গাড়িতে আগুন দেয়া সরকারের বর্বরতম পরিকল্পনারই অংশ: খালেদা জিয়া

গাড়িতে আগুন দেয়া সরকারের বর্বরতম পরিকল্পনারই অংশ: খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেছেন, ‌‌‘ঢাকা ফেরার পথে ফেনী শহর অতিক্রম করার সময় আজও আমার গাড়িবহরে পেট্রলবোমা নিক্ষেপসহ দুটি গাড়িতে আগুন লাগিয়ে আতঙ্কের যে পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছে তা সরকারের বর্বরতম পরিকল্পনারই অংশ।’ গতকাল মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে ৪ দিনের সফর শেষে রাত পৌনে ৯টায় গুলশানের বাসভবন ফিরোজাতে পৌঁছান তিনি।

বেগম জিয়া বলেন, আওয়ামী লীগ কোনো আধুনিক রাজনৈতিক দল নয়, এটি সন্ত্রাসীদের আখড়া। এরা সবসময় রক্ততৃষ্ণায় কাতর থাকে। এ দলটি দেশকে হত্যা, দখল, হাঙ্গামা, রক্তারক্তি ও খুনোখুনিতে ভরিয়ে দিতে চাচ্ছে। এ দলটির পরতে পরতে জড়িয়ে আছে মানবাত্মার অবমাননার বিভিন্ন দিক। জনগণের হাড়গোড় চিবিয়ে এরা ভয়ঙ্কর নরপিশাচে পরিণত হয়েছে। আর দেশব্যাপী এ পিশাচদের দোর্দণ্ড পদচারণার প্রধান কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা হয়েছে ফেনী জেলাকে।

বেগম জিয়া হামলার বিচার চেয়ে বলেন, আমি আজ গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় জড়িত দুষ্কৃতিকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আহ্বান জানাচ্ছি।

খালেদা জিয়া বলেন, ফেনী শহর এখন বিবেকবর্জিত সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য। রোহিঙ্গাদের মানবিক বিপর্যয়ে সহায়তা দিতে বাধা দানের উদ্দেশ্যে তারা আমার গাড়ি বহরে চৈতন্যহীন বর্বর আক্রমণ চালাতে দ্বিধা করেনি। শুধু অসংখ্য গাড়ি কিংবা দলের নেতাকর্মীদেরকে আঘাত করা নয়, তারা দায়িত্বরত সাংবাদিকদের ওপরও নৃশংস আঘাত করেছে এবং তাদের যানবাহন ভাঙচুর করেছে।

খালেদা জিয়া বলেন, দেশে এখন জবাবদিহিতাহীন নির্মম দুঃশাসন বিরাজমান বলেই সন্ত্রাসীদের বেপরোয়া বিস্তারলাভ ঘটেছে। তাদের সৃষ্ট অবসন্ন গণতন্ত্রে মানুষকে বন্দি করে রাখা হয়েছে। দেশের ন্যায় বিচার মহাশূন্যে বিলীন হয়ে গেছে। বিচারহীনতার কারণেই সন্ত্রাসীরা বেআইনি কাজ করতে উৎসাহিত হচ্ছে। এরা ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেয়া দূরে থাকুক বরং ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে জনগণের ওপর রক্তাক্ত আগ্রাসনের পুনরাবৃত্তি ঘটাচ্ছে।

অপর এক বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ফেনীর মহিপালে খালেদা জিয়ার গাড়িবহরে ‘আওয়ামী সন্ত্রাসীদের হামলার ঘটনাকে সরকারের সুদুরপ্রসারী পরিকল্পনার পরিণতি’ বলে উল্লেখ করেন।

এছাড়া গাড়িবহরে হামলার প্রতিবাদ মিছিল থেকে শ্রমিক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুল করিম মজুমদার, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা ফরহাদ, শেরেবাংলা নগর থানা ছাত্রদল নেতা অয়ন, ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদল নেতা মিজান, মতিঝিল শ্রমিক দল নেতা দেলোয়ার হোসেন, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা তাহমিদ, হুমায়ুন কবির, ইশতেহার, আবদুল আল নুর ও আজাদসহ ১৪ নেতাকর্মীকে গ্রেফতারের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান ফখরুল। অবিলম্বে তাদের নিঃশর্ত মুক্তি দাবি করেছেন তিনি।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট