ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসক-নার্সদের ওপর হামলা

ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসক-নার্সদের ওপর হামলা

রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনেরা আজ রোববার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার পর ওই হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসাসেবা বন্ধ করে দেন চিকিৎসকেরা। তিন ঘণ্টা পর বিকেল পাঁচটার দিকে ওই বিভাগ খুলে দেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্রগুলো জানায়, গতকাল শনিবার রাতে পুরান ঢাকা থেকে নওশাদ আহমেদ নামের এক ব্যক্তি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে আসেন। তাঁকে হাসপাতালের ভবন ২-এ নেওয়া হয়। পরে তাঁকে করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়। আজ দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নওশাদ মারা যান। এরপর তাঁর স্বজনেরা ভবনটির তৃতীয় তলায় সিসিইউতে দায়িত্বরত চিকিৎসক ও নার্সদের ওপর চড়াও হন। তাঁরা চিকিৎসকদের মারধর করেন। নার্সদেরও মারার জন্য তেড়ে যান। তাঁরা হাসপাতালের ওষুধ ও সরঞ্জাম রাখার ট্রলি উল্টে ফেলে দেন।

একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা ছুটে গেলে মৃতের স্বজনেরা তাঁদের ওপরও চড়াও হন। এই হামলায় চার চিকিৎসক ও আনসারের তিনজন সদস্য আহত হন। এক চিকিৎসকের হাত ভেঙে যায়। পরে চিকিৎসকেরা ছুটে আসেন এবং হাসপাতালের সব কটি ভবনের ফটক বন্ধ করে দেন। পরে অন্য ফটকগুলো খুলে দেওয়া হলেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসা সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে বিকেল পাঁচটার দিকে জরুরি বিভাগ খুলে দেওয়া হয়।

আজ বিকেলে হাসপাতালের এক চিকিৎসক বলেন, রোগীর স্বজনেরা বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিনের লোক বলে নিজেদের পরিচয় দেন। মৃত নওশাদের বাড়ি লালবাগের খাজে দেওয়ান এলাকায়। তাঁর লাশটি এখনো সিসিইউতে আছে। মৃত্যু সনদ এখনো কোনো চিকিৎসক লিখে দেননি।

খবর পেয়ে বিএমএর সভাপতি মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বিকেলে হাসপাতালে যান। বিকেলে হাসপাতালের চিকিৎসকদের সঙ্গে তিনি বৈঠক করেন।

পরে হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম নাসির উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, এ ঘটনাকে কোনোভাবেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। তিন দিন আগে ওই রোগীর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল। তিন দিন অন্য হাসপাতালে থাকার পর গতকাল রাতে ওই রোগীকে এখানে আনা হয়। হাসপাতালের সবচেয়ে দক্ষ চিকিৎসকেরা তাঁকে বাঁচানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁকে বাঁচানো যায়নি। এটা বুঝতে হবে যে, সবকিছু চিকিৎসকদের হাতে থাকে না। দেখার বিষয় হলো, চিকিৎসকেরা কোনো অবহেলা করেছেন কি না।

হাসপাতালের পরিচালক আরও বলেন, ওই রোগীর স্বজনেরা চারজন চিকিৎসক ও তিনজন আনসার সদস্যকে আহত করেছেন। হামলায় এক চিকিৎসকের হাত ভেঙে গেছে।

জরুরি বিভাগ বন্ধ রাখার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন একটা কমিউনিটির ওপর হামলা হয়, তখন তাঁরা ক্ষুব্ধ হতেই পারেন। সর্বোচ্চ এক-দেড় ঘণ্টা জরুরি বিভাগ বন্ধ ছিল। চিকিৎসকদের নিরাপত্তা যদি দিতে না পারি, তবে তাঁরা চিকিৎসা দেবেন কীভাবে।’

শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল হাসান বলেন, এ ঘটনায় পুলিশ দুজনকে আটক করেছে। তাঁরা দুজন ওই মৃত ব্যক্তির ভাই।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট