বিলুপ্তির পথে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী অ্যাশ গাছ

বিলুপ্তির পথে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী অ্যাশ গাছ

“ওক বিফোর অ্যাশ, উই আর ইন আ স্প্ল্যাশ/ অ্যাশ বিফোর ওক, উই আর ইন ফর আ সোক” ইংল্যান্ডে জনপ্রিয় এই ছড়াটির অস্তিত্বই এবার লোপ পেতে চলেছে। যদি অ্যাশ গাছই না থাকে, তাহলে এই ছড়াটিই বা থাকবে কীভাবে। ছত্রাকের আক্রমণে ইংল্যান্ডের মাটি থেকে ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে সে দেশের ঐতিহ্য হিসেবে পরিচিত একের পর এক অ্যাশ গাছ।

প্রাচীন কাল থেকেই ওক এবং অ্যাশ গাছের ফুল দেখে আবহাওয়ার পূর্বাভাস পেতেন সে দেশের বাসিন্দারা। গাছগুলি তাঁদের কাছে সৌভাগ্যের প্রতীক। এখনও তাঁরা বিশ্বাস করেন, ওক গাছে আগে ফুল ধরলে হাল্কা বৃষ্টিপাত হবে, আর যদি অ্যাশ গাছে আগে ফুল ফোটে, তাহলে মুষলধারে বৃষ্টির সম্ভাবনা। কিন্তু, বর্তমানে যেভাবে এই অ্যাশ গাছ বিলুপ্তির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে পরিবেশবিদ থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের।

ছত্রাকের আক্রমণে পাতা ঝরে যাচ্ছে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এই গাছগুলির, দুর্বল হয়ে পড়ছে কাণ্ড। গাছগুলির এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাতে বাসা বাঁধছে বোরার অ্যাশ বিটল। এই পোকাগুলি সাধারণত অ্যাশ গাছের নির্যাস থেকেই বেঁচে থাকার রসদ জোগাড় করে, যা ক্রমশ মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয় এই গাছগুলিকে। ইংল্যান্ডের পরিবেশবিদদের দাবি, বিজ্ঞানীরা তড়িঘড়ি এর সমাধান খুঁজে বের না করলে আগামী ২০ বছরের মধ্যে ৯০ শতাংশ গাছই ইংল্যান্ডের মাটি থেকে বিলুপ্ত হয়ে যাবে, ঠিক যেভাবে ডাচ এল্ম রোগে আক্রান্ত হয়ে বিলুপ্তির পথে এগোচ্ছে আর এক ঐতিহ্যবাহী গাছ এল্ম।

ছত্রাক ঘটিত এই রোগ ছড়ায় এল্ম বার্ক পোকার মাধ্যমে। এ প্রসঙ্গে বিখ্যাত ব্রিটিশ লেখক স্টিফেন মস বলেছেন, ‘ছেলেবেলায় আমার বাড়ির সামনে এল্ম গাছগুলি দেখে খুশি হতাম। কিন্তু, সংক্রমণ আটকাতে গাছগুলি কেটে ফেলায় এখন মনে হয়, কোন মানুষের মুখ থেকে সব দাঁত পড়ে গিয়েছে।’ তাই এবার অ্যাশ গাছগুলিকে বাঁচাতে আপাতত বিজ্ঞানীদের ভরসায় রয়েছেন ইংল্যান্ডের বাসিন্দারা।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট