রংপুরকে হারিয়ে শীর্ষে ‍খুলনা টাইটানস

রংপুরকে হারিয়ে শীর্ষে ‍খুলনা টাইটানস

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে (বিপিএল) শুক্রবার দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে নয় রানের জয় পেয়েছে খুলনা টাইটান্স। এই জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলে শীর্ষে উঠে গেল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল। আট ম্যাচ খেলে খুলনার পয়েন্ট ১১। অন্যদিকে, সাত ম্যাচ খেলে ছয় পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে রংপুর রাইডার্স।

১৫৯ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে টানা তিন বলে দুটি চার এবং একটি ছক্কা মেরে খুলনা টাইটানসকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন ক্রিস গেইল। তবে তৃতীয় ওভারে প্রতিশোধ নিতে দেরি করেননি আবু জায়েদ রাহী। এই তরুণ পেসারের অফস্টাম্পের বাইরের বল মারতে গিয়ে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দি হওয়ার আগে ১৬ রান করেন গেইল। তার আগের ওভারে আফিফ হোসেনের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে লং-অনে ধরা পড়েন আরেক আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান ব্রেন্ডন ম্যাককালাম (২)।

পঞ্চম ওভারে আবার খুলনা টাইটানসের সাফল্য। ব্র্যাথওয়েটের সরাসরি থ্রোতে রান আউট হয়ে গেছেন মোহাম্মদ মিঠুন (৩)। বিপিএলে চট্টগ্রাম পর্বের প্রথম ম্যাচে ১৫৯ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৫ ওভারে  ৩০ রান করতেই ৩ উইকেট হারায় রংপুর। এরপর আবারও আফিফ হোসেনের বলে বোল্ড হন ফজলে মাহমুদ। ৪ উইকেট হারিয়ে বিপর্যয়ে পড়ে যাওয়া রংপুরকে এরপরেই জয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দিতে চেষ্টা করেছিলেন রবি বোপারা ও নাহিদুল ইসলাম। দুজনেই হাঁকান হাফসেঞ্চুরি। তাদের ব্যাটে ভর করেই এক পর্যায়ে শেষ ওভারে ১৪৫ পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছিল রংপুর। কিন্তু খুলনার বোলিং আক্রমণে পাল্টা থাবা আর দেওয়ার শক্তি পায়নি তারা। এই ওভারেই ফেরেন নাহিদুল (৫৮) ও রবি বোপারা  (৫৯)। নাহিদুল রান আউট হলে রবি বোপারাকে আফিফের ক্যাচ বানান জুনায়েদ। বোপারার ৪৪ বলের ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও একটি ছয়। আবার নাহিদুলের ৪৩ বলের ইনিংসে ছিল ৭টি চার।  শেষ পর্যন্ত ৬ উইকেটে ১৪৯ রান তুলতে পারে রংপুর রাইডার্স।

খুলনার পক্ষে ২ ওভারে ৪ রান দিয়ে একাই দুই উইকেট নেন আফিফ। একটি করে নেন জুনায়েদ ও আবু জায়েদ। ম্যাচ সেরা হন খুলনা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।

এর আগে রংপুর রাইডার্সের বোলারদের ওপর রীতিমত তাণ্ডব চালিয়েছেন মাহমুদউল্লাহ। খুলনা টাইটানস ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার দিনে একা লড়ে গেছেন তিনি। সত্যিকার অধিনায়কের মতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে ৩৬ বলে খেলেছেন ৫৯ রানের অসাধারণ ইনিংস। তার এই ইনিংসের ওপরে ভর করে খুলনা নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়েছে করেছে ১৫৮ রান।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামা খুলনার শুরুটা ভালো ছিল না। আক্রমণাত্মক মেজাজে শুরু করা রাইলি রোসো চার-ছক্কায় চট্টগ্রামের দর্শকদের মাতালেও টিকতে পারেননি বেশিক্ষণ। সোহাগ গাজীর বলে বোল্ড হওয়ার আগে ৪ বলে করেন ১১ রান। খানিকপর ৯ রান করা আফিফকে বোল্ড করেন রুবেল। নাজমুল হোসেন শান্তও টিকতে পারেননি। ভালো ইনিংসের ইঙ্গিত দিলেও এই ব্যাটসম্যান ফেরেন ২০ বলে ২০ রান করে।

এরপর নিকোলাস পুরানকে সঙ্গী করে খুলনাকে চাপ থেকে টেনে তোলেন মাহমুদউল্লাহ। পুরান ২০ বলে ১৬ রান করে আউট হলেও মাহমুদউল্লাহ এগিয়ে নেন দলকে।

ম্যাককালামের চতুরতায় থেমেছে মাহমুদউল্লাহর ইনিংস। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে খুলনা টাইটাইনসকে পথে ফেরানো এই ব্যাটসম্যান ডিপ মিডউইকেটে নাহিদুল ইসলামের হাতে ধরা পড়লেও পুরো কৃতিত্বটা ম্যাককালামের। কিউই তারকা বল তালুবন্দি করে সীমানা পেরিয়ে যাচ্ছিলেন দেখে বলটা শূন্যে ছুড়ে মারেন, সামনেই থাকা নাহিদুলের ক্যাচটা লুফে নিতে কোনও অসুবিধাই হয়নি।

অসাধারণ এই ক্যাচের আগে মাহমুদউল্লাহ ব্যাটে চালিয়েছেন তাণ্ডব। হাফসেঞ্চুরি পূরণ করে ৩৬ বলে খেলেছেন ৫৯ রানের ইনিংস। যাতে ছিল ৬টি চার ও দুটি ছক্কার মার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

ফল: ৯ রানে জয়ী খুলনা টাইটান্স।

খুলনা টাইটান্স ইনিংস: ১৫৮/৮ (২০ ওভার)

(নাজমুল হোসেন শান্ত ২০, রিলি রুশো ১১, আফিফ হোসেন ৯, মাহমদুউল্লাহ রিয়াদ ৫৯, নিকোলাস পুরান ১৬, আরিফুল হক ১৬, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ১১, জফরা আর্চার ১০*, জুনায়েদ খান ১, তানভীর ইসলাম ০*; মাশরাফি বিন মুর্তজা ১/৩২, সোহাগ গাজী ১/৩০, রুবেল হোসেন ৩/৩৫, লাসিথ মালিঙ্গা ২/২৭, থিসারা পেরেরা ১/৩০)।

রংপুর রাইডার্স ইনিংস: ১৪৯/৬ (২০ ওভার)

(ক্রিস গেইল ১৬, ব্রেন্ডন ম্যাককলাম ২, মোহাম্মদ মিথুন ৩, রবি বোপারা ৫৯, ফজলে মাহমুদ ৬, নাহিদুল ইসলাম ৫৮, থিসারা পেরেরা ১*; আবু জায়েদ রাহি ১/৪৮, আফিফ হোসেন ২/৪, জুনায়েদ খান ১/২০, জফরা আর্চার ০/৩৩, কার্লোস ব্র্যাথওয়েট ০/৩৩, তানভীর ইসলাম ০/৯)।

প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ: মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (খুলনা টাইটান্স)।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট