পাকিস্তানকে সতর্ক করল বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে সতর্ক করল বাংলাদেশ

‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান নন, জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক’- ভিডিওতে এমন প্রচারনা চালানোর কারণে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার রফিউজ্জামান সিদ্দিকীকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

মঙ্গলবার তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ডেকে নিয়ে কড়া প্রতিবাদ জানানোর পরপরই ভিডিওটি ফেসবুক থেকে মুছে ফেলেছে পাকিস্তান হাইকমিশন।

গত বৃহস্পতিবার পাকিস্তান হাইকমিশনের পাকিস্তান অ্যাফেয়ার্স নামে একটি ফেসবুক পেজে ১৩ মিনিট ৪৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও শেয়ার করা হয়। ওই ভিডিওতে আরও দাবি করা হয়, ‘শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা চাননি, তিনি স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলেন।’

জিয়াকে কেউ চিনতো না: তোফায়েল

এদিকে, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা নিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের ওয়েবসাইটে আপলোড করা ভিডিও’র কড়া প্রতিবাদ জানিয়ে আওয়ামী লীগ নেতা তোফায়েল আহমেদ বলেছেন, মহান নেতা বঙ্গবন্ধুর কথাতেই দেশ স্বাধীন হয়েছে। তখন জিয়াউর রহমানকে কেউ চিনতোও না।

আজ সচিবালয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া জানিয়ে তোফায়েল আহমেদ বলেন, এটা দুর্ভাগ্যজনক এবং ঘৃণিত। যারা এই কথা বলে তাদের ঘৃণা।

তিনি বলেন, “জিয়াউর রহমান নামে একটা লোক আছে, আমি তোফায়েল আহমেদ জানতাম না। আমরা যখন ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান করি, তখন জিয়াউর রহমান নামও ছিল না। বঙ্গবন্ধু যখন ২৬ মার্চ স্বাধীনতা ঘোষণা করেন, তখন জিয়াউর রহমান নামে কোনো মানুষ আছে বলে আমরা জানতাম না। জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে না থেকে যদি পাকিস্তানে থাকতেন, অথবা ঢাকায় থাকতেন, তিনি পাকিস্তানের পক্ষ অবলম্বন করতেন। কারণ তিনি স্বাধীনতায় বিশ্বাসী ছিলেন না। তার বড় প্রমাণ, সংবিধানকে তিনি তছনছ করেছেন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দখল করেন। চারটি মূল নীতিকে তিনি তছনছ করেছেন। আমরা যারা অসাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেছি, সেখানে সাম্প্রদায়িকতার রাজনীতি এনে, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি নিষিদ্ধ ছিল, সেটা তিনি চালু করেছেন। সুতরাং, তিনি মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন না, ঘোষণার তো প্রশ্নই ওঠে না।”

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র  জানায়, এর আগেও পাকিস্তান হাইকমিশনের ফেসবুক পেজে অন্য দেশের প্রতি বিদ্বেষমূলক প্রচারণা চালানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ নিয়ে যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, এর মধ্যে সুস্পষ্ট উসকানি রয়েছে। ঐতিহাসিকভাবে স্বীকৃত বিষয় নিয়ে পাকিস্তান হাইকমিশনের নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টির চেষ্টা দূরভিসন্ধিমূলক।

প্রসঙ্গত, মুক্তিযোদ্ধা ডা. এমএ সালামের  করা এক জনস্বার্থ রিট মামলায় ২০০৯ সালের ২১ জুন বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক ও বিচারপতি মমতাজ উদ্দিন আহমেদের হাইকোর্ট বেঞ্চ এক ঐতিহাসিক রায়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকেই স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে রায় দেন। সেই সঙ্গে আদালত জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবে উপস্থাপন করে প্রকাশিত ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধ, দলিলপত্র’-এর তৃতীয় খণ্ড বাতিল ঘোষণা করেন এবং সেই খণ্ডটি দেশ-বিদেশের সব স্থান থেকে বাজেয়াপ্ত ও প্রত্যাহার করারও নির্দেশ দেন।

সম্পর্কিত সংবাদ
নিজস্ব প্রতিবেদক