শাকিব খানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করলেন সিএনজি চালক!

শাকিব খানের বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা করলেন সিএনজি চালক!

স্ত্রী চলে গেছেন বাপের বাড়ি। ফোনের জ্বালায় রাতে ঘুমাতে পারেন না তিনি। বাড়ি থেকে বের হলেই শুনতে হয় টিপ্পনী। জীবনটা এমনই অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামের সিএনজি অটোরিকশাচালক ইজাজুল মিয়া।

ফলে বাধ্য হয়ে হবিগঞ্জে চিত্রনায়ক শাকিব খানের বিরুদ্ধে প্রতারণা ও মানহানির মামলা করেছেন তিনি। আজ রবিবার জেলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এ মামলা দায়ের করেন ইজাজুল। প্রতারণার অভিযোগের পাশাপাশি ৫০ লাখ টাকার মানহানির এই মামলায় আসামি করা হয়েছে শাকিব খান অভিনীত ‘রাজনীতি’ সিনেমার পরিচালক বুলবুল বিশ্বাস ও প্রযোজক আশফাক আহমেদকেও।

মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, ‘রাজনীতি’ সিনেমায় বিনা অনুমতিতে ইজাজুলের ব্যক্তিগত মোবাইলফোন নম্বর ব্যবহার করেছেন অভিযুক্তরা। এর ফলে আর্থিক ও সামাজিকভাবে ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন ইজাজুল। স্ত্রী, পরিবার এবং পরিচিতজনের কাছে তাকে হেয় হতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

গত রোজার ঈদে ‘রাজনীতি’ ছবিটি মুক্তি পায়। অভিযোগ থেকে জানা যায়, প্রায় ২ ঘণ্টা ১৬ মিনিট ১১ সেকেন্ড ব্যাপ্তির রাজনীতি সিনেমার ২৬ মিনিট ১২ সেকেন্ড সময়ে শাকিব খানের সঙ্গে নায়িকা অপু বিশ্বাসের ডায়ালগে শাকিব খান তার ফোন নম্বর হিসেবে ০১৭১৫-২৯৫২২৬ নম্বরটি উল্লেখ করেন।

তবে প্রকৃতপক্ষে গ্রামীণফোনের এই সংযোগ নম্বরটির মালিক হচ্ছেন হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার যাত্রাপাশা গ্রামের ইজাজুল মিয়া।

এদিকে, সিনেমায় এই নম্বর দেয়ার পর ইজাজুলের নম্বরে অসংখ্য ফোন আসতে থাকে। তাদের বেশিরভাগই মেয়েদের নম্বর। এ ছাড়া শাকিব খান মনে করে খুলনা থেকে এক গৃহকর্মী চলে আসেন বানিয়াচংয়ে ইজাজুলের বাড়িতে।

এ ধরনের বিভিন্ন বিব্রতকর ঘটনায় এক সন্তানের জনক ইজাজুলের সংসার ভাঙার উপক্রম হয়। এ অবস্থায় অনুমতি ছাড়া সিনেমায় মোবাইল নম্বর ব্যবহার এবং তা প্রচারের ঘটনায় প্রতারণা ও ৫০ লাখ টাকার মানহানির মামলা করা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট সম্পা জাহান মামলাটি গ্রহণ করে পরবর্তী আদেশ দেয়া হবে বলে জানান।

ইজাজুল জানান, সিনেমায় তার পুরো নাম্বারটি প্রকাশ হওয়ায় জুলাই মাসে মুক্তির পর থেকেই তার প্রচুর ফোন আসতে থাকে। সবাই তাকে শাকিব খান ভেবে কল দেয়।

ভুক্তভোগী ইজাজুল বলেন, আমি আসলেই শাকিব খান কি-না তা যাচাই করার জন্য তানিয়া নামে এক তরুণী কিছুদিন আগে খুলনা থেকে হবিগঞ্জ চলে আসেন। মা-বাবাকে না জানিয়েই তিনি আসেন। পরে তাকে গাড়িতে তুলে বিদায় দিয়েছি। এই খবর শুনে আমার বউ রাগ করে বাপের বাড়ি চলে যায়। তাকে কিছুতেই বোঝাতে পারিনি। নিজের বাবা-মা এবং প্রতিবেশীরাও তাকে অবিশ্বাস করতে শুরু করেন বলে দাবি ইজাজুলের।

অতিষ্ঠ হয়ে গত মাসে বানিয়াচং থানায় জিডি করেছিলেন ইজাজুল। এরপরও ফোন আসা বন্ধ না হওয়ায় রবিবার আদালতে মামলা করলেন তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট