ছোট থেকেই আপনার শিশুকে একটু একটু করেই টাকা জমাতে শেখান

ছোট থেকেই আপনার শিশুকে একটু একটু করেই টাকা জমাতে শেখান

আমার সন্তান যেন থাকে দুধেভাতে। এমনটা প্রত্যেক বাবা-মা চান। সন্তানের কোনও রকম অসুবিধা যাতে না হয়, তাই তাদের চাহিদা মেটাতে কোনও কমতি রাখেন না তাঁরা। আকাশের চাঁদটা নিয়ে আসতে শুধু বাকি।

অনেক সময় প্রয়োজনে বাচ্চার হাতে তুলে দেন গোছা গোছা টাকা। তবে সাবধান! বাচ্চার হাতে টাকা দেওয়ার আগে তার সঠিক শিক্ষা প্রয়োজন। জীবনে টাকার মূল্য কী, তা ওদের বোঝাতে হবে। চিরকাল তো আর আপনি আপনার সন্তানের সঙ্গে থাকবেন না। জীবনে ভালোমন্দ তখন একাই সামলে উঠতে হবে।

বলা যায় না ভবিষ্যতে কোনও বড়সড় সংকটের মুখে পড়ে গেল! তাই টাকার মূল্য কী, তার প্রয়োজনটাই বা কোথায়, আর কীভাবে সঞ্চয় করতে হবে এসব বিষয়ে আপনার সন্তানকে সচেতন করে তুলুন। কীভাবে বাচ্চাকে টাকা জমাতে শেখাতে পারবেন তার জন্য রইল কিছু টিপস্-

১. ছোটোবেলায় খেলার ছলে বাচ্চাদের অনেক কিছু শেখানো যায়। বাড়িতে টাকা জমানোর জন্য বাচ্চার কাছে রেখে দিন একটি জার। একটু একটু করে তাতে টাকা জমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন। তবে সবটাই করতে হবে খেলার ছলে।

২. এমন একটা চার্ট বানাতে পারেন, যেখানে বাচ্চাদের বলা থাকবে এতদিনের মধ্যে টাকা জমাতে হবে। তবে অবশ্য এতে কোনও টার্গেট থাকবে না। সবটাই হবে হাসি-মজার মধ্যে দিয়ে।

৩. টাকা জমানোর বিনিময়ে বাচ্চাদের কোনও উপহার দিলে ওরা বেশ খুশি হবে। সেইসঙ্গে টাকা জমানো ব্যাপারটি ভালোও লাগবে এবং আগ্রহ বাড়বে। তাই পছন্দের খেলনা, নতুন জামা দিয়ে বাচ্চাদের মন খুশি করে দিন। তাতে আপনার আসল উদ্দেশ্য বজায় থাকবে, কোনও রকম জোরজুলুম ছাড়াই।

৪. ছোটোবেলায় বাচ্চারা বাড়ির লোকজনদের যা করতে দেখে তাই শেখে। আপনিও যদি টাকা জমান, আপনার সেই অভ্যাস সহজেই আপনার সন্তানের অভ্যাসে পরিণত হবে।

৫. জমানো টাকা দিয়ে বাচ্চার পছন্দমতো কিছু করার চেষ্টা করুন। বাচ্চার উইশলিস্টও বানাতে পারেন। তাতে নিজের ইচ্ছেপূরণ করতে আপনার সন্তান উঠে পড়ে লেগে যাবে। আপনার কোনও খাটনিই হবে না।

৬. বাচ্চা একটু বড় হলে, যখন টাকাপয়সার ব্যাপার বুঝতে শিখবে, তখন তাদের জন্য সেভিং অ্যাকাউন্ট খুলে দিতে পারেন। তাতে সে নিজের ভালো নিজেই বুঝতে পারবে। একটু একটু করে টাকাও জমাবে।

৭. বাচ্চা মানেই যে তাকে সব ব্যাপারে পারফেট হতে শিখতে হবে, এমনটা কিন্তু নয়। তাই ভুল করলে ওদের বকাবকি না করে ভুলটা বুঝিয়ে দিন। ভুল করেই ঠিকটা শিখতে পারবে।

৮. জীবনে টাকার মূল্য কী, বাচ্চাদের তা ছোটোবেলাতেই বোঝাতে হবে। যখন একটু বুঝতে শিখবে, তখন তাদের এই শিক্ষা কাজে আসবে।

৯. প্রয়োজন ও অপ্রয়োজনের জ্ঞান থাকা দরকার বাচ্চাদের। তাই আগে থেকেই আপনাকে শেখাতে হবে জীবনে কোন জিনিসটার প্রয়োজনীয়তা বেশি, কোনটার নয়।

১০. জমানো টাকা দিয়ে বাচ্চাকে তার পছন্দের জিনিস কিনে দিন। যে জিনিসটার আবদার সে আগে থেকেই করেছিল আপনার কাছে, তা কিনে দিন ওই টাকা থেকে। সেইসঙ্গে টাকা জমানোর ব্যাপারটা তাদের কাছে মজার বিষয় হয়ে উঠবে।

সম্পর্কিত সংবাদ
ডেস্ক রিপোর্ট