর ফতেপুরে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলা করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,  শনিবার বিকেলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ দলীয় মেয়র হাজী আলাউদ্দিনের মালিকানাধীন স্টার লাইন পেট্রল পাম্পের কাছ থেকে ৪০ থেকে ৫০ জন দুর্বৃত্ত লাঠিসোঁটা নিয়ে গাড়িবহরে হামলা চালায়। এসময় সাংবাদিকদের গাড়িসহ কমপক্ষে ১৫ থেকে ২০টি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে হামলায় একাত্তর টিভি, সময় টিভি, বৈখাশী টিভি, বাংলাভিশনের রিপোর্টার ও চ্যানেল আই’র ক্যামেরাম্যানসহ পাঁচ সাংবাদিক আহত হয়েছেন। এ সময় দুটি টেলিভিশন চ্যানেলের গাড়ি ও ক্যামেরা ভাঙচুর করা হয়।

জয় বাংলা শ্লোগান দিয়ে হামলা

হামলার শিকার সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা এ হামলা চালিয়েছে। দুর্বৃত্তরা ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দিয়ে হামলা চালায়। এদের কারও কারও হাতে আগ্নেয়াস্ত্রও দেখা গেছে।

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ফেনীতে যাত্রা বিরতি উপলক্ষে নেতা-কর্মীদের অংশগ্রহণ ঠেকাতে এর আগেই দাগনভূঁইয়া উপজেলার তুলাতুলি, বেকেরবাজার ও রামনগরের তিনটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে অবরোধ করা হয়।

ফেনী পৌর বিএনপির সভাপতি আলাল উদ্দিন আলাল বলেন, বেগম খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানতে নেতা-কর্মীরা জেলার ৬ উপজেলা থেকে ফেনীতে আসতে বাঁধা দিয়েছে সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা।

ব্যানার-ফেস্টুন ভেঙে আগুন

এছাড়া, ফেনীতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অভ্যর্থনা জানাতে টাঙানো ব্যানার ফেস্টুন ভেঙে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার   দুপুরে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দেবীপুরের বিসিক রাস্তা ও মহিপাল এলাকাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মনিরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এ ব্যাপারে জেলা যুবদলের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন পাটোয়ারী জানান, ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতা-কর্মীরা ব্যানার ফেস্টুনে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। নেতা-কর্মীদের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি করার জন্য ও বিএনপি চেয়ারপারসনের অনুষ্ঠানে যোগদান থেকে মানুষকে বিরত রাখতেই এ ধরনের অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।

মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শন এবং তাদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণের জন্য বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শনিবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে  গুলশানের বাসা থেকে বের হন। সকাল ১০ টা ৪০ মিনিটে বেগম খালেদা জিয়া গুলশানের বাসভবন থেকে রওনা হয়ে নয়াপল্টনে পৌঁছালে সেখানে স্লোগানে মুখরিত নেতাকর্মীরা তাকে স্বাগত জানান।

সেখান থেকে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের সিনিয়র নেতৃবৃন্দসহ বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীসহ বেগম জিয়ার বহর, কাঁচপুর ব্রিজহয়ে কুমিল্লার পথে রওয়ানা হন।

তার যাত্রার পথে পথে ব্যাপক জনসমাগমঘটে। আসন্ন নির্বাচনে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক নেতাদের জনসমর্থন-লোকবল প্রদর্শনের জন্য এসব সমাবেশ আয়োজন করা হয়। এসময় মহাসড়কের দুই ধারে ব্যানার -ফেস্টুন ঝুলিয়ে  বেগম জিয়াকে স্বাগত জানানো হয়।

কুমিল্লায় পুলিশের লাঠিচার্জ

এর আগে, বেগম খালেদা জিয়াকে স্বাগত ও অভ্যর্থনা জানাতে কুমিল্লার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের উপর অবস্থান করা নেতাকর্মীদের উপর লাঠিচার্জ করেছে পুলিশ। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সদর দক্ষিণ উপজেলার মোস্তফাপুর এলাকায় এ ঘটনায় অন্তত ১০ নেতাকর্মী আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

মুন্সীগঞ্জে গাড়ি আটকে রাখার চেষ্টা

মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল হাই অভিযোগ করেন যে, খালেদা জিয়ার গাড়ি বহর গজারিয়া পার হওয়ার আগে বেলা পৌনে ১২টা থেকে ১২টা পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা ঢাকা চট্টগ্রাম মহাসড়কে গাড়ি অবরোধ করে আটকে রাখার চেষ্টা চালায়। এসময় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকে। এ সময় তারা যাত্রীবাহী একটি বাস ভাংচুর করে বাধা প্রদান করে।

শনিবার বিকেল ৫টায় বেগম জিয়ার গাড়িবহর ফেনী সার্কিট হাউজে পৌঁছে। সেখানে কিছুটা সময়  যাত্রাবিরতির পর বেগম জিয়ার গাড়ী বহর চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়। বেগম জিয়া চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে  রাত্রিযাপন করার কথা রয়েছে।

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের

বেগম জিয়া কেন বিমান বা হেলিকপ্টারে গেলেন না?

এদিকে, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সরকারের সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের প্রশ্ন তুলেছেন, বেগম জিয়া কেন বিমান বা হেলিকপ্টারে নিয়ে কক্সবাজার গেলেন না? এতে দেশের মানুষ বেগম খালেদা জিয়ার ষড়যন্ত্রের গন্ধ পাচ্ছে। রোহিঙ্গাদের নিয়ে উনি মানবতা দেখাচ্ছেন না, রাজনীতি করছেন। কক্সবাজার যাওয়া শত গাড়ির তেলের টাকা দিয়ে রোহিঙ্গাদের সাহায্য করা যেত।

খালেদার সফর রাজনৈতিক

তাছাড়া, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক এনামুল হক শামীম বলেছেন, বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া মানবিক কারণে নয়, রাজনৈতিক কারণে রোহিঙ্গাদের কাছে যাচ্ছেন। নেতাকর্মীদের গাড়ি নিয়ে ত্রাণ বিতরণ কাজের প্রতিবদ্ধকতা তৈরি করতেই সেখানে যাচ্ছেন। এর আগে বিএনপি নেতারা গিয়ে ফটোসেশন করেছে এসেছেন, আর তাদের দলের নেত্রী রাজনীতি করতে যাচ্ছেন।

খালেদার সফরসূচি- সফর কর্মসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল ২৯ অক্টোবর বেগম জিয়া কক্সবাজার পৌঁছবেন এবং ৩০ অক্টোবর কক্সবাজার জেলার উখিয়া, বালুখালী, বোয়ালমারা এবং জামতলী এলাকায় অবস্থিত রোহিঙ্গা আশ্রয় শিবিরগুলোতে অবস্থানরতদের পরিদর্শন ও দুর্গতদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ শেষে ৩১ তারিখে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট